Dhaka মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আঞ্চলিক শান্তি বর্তমান সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বর্তমান সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয় আঞ্চলিক শান্তি। গত দেড় দশকে দেশে শান্তি ও স্থিতাবস্থা থাকায় উন্নয়ন হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, একই কারণে প্রতিবেশিদেরও উন্নয়ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য (২০১৯-২০২৩)’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নানা অর্জনের জন্য সরকারের অন্যান্য বিভাগেরও অবদান রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি দুর্বল। নানা খাতের মানুষের পরামর্শ পেলে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গাজায় শিশু গণহত্যা চলছে। গণহত্যা বন্ধ করে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। অর্থনীতির আকার ও সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব গার্মেন্টস শিল্প রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের মুনাফা) বেশি। প্রায় প্রতিটি আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে।

ড. মোমেন বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিটি মিশনে বঙ্গবন্ধুকর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের মিডিয়া, থিংক ট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আমাদের অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের অধিকাংশ সময় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন।

স্বাগত বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তির উন্নতি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর বহির্বিশ্বের আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডি-৮ এর সদস্যভুক্ত দেশের কূটনীতিকদের এখানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অসামান্য কূটনৈতিক সাফল্যের নজির রেখেছে।

সবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকার ব্যবস্থা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ ছিল বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিকে উপজীব্য করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, জাতিসংঘের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান এবং গবেষক ও কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২ পরিবারে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা সহায়তা বিআরটিএ’র

আঞ্চলিক শান্তি বর্তমান সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বর্তমান সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয় আঞ্চলিক শান্তি। গত দেড় দশকে দেশে শান্তি ও স্থিতাবস্থা থাকায় উন্নয়ন হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, একই কারণে প্রতিবেশিদেরও উন্নয়ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য (২০১৯-২০২৩)’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নানা অর্জনের জন্য সরকারের অন্যান্য বিভাগেরও অবদান রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি দুর্বল। নানা খাতের মানুষের পরামর্শ পেলে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গাজায় শিশু গণহত্যা চলছে। গণহত্যা বন্ধ করে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। অর্থনীতির আকার ও সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব গার্মেন্টস শিল্প রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের মুনাফা) বেশি। প্রায় প্রতিটি আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে।

ড. মোমেন বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিটি মিশনে বঙ্গবন্ধুকর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের মিডিয়া, থিংক ট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আমাদের অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের অধিকাংশ সময় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন।

স্বাগত বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তির উন্নতি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর বহির্বিশ্বের আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডি-৮ এর সদস্যভুক্ত দেশের কূটনীতিকদের এখানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অসামান্য কূটনৈতিক সাফল্যের নজির রেখেছে।

সবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকার ব্যবস্থা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ ছিল বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিকে উপজীব্য করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, জাতিসংঘের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান এবং গবেষক ও কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায়।