বাস থাকবে ডিপোতে, ছাড়ার আগে আসবে স্ট্যান্ডে : সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড এলাকার জট ও জঞ্জাল এড়াতে দূরপাল্লার বাসগুলো ডিপোতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ঢাকা শহর থেকে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, চারটা প্রধান বাসস্ট্যান্ড সরানোর- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাসস্ট্যান্ড সরানো না। বিষয়টা হচ্ছে- আমাদের ডিপো। যেমন ধরেন একটা বাসস্ট্যান্ডের ১২ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা গ্যাপ থাকছে। আমরা মনে করছি ডিপোতে বাস থাকবে। সে ছাড়ার কিছু আগে আসবে। এসে সে প্যাসেঞ্জার নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের যে ইউজ- সেটা হবে। কিন্তু দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্ট্যান্ডে থেকে যে জঞ্জাল তৈরি হচ্ছে, যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হচ্ছে, ওইটার পরিবর্তন চাচ্ছি। যেমন ধরুন, মহখালী বাসস্ট্যান্ড থাকছে আপাতত। এটা স্থায়ীভাবে সরানো হবে উত্তরে একটা জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু মহখালী বাসস্ট্যান্ডের যে জট তৈরি হচ্ছে বাসের, সেখানে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিধায় যেসব বাস ছাড়বে, সেটা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত যে সমস্ত বাস ছাড়ার জন্য ধরেন সে হয়তো ১২ ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপর সে ট্রিপে যাবে। সে ১২ ঘণ্টা মহখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে পারবে না। সে ৩০০ ফিটের আমাদের ওখানে একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে টেম্পোরারি ভাবে। ওখানে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সবগুলো সরবে। কিন্তু এই যে রাতারাতি সরে যাচ্ছে। আমি তা বলছি না। যেমন ধরুন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড। সেটাকে কাঁচপুরে একটা জায়গায় সেড করা হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ড করা হচ্ছে। ওখানে শিফট হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত সুবিধার পরে কেবল মাত্র চলে যাবে। এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে। শুধুমাত্র ওই স্ট্যান্ড থেকে যে বাসগুলো দ্রুততম সময়ে সরবে। একটা নির্দিষ্ট টাইমে ওই স্ট্যান্ডে থাকবে। বাকি টাইম সে পাশের ডিপোতে গিয়ে থাকবে। এটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।

দেশের আরো ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কি পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কি কার্যক্রম চলমান এবং আগামীতে কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে- সে বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে পর্যালোচনাপূর্বক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। যেমন- আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দ্য সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কনটেইনারের প্রকল্প এরই মধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।

মিটারগেজ যেখানে আছে বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট এতটুকু মিসিং লিংক আছে, সেটা ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, অ্যাট দ্য সেম টাইম ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন এটাও খুব জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার তাগাদা এসেছে।

বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলাকে কীভাবে রেল সংযোগ বা রেল যোগাযোগ বা রেল সেবা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে রেললাইন এবং তার সার্ভিস প্রসারিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন, সম্ভাব্য রেললাইন আমরা উপস্থাপন করেছি। তার মানে আরও ১০টা জেলা যুক্ত করতে চাইবো।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার বাস্তবায়ন করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেগুলো আছে সেটা তো আছেই। যেখানে একেবারেই নেই, যেমন- মানিকগঞ্জ, ঢাকার কাছে, নেই। তো আমরা চাচ্ছি যে যেহেতু কমিউটার ট্রেন চালুর একটা ব্যবস্থা আমাদের অঙ্গীকার আছে; যেমন- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর, অ্যাট দ্য সেম ঢাকা-মানিকগঞ্জ, ঢাকা-নরসিংদী, তো মানিকগঞ্জে ট্রেন যোগাযোগ নেই। তো আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ এটা করার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কমিউটার ট্রেন, মানে ঢাকা থেকে মানুষ তার ব্যবসা, কর্ম সবকিছু ছেড়ে পাশের জেলাগুলোতে দ্রুত আসতে পারে এবং যেতে পারে কাজ সেরে। এ ধরনের একটা কানেক্টিভিটি করার চিন্তা আছে।

ঢাকা থেকে কুমিল্লা কর্ড লাইন নিয়ে নতুন করে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা ভাবনা ছিল আর আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এটা হলো পার্থক্য। কর্ড লাইনটা দরকার, প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে যায় এটা আমরা সবসময় শুনছি। কিন্তু এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে, দিস ইজ দ্য ডিফারেন্স।

