Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রাই সরকারের লক্ষ্য : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান বলেন, ঘরমুখো মানুষদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা এবং নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফেরানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটের পন্টুন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের জায়গায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তাকেই নিতে হবে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। অনেক সময় নিম্নপদস্থ কর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ঈদযাত্রা সামনে রেখে আগামী রোববার থেকে যাত্রীচাপ শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. রাজিব আহসান বলেন, নৌ সেক্টরে এখন থেকে আর কারও দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। যেখানে যে কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন, সেখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায় এড়িয়ে নিচের স্তরের কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সুযোগ থাকবে না। কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীরা যেন স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো ওয়ার্কিং স্টেশনে অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে পোর্ট অফিসার, বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আছেন। যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা হলাম মানুষের সেবক এবং যারা অফিসার তারাও রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনগণের সেবক। আমরা জনগণকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করতে পারি। কিন্তু এখানে তো চাপ দেওয়ার কিছু নেই। যদি তারা (ঈদে ঘরমুখো মানুষ) সচেতন হয়, তাহলেই এ সফলভাবে ঈদযাত্রা শেষ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি, ভালোভাবে সাধারণ মানুষকে ঘরে পৌঁছে দিতে পারব। ঘরমুখো সাধারণ মানুষদের অনুরোধ করব, আপনারা সরকার যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে, সেগুলো মেনে চলুন। নিরাপদ যাত্রার জন্য কিন্তু এসব নির্দেশনা দেওয়া। আপনারা সরকারের দেওয়া নির্দেশনাগুলো মানবেন এবং ঈদযাত্রাটাকে ঝুঁকিমুক্ত করবেন।

রাজিব আহসান বলেছেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু আমরা উজার করে দিয়ে চেষ্টা করব ঘরমুখী মানুষগুলোকে নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং কর্মস্থলে ফেরত নিয়ে আসতে।

তিনি আরও বলেন, স্পিডবোট চলাচলকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঈদযাত্রায় গার্মেন্টস ছুটির সময় যাত্রীচাপ বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঘাট ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ ও যানবাহন পারাপারের জন্য বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম, বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

 

আবহাওয়া

বিএনপি শুধু ধনী মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, গ্রামীণ মানুষের জন্যও করে : ড. মঈন খান

ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রাই সরকারের লক্ষ্য : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান বলেন, ঘরমুখো মানুষদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা এবং নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফেরানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটের পন্টুন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের জায়গায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তাকেই নিতে হবে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। অনেক সময় নিম্নপদস্থ কর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ঈদযাত্রা সামনে রেখে আগামী রোববার থেকে যাত্রীচাপ শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. রাজিব আহসান বলেন, নৌ সেক্টরে এখন থেকে আর কারও দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। যেখানে যে কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন, সেখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায় এড়িয়ে নিচের স্তরের কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সুযোগ থাকবে না। কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীরা যেন স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো ওয়ার্কিং স্টেশনে অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে পোর্ট অফিসার, বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আছেন। যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা হলাম মানুষের সেবক এবং যারা অফিসার তারাও রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনগণের সেবক। আমরা জনগণকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করতে পারি। কিন্তু এখানে তো চাপ দেওয়ার কিছু নেই। যদি তারা (ঈদে ঘরমুখো মানুষ) সচেতন হয়, তাহলেই এ সফলভাবে ঈদযাত্রা শেষ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি, ভালোভাবে সাধারণ মানুষকে ঘরে পৌঁছে দিতে পারব। ঘরমুখো সাধারণ মানুষদের অনুরোধ করব, আপনারা সরকার যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে, সেগুলো মেনে চলুন। নিরাপদ যাত্রার জন্য কিন্তু এসব নির্দেশনা দেওয়া। আপনারা সরকারের দেওয়া নির্দেশনাগুলো মানবেন এবং ঈদযাত্রাটাকে ঝুঁকিমুক্ত করবেন।

রাজিব আহসান বলেছেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু আমরা উজার করে দিয়ে চেষ্টা করব ঘরমুখী মানুষগুলোকে নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং কর্মস্থলে ফেরত নিয়ে আসতে।

তিনি আরও বলেন, স্পিডবোট চলাচলকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঈদযাত্রায় গার্মেন্টস ছুটির সময় যাত্রীচাপ বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঘাট ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ ও যানবাহন পারাপারের জন্য বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম, বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।