Dhaka বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক উন্নয়নের আশ্বাস সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা রাখছি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, চলমান সংস্কার ও প্রশস্তীকরণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শিগগিরই লাঘব করা হবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার বৃহৎ প্রকল্পটি আপাতত বৈদেশিক অর্থায়নের বাইরে চলে গেলেও সরকার বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দ্রুত উন্নত করা যায়।

রবিউল আলম বলেন, ৮২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার ইতোমধ্যে চার লেনে উন্নীতকরণের আওতায় এসেছে। এখানে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন রাখা হচ্ছে, যা সড়ক নিরাপত্তা বাড়াবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হিসেবে চিহ্নিত দেবিদ্বার, কংশনগর ও ভিংলাবাড়ী এলাকায় মোট ৮০৪ মিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ চলছে। পাশাপাশি পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ময়নামতি, ফুলগাছতলা, কোম্পানিগঞ্জ, কাঠেরপুল ও কুটিচৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ১ হাজার ৮৪৫ মিটার সড়ক প্রশস্ত ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া কুমিল্লা থেকে দেবিদ্বার পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করার কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কের চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে রবিউল আলম বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই পার্লামেন্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়, এটি জনগণের পার্লামেন্ট।

তিনি আরো বলেন, ১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। আমরাও জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেলে গিয়েছি এবং ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তিন দিন গুমও ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করেছি।’

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু সরকারি দলের নয়, বরং পুরো সংসদের নেতা উল্লেখ করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রমে আরো দক্ষ ও পরিপক্ক করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য ও বিশেষ কর্মশালার প্রস্তাব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতা আমাদের প্রতিনিয়ত শেখাচ্ছেন, দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু, তিনি যেহেতু সংসদ নেতা, তাই তিনি পুরো সংসদেরই নেতা। এটি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পার্লামেন্ট মহিমান্বিত হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরো শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাঁদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ এছাড়া তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জনগণ কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি-কে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ চেয়েছে বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই অধিক গ্রহণযোগ্য। আমি বলব, রাজনীতি শিখুন, রাজনীতি করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।

এই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় জ্ঞান ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায়ই জানেন না কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে কীভাবে সোচ্চার হতে হয়। সংসদ নেতা তারেক রহমানকে পুরো সংসদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের শানিত ও পরিপক্ব করতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা উচিত, যাতে তারা সংসদীয় রীতিনীতি রপ্ত করতে পারেন।

বিরোধী শিবিরের কড়া সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি দল, যাদের জনগণ কখনও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকা স্বাভাবিক। যারা নির্বাচনের আগে নিজেদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না, কারণ ২৬-এর নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ৭১ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, যার মধ্যে ৫১ শতাংশই চেয়েছে বিএনপির দেওয়া ফর্মুলায় দেশ চলুক।

নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকের এই পার্লামেন্ট কারও করুণার দান নয়, বরং ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। নিজে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেল খেটেছি এবং গুম ও রিমান্ডের দুঃসহ স্মৃতি সহ্য করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজারো নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র এসেছে, তা কোনো গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে নস্যাৎ হতে দেওয়া হবে না। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনসমর্থনহীন রাজনীতি ছেড়ে গঠনমূলক পথে আসার চেষ্টা করুন, নতুবা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

আবহাওয়া

সার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব : নজরুল ইসলাম খান

শিগগিরই কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক উন্নয়নের আশ্বাস সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা রাখছি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, চলমান সংস্কার ও প্রশস্তীকরণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শিগগিরই লাঘব করা হবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার বৃহৎ প্রকল্পটি আপাতত বৈদেশিক অর্থায়নের বাইরে চলে গেলেও সরকার বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দ্রুত উন্নত করা যায়।

রবিউল আলম বলেন, ৮২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার ইতোমধ্যে চার লেনে উন্নীতকরণের আওতায় এসেছে। এখানে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন রাখা হচ্ছে, যা সড়ক নিরাপত্তা বাড়াবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হিসেবে চিহ্নিত দেবিদ্বার, কংশনগর ও ভিংলাবাড়ী এলাকায় মোট ৮০৪ মিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ চলছে। পাশাপাশি পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ময়নামতি, ফুলগাছতলা, কোম্পানিগঞ্জ, কাঠেরপুল ও কুটিচৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ১ হাজার ৮৪৫ মিটার সড়ক প্রশস্ত ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া কুমিল্লা থেকে দেবিদ্বার পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করার কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কের চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে রবিউল আলম বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই পার্লামেন্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়, এটি জনগণের পার্লামেন্ট।

তিনি আরো বলেন, ১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। আমরাও জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেলে গিয়েছি এবং ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তিন দিন গুমও ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করেছি।’

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু সরকারি দলের নয়, বরং পুরো সংসদের নেতা উল্লেখ করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রমে আরো দক্ষ ও পরিপক্ক করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য ও বিশেষ কর্মশালার প্রস্তাব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতা আমাদের প্রতিনিয়ত শেখাচ্ছেন, দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু, তিনি যেহেতু সংসদ নেতা, তাই তিনি পুরো সংসদেরই নেতা। এটি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পার্লামেন্ট মহিমান্বিত হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরো শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাঁদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ এছাড়া তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জনগণ কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি-কে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ চেয়েছে বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই অধিক গ্রহণযোগ্য। আমি বলব, রাজনীতি শিখুন, রাজনীতি করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।

এই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় জ্ঞান ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায়ই জানেন না কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে কীভাবে সোচ্চার হতে হয়। সংসদ নেতা তারেক রহমানকে পুরো সংসদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের শানিত ও পরিপক্ব করতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা উচিত, যাতে তারা সংসদীয় রীতিনীতি রপ্ত করতে পারেন।

বিরোধী শিবিরের কড়া সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি দল, যাদের জনগণ কখনও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকা স্বাভাবিক। যারা নির্বাচনের আগে নিজেদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না, কারণ ২৬-এর নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ৭১ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, যার মধ্যে ৫১ শতাংশই চেয়েছে বিএনপির দেওয়া ফর্মুলায় দেশ চলুক।

নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকের এই পার্লামেন্ট কারও করুণার দান নয়, বরং ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। নিজে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেল খেটেছি এবং গুম ও রিমান্ডের দুঃসহ স্মৃতি সহ্য করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজারো নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র এসেছে, তা কোনো গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে নস্যাৎ হতে দেওয়া হবে না। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনসমর্থনহীন রাজনীতি ছেড়ে গঠনমূলক পথে আসার চেষ্টা করুন, নতুবা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।