Dhaka বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরো দেশেই বেসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মানুষের সব সুযোগ-সুবিধা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এজন্য সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী । এই জন্যে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সকল অংশেই এই বেসিক সুবিধাগুলো পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া- এমনটাই জানিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আবুল কালামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের সব সুযোগ-সুবিধা, চাকরি-বাকরি, চিকিৎসা, পড়ালেখাসহ সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এটি একদিন-দুই দিন না, এটি বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা সারাদেশকে ঘিরে সুবিধাগুলো গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবে সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে থাকে। সেটি কর্মসংস্থানের সুবিধার জন্য হোক, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যই হোক, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যই হোক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখাপড়ার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এই সুবিধাগুলো যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি তাহলে মানুষ ঢাকা শহরে আসার জন্য কম উৎসাহিত হবে। ধীরে ধীরে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হবে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপন করা হবে উল্লেখ করে সংসদনেতা বলেন, মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে মিরপুর ১২ থেকে ডিওএইচএস পর্যন্ত এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিচের অংশে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপন করা হবে।

বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের পরিধি বেড়েছে। আপনি যে বাইপাসের কথা বললেন, আমার নিজ জেলায় (বগুড়া) একটি বাইপাস আছে। যেটি শহরকে বাইপাস করে চলে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সে বাইপাসের দুইপাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখন মনে হচ্ছে বাইপাসকে বাইপাস করার জন্য আরেকটি বাইপাস দরকার।

সরকারপ্রধান বলেন, হয়তোবা ময়মনসিংহ রেলস্টেশন শহর থেকে অন্যদিকে নেওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের দেশ আয়তনে ছোট। অনেকগুলো বিষয় চিন্তা করতে হয়। জমি নষ্ট করবেন কি না, অর্থ ব্যয় করবেন কি না, সবকিছু বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সব শহরের জন্যই বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় ‘আবাসন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সারাদেশে ভূমিহীন ও দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ৬৫ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমিহীন, গৃহহীন এবং নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য বর্তমানে ‘গুচ্ছগ্রাম-৩ পর্যায় প্রকল্প’ গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে প্রকল্প গ্রহণ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কোনো আবাসন প্রকল্প না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে মোট ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা ও তদূর্ধ্ব হাসপাতালের কার্যক্রম চালু আছে।

তিনি আরো বলেন, যশোর, পাবনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী ও জামালপুর-এই ৮টি মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মাগুরা, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা ও নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়নের কাজ চলছে এবং চাঁদপুর ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন।

তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ এখন তলিয়ে গেছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছেন, ওনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন তো এটি অনেক বড় একটি জলাবদ্ধতা হয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসনে একটু সময় লাগবে।

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার জলাবদ্ধতা ও সারাদেশে এই সমস্যার বিস্তৃতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের অনেক দিনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে একজন রাজনীতিবিদ বিশেষজ্ঞ ছিলেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে পানির আধার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূর করেছিলেন। আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচিতেই ফিরে যেতে হবে এবং সরকার এরইমধ্যে তা শুরু করেছে।’

জলাবদ্ধতার পেছনে জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ড্রেন ও খালগুলোতে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনসহ নানা বর্জ্য ফেলায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার পরিষ্কার করার কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ময়লা ফেলে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—আসুন আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করি। প্লাস্টিক বা পলিথিন কীভাবে ডিসপোজ করতে হয়, তা জনগণকে শেখাতে হবে। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শহর ও গ্রামাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আবহাওয়া

সার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব : নজরুল ইসলাম খান

পুরো দেশেই বেসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৩:২১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মানুষের সব সুযোগ-সুবিধা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এজন্য সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী । এই জন্যে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সকল অংশেই এই বেসিক সুবিধাগুলো পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া- এমনটাই জানিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আবুল কালামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের সব সুযোগ-সুবিধা, চাকরি-বাকরি, চিকিৎসা, পড়ালেখাসহ সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এটি একদিন-দুই দিন না, এটি বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা সারাদেশকে ঘিরে সুবিধাগুলো গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবে সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে থাকে। সেটি কর্মসংস্থানের সুবিধার জন্য হোক, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যই হোক, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যই হোক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখাপড়ার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এই সুবিধাগুলো যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি তাহলে মানুষ ঢাকা শহরে আসার জন্য কম উৎসাহিত হবে। ধীরে ধীরে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হবে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপন করা হবে উল্লেখ করে সংসদনেতা বলেন, মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে মিরপুর ১২ থেকে ডিওএইচএস পর্যন্ত এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিচের অংশে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপন করা হবে।

বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের পরিধি বেড়েছে। আপনি যে বাইপাসের কথা বললেন, আমার নিজ জেলায় (বগুড়া) একটি বাইপাস আছে। যেটি শহরকে বাইপাস করে চলে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সে বাইপাসের দুইপাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখন মনে হচ্ছে বাইপাসকে বাইপাস করার জন্য আরেকটি বাইপাস দরকার।

সরকারপ্রধান বলেন, হয়তোবা ময়মনসিংহ রেলস্টেশন শহর থেকে অন্যদিকে নেওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের দেশ আয়তনে ছোট। অনেকগুলো বিষয় চিন্তা করতে হয়। জমি নষ্ট করবেন কি না, অর্থ ব্যয় করবেন কি না, সবকিছু বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সব শহরের জন্যই বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় ‘আবাসন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সারাদেশে ভূমিহীন ও দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ৬৫ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমিহীন, গৃহহীন এবং নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য বর্তমানে ‘গুচ্ছগ্রাম-৩ পর্যায় প্রকল্প’ গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে প্রকল্প গ্রহণ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কোনো আবাসন প্রকল্প না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে মোট ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা ও তদূর্ধ্ব হাসপাতালের কার্যক্রম চালু আছে।

তিনি আরো বলেন, যশোর, পাবনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী ও জামালপুর-এই ৮টি মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মাগুরা, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা ও নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়নের কাজ চলছে এবং চাঁদপুর ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন।

তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ এখন তলিয়ে গেছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছেন, ওনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন তো এটি অনেক বড় একটি জলাবদ্ধতা হয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসনে একটু সময় লাগবে।

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার জলাবদ্ধতা ও সারাদেশে এই সমস্যার বিস্তৃতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের অনেক দিনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে একজন রাজনীতিবিদ বিশেষজ্ঞ ছিলেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে পানির আধার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূর করেছিলেন। আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচিতেই ফিরে যেতে হবে এবং সরকার এরইমধ্যে তা শুরু করেছে।’

জলাবদ্ধতার পেছনে জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ড্রেন ও খালগুলোতে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনসহ নানা বর্জ্য ফেলায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার পরিষ্কার করার কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ময়লা ফেলে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—আসুন আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করি। প্লাস্টিক বা পলিথিন কীভাবে ডিসপোজ করতে হয়, তা জনগণকে শেখাতে হবে। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শহর ও গ্রামাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।