তিনি বলেন, বিগত আমলে যে কাজগুলো হয়েছে, সেখানে রেললাইন হয়েছে ক্যারেজ বা লোকোমোটিভের কোনো সন্ধানই নেই। আমরা এবার সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি সম্পূর্ণভাবে। ডিপিপি পাস হওয়ার সময়ই ট্রেন লাইন হবে, অ্যাট দ্য সেম টাইম লোকোমোটিভ এবং ক্যারেজ আয়োজন ওই ডিপিপির মধ্যেই থাকবে, এজন্য আলাদা প্রকল্প নয়, সমন্বিত প্রকল্প হবে। যাতে ট্রেন লাইনটা নির্মাণ শেষ হলো, একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু করল এরকমভাবে হবে প্রজেক্ট। যেগুলো আসবে সবগুলো প্রজেক্টই ওই বিবেচনায় হবে, বিচ্ছিন্নভাবে হবে না। লাইন, ক্যারেজ (বগি) আর লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প, ভিন্নভাবে বাস্তবায়িত হবে না, সমন্বিতভাবে হবে।

ফতুল্লায় পদ্মা রেল লাইনের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি যতটা জেনেছি এই মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, বিষয়টা এ রকম না। ওখানে যখন আপনার ব্রিজটা হয়েছে কিছু অবস্ট্রাকল কিন্তু রাখা হয়। দেখবেন যে ছোট ছোট ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়, সেখান থেকে মাটি সরানো হয়েছিল, ওটা প্রয়োজনেই সরানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে যে না, এই সরানোটাকে অন্যভাবে দেখছে না, ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না।

কনস্ট্রাকশনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত মাটি থাকে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন এই মাটি সরানো হয়নি। ওটা একটু উঁচু হওয়ায় ওখান থেকে মই দিয়ে কিছু কিছু জিনিস চুরি হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় ওটা সরানো হয়েছিল, অতিরিক্ত মাটি ছিল, অবস্থা তৈরি করার জন্য কনস্ট্রাকশন কাজের সহায়ক হিসেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধ (মাটিকাটা) করে ওখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছি, ওখানে গাছ লাগানো হবে।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মার রেল সেতু পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভাঙ্গা-পায়রা রেল রুট পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ফিজিবিলিটি টেস্ট হয়েছে। এই মুহূর্তে অ্যালাইনমেন্ট চেঞ্জ করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা যে ফিজিবিলিটিটা করেছি, আগের যে অ্যালাইনমেন্ট আছে সেইটাকে অনুসরণ করেই করেছি এবং এখনো পর্যন্ত যে প্রকল্প নিতে চলেছে সেইটাকে অনুসরণ করেই অগ্রসর হচ্ছি। অ্যালাইনমেন্টের চেঞ্জের কোনো প্রয়োজন দেখছি না, এরকম দাবিও দেখছি না।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি, যাবেও না : মির্জা ফখরুল

বাস থাকবে ডিপোতে, ছাড়ার আগে আসবে স্ট্যান্ডে : সড়কমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড এলাকার জট ও জঞ্জাল এড়াতে দূরপাল্লার বাসগুলো ডিপোতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ঢাকা শহর থেকে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, চারটা প্রধান বাসস্ট্যান্ড সরানোর- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাসস্ট্যান্ড সরানো না। বিষয়টা হচ্ছে- আমাদের ডিপো। যেমন ধরেন একটা বাসস্ট্যান্ডের ১২ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা গ্যাপ থাকছে। আমরা মনে করছি ডিপোতে বাস থাকবে। সে ছাড়ার কিছু আগে আসবে। এসে সে প্যাসেঞ্জার নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের যে ইউজ- সেটা হবে। কিন্তু দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্ট্যান্ডে থেকে যে জঞ্জাল তৈরি হচ্ছে, যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হচ্ছে, ওইটার পরিবর্তন চাচ্ছি। যেমন ধরুন, মহখালী বাসস্ট্যান্ড থাকছে আপাতত। এটা স্থায়ীভাবে সরানো হবে উত্তরে একটা জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু মহখালী বাসস্ট্যান্ডের যে জট তৈরি হচ্ছে বাসের, সেখানে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিধায় যেসব বাস ছাড়বে, সেটা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত যে সমস্ত বাস ছাড়ার জন্য ধরেন সে হয়তো ১২ ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপর সে ট্রিপে যাবে। সে ১২ ঘণ্টা মহখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে পারবে না। সে ৩০০ ফিটের আমাদের ওখানে একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে টেম্পোরারি ভাবে। ওখানে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সবগুলো সরবে। কিন্তু এই যে রাতারাতি সরে যাচ্ছে। আমি তা বলছি না। যেমন ধরুন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড। সেটাকে কাঁচপুরে একটা জায়গায় সেড করা হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ড করা হচ্ছে। ওখানে শিফট হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত সুবিধার পরে কেবল মাত্র চলে যাবে। এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে। শুধুমাত্র ওই স্ট্যান্ড থেকে যে বাসগুলো দ্রুততম সময়ে সরবে। একটা নির্দিষ্ট টাইমে ওই স্ট্যান্ডে থাকবে। বাকি টাইম সে পাশের ডিপোতে গিয়ে থাকবে। এটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।

