বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার : আইনমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮৩ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস ও দেশটির গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, গত সরকারের আমলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতা দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক বন্ধ এবং সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহিত করতেই এই ভূমিকা রাখা হচ্ছে। সাংবিধানিক শাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

মার্কিন ও বাংলাদেশের সংবিধানের মিল তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের সংবিধান কয়েকটি মৌলিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু বিষয় মার্কিন সংবিধান থেকে নেয়া হয়েছে। ১৮০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রতিষ্ঠা করে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও একইভাবে প্রযোজ্য হয়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি ও তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব পর্যালোচনা করা হয়েছিল।

সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আইন বিশেষজ্ঞরা নন, দেশের চায়ের দোকানেও মানুষ সংবিধান, এর সংশোধনী ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের অধিকার ও নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মার্কিন সরকার যেকোনো দল থেকেই আসুক না কেন, তাদের কিছু মৌলিক নীতি থাকে। বাংলাদেশে মানুষ যখন কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করাই মূল উদ্দেশ্য।

বিচার প্রক্রিয়ার তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো বিচারালয় এই অপরাধগুলো সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে একমত হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।

সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার : আইনমন্ত্রী

বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার : আইনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস ও দেশটির গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, গত সরকারের আমলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতা দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক বন্ধ এবং সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহিত করতেই এই ভূমিকা রাখা হচ্ছে। সাংবিধানিক শাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

মার্কিন ও বাংলাদেশের সংবিধানের মিল তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের সংবিধান কয়েকটি মৌলিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু বিষয় মার্কিন সংবিধান থেকে নেয়া হয়েছে। ১৮০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রতিষ্ঠা করে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও একইভাবে প্রযোজ্য হয়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি ও তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব পর্যালোচনা করা হয়েছিল।

সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আইন বিশেষজ্ঞরা নন, দেশের চায়ের দোকানেও মানুষ সংবিধান, এর সংশোধনী ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের অধিকার ও নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মার্কিন সরকার যেকোনো দল থেকেই আসুক না কেন, তাদের কিছু মৌলিক নীতি থাকে। বাংলাদেশে মানুষ যখন কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করাই মূল উদ্দেশ্য।

বিচার প্রক্রিয়ার তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো বিচারালয় এই অপরাধগুলো সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে একমত হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।

সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে।