আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না : হাসান মাসুদ

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯০ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক :

একসময় টেলিভিশন নাটকের পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে না তাকে। সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে চর্চায় রয়েছেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, আপাতত অভিনয় করছেন না। হজ করে এসে এখন ধর্মকর্মেই মনোযোগী।

এ বক্তব্যের সূত্র ধরে সমালোচনার শিকারও হচ্ছিলেন অভিনেতা। আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি আর অভিনয় করবেন না। একেবারেই সরে গেছেন।

তবে বিষয়টি তেমন নয় বলে জানালেন হাসান মাসুদ। এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ওই কথাটা বলা আমার ভুল হয়েছে। আমি বলেছিলাম, দুই বছর ধরে অভিনয় করছি না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। এই মুহূর্তে ভালো কনটেন্টও তেমন নেই। কিন্তু আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না।

হাসান মাসুদ বলেন, গত দুই বছর ধরে ভালো মানের কাজের সুযোগ না পাওয়ায় নিয়মিত অভিনয় করা হয়নি। তিনি শুধু জানিয়েছিলেন, এই সময়ে অভিনয় করছেন না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ভালো কনটেন্টের অভাবের কথাও বলেছিলেন। কিন্তু কখনোই অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা বলেননি। তিনি জানান, টেলিভিশনে কথাটি বলার সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ এখনও রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো স্ক্রিপ্ট ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে অবশ্যই অভিনয়ে ফিরবেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে অভিনয়ের মাধ্যমেই চেনেন, তাই সুযোগ পেলে কাজ করতে তার আপত্তি নেই।

ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগ বাড়ায় অভিনয় থেকে দূরে থাকছেন এমন ধারণাও নাকচ করেছেন হাসান মাসুদ। তিনি জানান, ধর্ম পালন ও শুটিং একইসঙ্গে করা সম্ভব। ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়েন তিনি। শুটিংয়ের সময়ও সহকর্মী ও নির্মাতারা তার নামাজের বিষয়টি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। হাসান মাসুদ জানান, শুটিংয়ের সময় নামাজের জন্য তাকে বিরতি দেয়া হতো। অনেক পরিচালক নিজেরাই নামাজের সময় মনে করিয়ে দিতেন।

হজ থেকে দেশে ফেরার পর ইতোমধ্যে দুটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে চুল কাটা বা শেভ করার প্রয়োজন হলে সেটিও করতে প্রস্তুত।

হাসান মাসুদ এ-ও নিশ্চিত করলেন, ভালো গল্প পেলে এখনো তিনি অভিনয় করতে চান। আর অভিনয়ের সঙ্গে ধর্মচর্চার বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন না তিনি। তার ভাষ্য, আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন, আবার শুটিং সেটেও নামাজ পড়তে পারেন। গত চার-পাঁচ বছরে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা সবাই জানেন যে আমি ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়ি। শুটিংয়ের সময় সবাই আমাকে নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দিতেন। আমি চেষ্টা করতাম ওই সময়ে যেন আমার কোনো দৃশ্যের শুটিং না থাকে। পরবর্তী সময়ে পরিচালকরাই বলতেন, ‘বিরতির সময় হয়েছে হাসান ভাই। যান, নামাজ পড়ে আসেন।’ এভাবেই চলত।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন হাসান মাসুদ। পরে অবসর নিয়ে আসেন সাংবাদিকতায়। ২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ দিয়ে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। এরপর নাটকেও নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার অভিনীত জনপ্রিয় কিছু নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হাউসফুল’, ‘এফডিসি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’, ‘খুনসুটি’ ইত্যাদি। গানও করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে তার গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছিল।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না : হাসান মাসুদ

প্রকাশের সময় : ০১:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক :

একসময় টেলিভিশন নাটকের পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে না তাকে। সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে চর্চায় রয়েছেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, আপাতত অভিনয় করছেন না। হজ করে এসে এখন ধর্মকর্মেই মনোযোগী।

এ বক্তব্যের সূত্র ধরে সমালোচনার শিকারও হচ্ছিলেন অভিনেতা। আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি আর অভিনয় করবেন না। একেবারেই সরে গেছেন।

তবে বিষয়টি তেমন নয় বলে জানালেন হাসান মাসুদ। এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ওই কথাটা বলা আমার ভুল হয়েছে। আমি বলেছিলাম, দুই বছর ধরে অভিনয় করছি না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। এই মুহূর্তে ভালো কনটেন্টও তেমন নেই। কিন্তু আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না।

হাসান মাসুদ বলেন, গত দুই বছর ধরে ভালো মানের কাজের সুযোগ না পাওয়ায় নিয়মিত অভিনয় করা হয়নি। তিনি শুধু জানিয়েছিলেন, এই সময়ে অভিনয় করছেন না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ভালো কনটেন্টের অভাবের কথাও বলেছিলেন। কিন্তু কখনোই অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা বলেননি। তিনি জানান, টেলিভিশনে কথাটি বলার সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ এখনও রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো স্ক্রিপ্ট ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে অবশ্যই অভিনয়ে ফিরবেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে অভিনয়ের মাধ্যমেই চেনেন, তাই সুযোগ পেলে কাজ করতে তার আপত্তি নেই।

ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগ বাড়ায় অভিনয় থেকে দূরে থাকছেন এমন ধারণাও নাকচ করেছেন হাসান মাসুদ। তিনি জানান, ধর্ম পালন ও শুটিং একইসঙ্গে করা সম্ভব। ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়েন তিনি। শুটিংয়ের সময়ও সহকর্মী ও নির্মাতারা তার নামাজের বিষয়টি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। হাসান মাসুদ জানান, শুটিংয়ের সময় নামাজের জন্য তাকে বিরতি দেয়া হতো। অনেক পরিচালক নিজেরাই নামাজের সময় মনে করিয়ে দিতেন।

হজ থেকে দেশে ফেরার পর ইতোমধ্যে দুটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে চুল কাটা বা শেভ করার প্রয়োজন হলে সেটিও করতে প্রস্তুত।

হাসান মাসুদ এ-ও নিশ্চিত করলেন, ভালো গল্প পেলে এখনো তিনি অভিনয় করতে চান। আর অভিনয়ের সঙ্গে ধর্মচর্চার বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন না তিনি। তার ভাষ্য, আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন, আবার শুটিং সেটেও নামাজ পড়তে পারেন। গত চার-পাঁচ বছরে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা সবাই জানেন যে আমি ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়ি। শুটিংয়ের সময় সবাই আমাকে নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দিতেন। আমি চেষ্টা করতাম ওই সময়ে যেন আমার কোনো দৃশ্যের শুটিং না থাকে। পরবর্তী সময়ে পরিচালকরাই বলতেন, ‘বিরতির সময় হয়েছে হাসান ভাই। যান, নামাজ পড়ে আসেন।’ এভাবেই চলত।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন হাসান মাসুদ। পরে অবসর নিয়ে আসেন সাংবাদিকতায়। ২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ দিয়ে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। এরপর নাটকেও নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার অভিনীত জনপ্রিয় কিছু নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হাউসফুল’, ‘এফডিসি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’, ‘খুনসুটি’ ইত্যাদি। গানও করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে তার গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছিল।