নিজস্ব প্রতিবেদক :
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ২ হাজার ৩১১ জনের তালিকা তৈরি করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানীর এক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন এ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান সার ডিলারের মধ্যে বিসিআইসির নিয়োগকৃত ৫ হাজার ৬৬৯ জন ও বিএডিসির ৫ হাজার ৩৩৬ জন।
জামায়াতে ইসলামীর সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকদের মধ্যে সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখতে দেশে ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর (গাজীপুর-৪) সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইটভাটার ব্যবহারের জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে ১৫ হাজার ৪৫০ একর জমি আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডাটা-নির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষকের পণ্য ‘ডোর টু ডোর’ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ফলে উৎপাদক থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।
তিনি বলেন, গত পহেলা বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রি-পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের সুযোগ, বাজার সংযোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা সেবা।
রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে চুক্তিভিত্তিক কৃষি (কন্ট্রাক্ট ফার্মিং) উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি উপকরণ সরবরাহ, পরামর্শ সেবা, সংগ্রহ কেন্দ্র (কালেকশন পয়েন্ট), ক্রয়-বিক্রয় সুবিধা এবং ওয়াশিং সুবিধাসহ আধুনিক ‘ওয়ান স্টপ হাব’ নির্মাণ করা হবে, যা কৃষি বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ডিজিটাল সংযোগ জোরদারে ‘স্মার্ট কৃষি মার্কেট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এটির মাধ্যমে কৃষক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ফসলভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষিখাত আরও আধুনিক, লাভজনক এবং টেকসই হয়ে উঠবে।
নেত্রকোনা-৫ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মাছুম মোস্তফার উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার কৃষিখাত আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে উন্নত প্রযুক্তি ও বাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে উচ্চমূল্যের ও উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের এসব ফসল দক্ষতার সঙ্গে চাষাবাদের জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকের আয় বাড়াতে সরকার ডাটা-নির্ভর আধুনিক ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালু করেছে। রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে স্মার্ট, দক্ষ ও টেকসই খাতে রূপান্তর করা হবে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, বৈশাখের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ১১টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’-এর প্রাক-পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। কার্ডে অন্তর্ভুক্ত ১০টি সেবার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি করা।
‘পার্টনার প্রজেক্ট’-এর আওতায় কৃষি উপকরণ, পরামর্শ সেবা, সংগ্রহ কেন্দ্র এবং বিপণন সুবিধা প্রদানের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস হাব স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আমিন উর রশিদ আরও জানান, ২৫ সদস্যবিশিষ্ট ‘ফার্মার বিজনেস স্কুল’ গঠন করা হচ্ছে; যেখানে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন।
তিনি বলেন, ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এটি কৃষক, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিএডিসি’র অধীনে চুক্তিভিত্তিক চাষিদের উৎপাদিত বীজের মূল্য স্থানীয় বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















