নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো বা আগামী গ্রীষ্মে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি ভালো থাকবে। সামনের বারের প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ধীরে ধীরে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। আশা করা হচ্ছে, সামনের বছর বিদ্যুতের চাহিদা চলতি বছর থেকে ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে। এটা একটা বড় বিষয়। এটাকে সামনে ধরে আমরা সেভাবে প্ল্যান করছি।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, বহির্বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে আমাদের জন্য বিপদ হতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে কোনো সমস্যা হবে না।
সামনের দিনগুলো বা আগামী গ্রীষ্মের জন্য বিদ্যুৎ খাতের প্রস্তুতি কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দুটোরই পরিস্থিতি ভালো। সামনের বারের প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছি আমরা। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ধীরে ধীরে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। মার্চ-এপ্রিল-মে-জুন মাসে… আমরা আশা করছি সামনের বছর বিদ্যুতের চাহিদা এই বছর থেকে ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে। এটা একটা বড় বিষয়। এটাকে সামনে ধরে আমরা সেভাবে পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন বাকিটা নির্ভর করছে বহির্বিশ্বের ওপর, সেখানে জ্বালানি সংকট হলে আমরা বিপদে পড়ব। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা আশাবাদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে কোনো সমস্যা হবে না।
বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসলে খরচ কমে যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের একটা বিষয় চিন্তা করতে হবে, আমরা যখন বড় প্ল্যান্টগুলোর হিসাব করেছি তখন ৭০ থেকে ৭৫ ডলার কয়লা হিসাব করলাম। এখন ৯০ ডলার করে আমরা কয়লার হিসাব (দাম) পাচ্ছি। কিন্তু তখন ডলারের দাম তো ধরেছিলাম ৭৫ টাকা; এখন ১৪০ টাকা, ১২৫-১৩০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। ডলারের দামে একটা বড় ব্যবধান হয়ে গেছে। সেখানেও দামের ব্যবধান বেড়েছে। ডলারের দামের ব্যবধানের কারণে আমাদের তেলের দাম, গ্যাসের দাম, কয়লার বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কাঁচামালের দামে একটা বড় ব্যবধান এসেছে। এগুলো দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ চ্যালেঞ্জটা আমরা কতদিন ধরে রাখতে পারব সেটাই বিষয়।
তিনি আরও বলেন, ডলারের দামের ব্যবধানের কারণে আমাদের তেলের দাম, গ্যাসের দাম, কয়লার বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কাঁচামালের দামে একটা বড় ব্যবধান এসে গেছে। এগুলো দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। সেটাই হলো মুখ্য বিষয়, যে এই চ্যালেঞ্জটা আমরা কতদিন ধরে রাখতে পারব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি এখনও পরিস্থিতি হাতের বাইরে যায়নি। এভাবে থাকলে আগামীতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
বিশ্ব বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ‘ডায়নামিক ডেইলি প্রাইসিং মেথড’ ব্যবস্থা আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছেন নজরুল হামিদ।
তিনি বলেন, আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করতেছি, যেগুলো আগামী ১-২ মাসের মধ্যে আসবে। আমরা প্রাইসিং নিয়ে কাজ করছি, আমরা চাচ্ছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যাতে ভর্তুকি থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি বেরিয়ে আসে। জ্বালানি ক্ষেত্রে যাতে ডায়নামিক প্রাইসিং আসে মূলত। বিভিন্ন পর্যায়ে যাতে এটা সহনীয় পর্যায়ে হয়, এরকম একটা পরিস্থিতি যাতে থাকে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতে জ্বালানির যেমন দাম থাকে, সকাল-বিকেল তারা মূল্য পরিবর্তন করে। সেটা বিদ্যুতের ব্যাপারে তেলের ব্যাপারে। আমরা ঠিক সেইরকম মেকানিজমের দিকে যাচ্ছি। যখন দাম কমবে তখন দাম কমবে, যখন দাম সমন্বয় করার দরকার হবে তখন দাম সমন্বয় হবে। এ বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই একটা ডায়নামিক প্রাইসিং হচ্ছে। এটা একটা অন্য জায়গা বা অন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ খুবই বড় একটা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাচ্ছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা কাজ করছি। আগামী মাসগুলোর মধ্যে নেপালের বিদ্যুৎ আনতে চুক্তি সই হয়ে যাবে। ৫০ মেগাওয়াটের জন্য একটি, ৭০০ মেগাওয়াটের জন্য আর একটি চুক্তি হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি চলে আসবে। আমরা চাচ্ছি আগামী দুই বছর মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি ঢুকবে।
তিনি বলেন, এগুলো বড় একটা পরিবর্তন করবে। গ্রিডগুলোকে স্মার্ট করা হবে। গ্যাস এবং বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করার কাজ আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে শেষ হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকায় সব বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেয়া হবে। এরইমধ্যে ধানমন্ডি এলাকায় এ কাজ চলমান রয়েছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে যে সমস্যাটা দেখা গেছে, সেটি আরও বড় হলে আর একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি হবে। পৃথিবীব্যাপী একটি মন্দ অবস্থা এখনও বিরাজ করছে। এটা আরও বড় হলে সেই পরিস্থিতিতে আমরা কি করব সেটার ব্যাপারে বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু ওই প্রস্তুতির ওপরে যদি চলে যায় তাহলে একটু সমস্যা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














