সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এদিনের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করবে।

সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এ প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০-৩২৫ কোটি লিটার। যদিও গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে পানির চাহিদার তারতম্য হয়ে থাকে। ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫-৩০০ কোটি লিটার।

তিনি বলেন, পানি বিশুদ্ধকরণের কাজটি অত্যাধুনিক কেমিক্যাল প্যাক (পলি অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরাইনেশন-এর মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারর গাইডলাইন অনুসরণ করে ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পর তা নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়। ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্যারামিটার পরীক্ষা করে পানির গুণগতমান নিশ্চিত করে থাকে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাসাবাড়ী থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এ বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্ত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চুক্তি প্রক্রিয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে ছোট ছোট কাভার্ড ভ্যানে পরিবেশ সম্মতভাবে ময়লা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপগুলো হলো— নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হতে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি প্রবাহের বাধা (ব্লকেজ) নিরসন করা হচ্ছে। মধ্যমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি বৃহৎ খাল উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নর্দমা নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিদ্যমান নর্দমা সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ অন্যান্য খাল (প্রায় ৫০ কি.মি.) উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে (অঞ্চল-১ থেকে ৫) জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বৃষ্টির পানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণসহ পাম্প স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করে প্রবাহ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ইত্যাদি) ডাক্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো আরো আধুনিক ও কার্যকর সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে জনসেবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইসিটি বিভাগের আওতাধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক ও আরো কার্যকর সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ডিজিটালভাবে গ্রহণ করতে পারছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা দক্ষ ও অনুপ্রাণিত থাকেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী সেবা ডেস্কে কাজ করা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স উত্তোলন ও পুনঃএকত্রীকরণ সেবা পাবেন।

এছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘স্কিলস ফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭৭ জন উদ্যোক্তা ডিজিটাল কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, সরকারের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো— প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা রাখা হবে। নতুন সিস্টেমে ব্লক চেইনের মাধ্যমে কোনো প্রকার তথ্য পরিবর্তন হলে তার লগ জানা যাবে। এ ছাড়া কোন স্তরে তথ্য পরিবর্তন হলো, তা উদঘাটন করা সহজ হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে সারা দেশের নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীগণের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

হাসপাতালের লিফটে আটকা নারীসহ ১০ জনকে উদ্ধার করলো ফায়ার সার্ভিস

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এদিনের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করবে।

সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এ প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০-৩২৫ কোটি লিটার। যদিও গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে পানির চাহিদার তারতম্য হয়ে থাকে। ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫-৩০০ কোটি লিটার।

তিনি বলেন, পানি বিশুদ্ধকরণের কাজটি অত্যাধুনিক কেমিক্যাল প্যাক (পলি অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরাইনেশন-এর মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারর গাইডলাইন অনুসরণ করে ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পর তা নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়। ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্যারামিটার পরীক্ষা করে পানির গুণগতমান নিশ্চিত করে থাকে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাসাবাড়ী থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এ বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্ত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চুক্তি প্রক্রিয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে ছোট ছোট কাভার্ড ভ্যানে পরিবেশ সম্মতভাবে ময়লা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপগুলো হলো— নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হতে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি প্রবাহের বাধা (ব্লকেজ) নিরসন করা হচ্ছে। মধ্যমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি বৃহৎ খাল উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নর্দমা নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিদ্যমান নর্দমা সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নিম্নবর্ণিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ অন্যান্য খাল (প্রায় ৫০ কি.মি.) উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে (অঞ্চল-১ থেকে ৫) জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বৃষ্টির পানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণসহ পাম্প স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করে প্রবাহ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ইত্যাদি) ডাক্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো আরো আধুনিক ও কার্যকর সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে জনসেবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইসিটি বিভাগের আওতাধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক ও আরো কার্যকর সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ডিজিটালভাবে গ্রহণ করতে পারছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা দক্ষ ও অনুপ্রাণিত থাকেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী সেবা ডেস্কে কাজ করা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স উত্তোলন ও পুনঃএকত্রীকরণ সেবা পাবেন।

এছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘স্কিলস ফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭৭ জন উদ্যোক্তা ডিজিটাল কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, সরকারের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো— প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা রাখা হবে। নতুন সিস্টেমে ব্লক চেইনের মাধ্যমে কোনো প্রকার তথ্য পরিবর্তন হলে তার লগ জানা যাবে। এ ছাড়া কোন স্তরে তথ্য পরিবর্তন হলো, তা উদঘাটন করা সহজ হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে সারা দেশের নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীগণের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।