নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন, সেই প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নির্যাতনের আট দিন পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া মামলায় বর্তমানে হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁচগ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে নড়াইলে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ারকে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মারপিট করেন স্থানীয়রা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো.নবীর হোসেন। পরবর্তীতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালো বাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন তিনি।

এজাহার অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক এএসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মৃতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, আমার ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ-এর মা জানান, ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন লোকটি। ছেলেটি চোর বলে ডাক দিলে স্থানীয় অনেক লোক ছুটে আসেন। কে বা কারা মেরেছে সেটি জানি না। সেখানে অনেক লোক ছিল। পরে আমার ছেলে প্রসেনজিৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পূর্বেই একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যার ধারায় যুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জনবান্ধব বাজেট হয়েছে, জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে : চিফ হুইপ

নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন, সেই প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০১:৫১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নির্যাতনের আট দিন পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া মামলায় বর্তমানে হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁচগ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে নড়াইলে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ারকে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মারপিট করেন স্থানীয়রা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো.নবীর হোসেন। পরবর্তীতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালো বাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন তিনি।

এজাহার অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক এএসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মৃতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, আমার ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ-এর মা জানান, ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন লোকটি। ছেলেটি চোর বলে ডাক দিলে স্থানীয় অনেক লোক ছুটে আসেন। কে বা কারা মেরেছে সেটি জানি না। সেখানে অনেক লোক ছিল। পরে আমার ছেলে প্রসেনজিৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পূর্বেই একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যার ধারায় যুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।