দেশের আরো ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কি পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কি কার্যক্রম চলমান এবং আগামীতে কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে- সে বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে পর্যালোচনাপূর্বক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। যেমন- আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দ্য সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কনটেইনারের প্রকল্প এরই মধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।

মিটারগেজ যেখানে আছে বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট এতটুকু মিসিং লিংক আছে, সেটা ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, অ্যাট দ্য সেম টাইম ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন এটাও খুব জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার তাগাদা এসেছে।

বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলাকে কীভাবে রেল সংযোগ বা রেল যোগাযোগ বা রেল সেবা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে রেললাইন এবং তার সার্ভিস প্রসারিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন, সম্ভাব্য রেললাইন আমরা উপস্থাপন করেছি। তার মানে আরও ১০টা জেলা যুক্ত করতে চাইবো।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার বাস্তবায়ন করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেগুলো আছে সেটা তো আছেই। যেখানে একেবারেই নেই, যেমন- মানিকগঞ্জ, ঢাকার কাছে, নেই। তো আমরা চাচ্ছি যে যেহেতু কমিউটার ট্রেন চালুর একটা ব্যবস্থা আমাদের অঙ্গীকার আছে; যেমন- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর, অ্যাট দ্য সেম ঢাকা-মানিকগঞ্জ, ঢাকা-নরসিংদী, তো মানিকগঞ্জে ট্রেন যোগাযোগ নেই। তো আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ এটা করার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কমিউটার ট্রেন, মানে ঢাকা থেকে মানুষ তার ব্যবসা, কর্ম সবকিছু ছেড়ে পাশের জেলাগুলোতে দ্রুত আসতে পারে এবং যেতে পারে কাজ সেরে। এ ধরনের একটা কানেক্টিভিটি করার চিন্তা আছে।

ঢাকা থেকে কুমিল্লা কর্ড লাইন নিয়ে নতুন করে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা ভাবনা ছিল আর আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এটা হলো পার্থক্য। কর্ড লাইনটা দরকার, প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে যায় এটা আমরা সবসময় শুনছি। কিন্তু এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে, দিস ইজ দ্য ডিফারেন্স।

তিনি বলেন, বিগত আমলে যে কাজগুলো হয়েছে, সেখানে রেললাইন হয়েছে ক্যারেজ বা লোকোমোটিভের কোনো সন্ধানই নেই। আমরা এবার সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি সম্পূর্ণভাবে। ডিপিপি পাস হওয়ার সময়ই ট্রেন লাইন হবে, অ্যাট দ্য সেম টাইম লোকোমোটিভ এবং ক্যারেজ আয়োজন ওই ডিপিপির মধ্যেই থাকবে, এজন্য আলাদা প্রকল্প নয়, সমন্বিত প্রকল্প হবে। যাতে ট্রেন লাইনটা নির্মাণ শেষ হলো, একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু করল এরকমভাবে হবে প্রজেক্ট। যেগুলো আসবে সবগুলো প্রজেক্টই ওই বিবেচনায় হবে, বিচ্ছিন্নভাবে হবে না। লাইন, ক্যারেজ (বগি) আর লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প, ভিন্নভাবে বাস্তবায়িত হবে না, সমন্বিতভাবে হবে।

ফতুল্লায় পদ্মা রেল লাইনের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি যতটা জেনেছি এই মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, বিষয়টা এ রকম না। ওখানে যখন আপনার ব্রিজটা হয়েছে কিছু অবস্ট্রাকল কিন্তু রাখা হয়। দেখবেন যে ছোট ছোট ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়, সেখান থেকে মাটি সরানো হয়েছিল, ওটা প্রয়োজনেই সরানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে যে না, এই সরানোটাকে অন্যভাবে দেখছে না, ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না।

কনস্ট্রাকশনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত মাটি থাকে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন এই মাটি সরানো হয়নি। ওটা একটু উঁচু হওয়ায় ওখান থেকে মই দিয়ে কিছু কিছু জিনিস চুরি হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় ওটা সরানো হয়েছিল, অতিরিক্ত মাটি ছিল, অবস্থা তৈরি করার জন্য কনস্ট্রাকশন কাজের সহায়ক হিসেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধ (মাটিকাটা) করে ওখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছি, ওখানে গাছ লাগানো হবে।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মার রেল সেতু পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভাঙ্গা-পায়রা রেল রুট পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ফিজিবিলিটি টেস্ট হয়েছে। এই মুহূর্তে অ্যালাইনমেন্ট চেঞ্জ করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা যে ফিজিবিলিটিটা করেছি, আগের যে অ্যালাইনমেন্ট আছে সেইটাকে অনুসরণ করেই করেছি এবং এখনো পর্যন্ত যে প্রকল্প নিতে চলেছে সেইটাকে অনুসরণ করেই অগ্রসর হচ্ছি। অ্যালাইনমেন্টের চেঞ্জের কোনো প্রয়োজন দেখছি না, এরকম দাবিও দেখছি না।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।