Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে সমুদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে নৌবাহিনী ও কোষ্টগাড : নৌপ্রধান

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি : 

সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে সমুদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে নৌবাহিনী ও কোষ্টগাড বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সোয়া দশটায় বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এম নাজমুল হাসান বলেন, ব্লুইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় এক লক্ষ ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আমাদের আজ বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, নবায়ন যোগ্য জ্বালানীর উৎস্য এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্য পথের ব্যবহার, যা দেশের জিডিবি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের রুপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট থেকে টানা দুই বছর ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফল ভূমিকা রাখায় নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রশংসার দাবিদার।

নৌপ্রধান বলেন, সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষন এবং সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংজোযন করা হয়েছে। একই সাথে বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিনত হয়েছে। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাটি, যুদ্ধ জাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সবসময় চলমান রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থেকে যে কোন প্রকার ত্যাগ শিকার করার জন্য নৌবাহিনীর প্রতিটা সদস্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের অংশ হিসেবে ডাটা সেন্টার স্থাপন, নৌবাহিনীর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা উন্নয়ন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা সংযোজনের কার্যক্রম চলছে।

এম নাজমুল হাসান বলেন, নবীন নাবিকদের এ অর্জন নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তারা দেশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ,কলাপাড়া,পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌ-প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করেন। পরে নৌপ্রধান পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে শাহরিয়ারর টুটুলকে ‘নৌপ্রধান পদক’, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় সামিউল ইসলাম শাকিলকে ‘কমখুল পদক’, তৃতীয় স্থান অধিকার করায় কাদের মিয়াকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ ও সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মারিয়া আক্তারকে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ প্রদান’ এবং তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

আবহাওয়া

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে সমুদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে নৌবাহিনী ও কোষ্টগাড : নৌপ্রধান

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি : 

সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে সমুদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে নৌবাহিনী ও কোষ্টগাড বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সোয়া দশটায় বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এম নাজমুল হাসান বলেন, ব্লুইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় এক লক্ষ ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আমাদের আজ বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, নবায়ন যোগ্য জ্বালানীর উৎস্য এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্য পথের ব্যবহার, যা দেশের জিডিবি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের রুপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট থেকে টানা দুই বছর ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফল ভূমিকা রাখায় নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রশংসার দাবিদার।

নৌপ্রধান বলেন, সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষন এবং সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংজোযন করা হয়েছে। একই সাথে বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিনত হয়েছে। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাটি, যুদ্ধ জাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সবসময় চলমান রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থেকে যে কোন প্রকার ত্যাগ শিকার করার জন্য নৌবাহিনীর প্রতিটা সদস্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের অংশ হিসেবে ডাটা সেন্টার স্থাপন, নৌবাহিনীর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা উন্নয়ন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা সংযোজনের কার্যক্রম চলছে।

এম নাজমুল হাসান বলেন, নবীন নাবিকদের এ অর্জন নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তারা দেশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ,কলাপাড়া,পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌ-প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করেন। পরে নৌপ্রধান পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে শাহরিয়ারর টুটুলকে ‘নৌপ্রধান পদক’, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় সামিউল ইসলাম শাকিলকে ‘কমখুল পদক’, তৃতীয় স্থান অধিকার করায় কাদের মিয়াকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ ও সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মারিয়া আক্তারকে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ প্রদান’ এবং তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।