সিটিকে উড়িয়ে কমিউনিটি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:২২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮২ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচ শুরু হতেই ম্যানচেস্টার সিটির জালে জড়াল বল। প্রথমার্ধে আরেক গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল আর্সেনাল। বিরতির পর তারা জালে বল পাঠাল আবার। সিটিকে ধরাশায়ী করে, কমিউনিটি শিল্ড জিতল মিকেল আর্তেতার দল।

কার্ডিফে রোববার (১৬ আগস্ট) প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ চ্যাম্পিয়নের মধ্যে এক ম্যাচের এই শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের জয় ৩-০ গোলে।

রিকার্দো কালাফিওরি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান কাই হাভার্টজ। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোরের গোলে জয়ের হাসি হাসে লন্ডনের ক্লাবটি।

‘পেপ গুয়ার্দিওলা যুগ’ পরবর্তী এন্টসো মারেস্কার কোচিংয়ে যাত্রা শুরুর প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে সিটি। কিক অফ থেকে আক্রমণ শাণায় আর্সেনাল এবং মাইলস লুইস-স্কেলির রক্ষণচেরা থ্রু বল ডি-বক্সে ধরে, নিখুঁত শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার কালাফিওরি।

কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর মাত্র ২৩ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপজ্জনক জায়গায় চলে আসার পর সেটি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সিটির রক্ষণ। সুযোগ বুঝে রিকার্দো কালাফিওরি দ্রুত শট নেন। বল সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে মাত্র ২৪ সেকেন্ডের মধ্যেই লিড পেয়ে যায় আর্সেনাল।

শুরুতেই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। বরং আর্সেনালই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয়।

২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্সেনাল। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে কাই হাভার্টজকে দারুণ অবস্থানে পাওয়া যায়। জার্মান ফরোয়ার্ডের হেড সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মার হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে তৃতীয় গোল। ৪৮ মিনিটে সিটির রক্ষণভাগে ফাঁক খুঁজে পান আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে তিনি দোন্নারুম্মাকে অসাধারণ এক ডামি দিয়ে বসিয়ে দেন। এরপর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে কোনো ভুল করেননি নরওয়েজিয়ান তারকা।

৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার কোনো বাস্তব সুযোগই তৈরি করতে পারেনি সিটি। পুরো ম্যাচে আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। সিটির আক্রমণভাগে এরলিং হালান্ডও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিশ্বকাপের পর সদ্য অনুশীলনে ফেরা নরওয়েজিয়ান তারকা ৫৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে পুরো ম্যাচে মাত্র সাতবার বল স্পর্শ করেন।

৮১তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে সিটি, কিন্তু সফল হতে পারেনি তারা। অ্যান্তোয়ান সেমেনিওর কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে আটকান রাইয়া। বাকি সময়ে আর তেমন কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি আর্সেনালকে।

অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য জয়টি এসেছে ঠিক সময়ে। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে এই পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ডও সেটিই জানিয়েছেন। তার ভাষায়, আজ তারা নিজেদের মান দেখিয়েছে এবং তারা প্রস্তুত। শিরোপা আবারও জেতার ব্যাপারে তারা সিরিয়াস।

কমিউনিটি শিল্ডের এই জয় অবশ্য মৌসুমের কোনো বড় শিরোপা নয়। তবে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে দুই সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীর লড়াইয়ে আর্সেনালের এমন দাপুটে জয় মানসিকভাবে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

২২ বছর পর গত মে মাসে লিগ শিরোপা জয়ী দলটি ওই মৌসুমের শেষ ম্যাচে হেরে যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে, পিএসজির বিপক্ষে। এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে শিরোপা জিতেই মৌসুম শুরু করল আর্তেতার দল।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বললেন, তার দলের এমন দাপুটে জয়ে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন তিনি। টিএনটি স্পোর্টসকে জানান, তার দলের খেলার ধরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গ্রীষ্মে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হওয়া নতুন সিটি কোচ এনজো মারেস্কা এমন কোনো কথা বলতে পারেননি। যদিও তিনি এই ফলাফলকে অতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বলছেন, ‘এই হার আমাদের কষ্ট দেয়। কিন্তু এটা কেবল শুরু।’

সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কেউন ম্যাচ শেষে বললেন, ‘ব্যবধানটা ছিল সত্যিই চমকপ্রদ। আর্সেনাল যেন লাগামছাড়া হয়ে গেল, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রাণহীন দেখাচ্ছিল। আর্সেনাল নিজেদের অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আর্তেতা কাকে দলে নেবেন? ম্যান সিটির সমস্যা আরও অনেক বেশি।’

আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ড বললেন, ‘আমরা কিছু চমৎকার ফুটবল খেলেছিলাম। অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং মৌসুম শুরু করার দারুণ উপায়। আজ আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখালাম। দেখিয়ে দিলাম যে আমরা প্রস্তুত। আমরা আন্তরিক এবং আমরা আবার এটা করতে চাই।’

কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ট্রফি জয়ে আনন্দে ভাসছেন ভক্ত-খেলোয়াড়রা। কিন্তু এই ধরনের তুলনামূলক ছোট প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেটাই ভাবার বিষয়। দশ বারের কমিউনিটি শিল্ড বিজয়ী কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ২০১১ সালে বলেছিলেন, তিনি ম্যাচটি আসলে নতুন মৌসুমের ‘সিঁড়ি’ হিসেবেই সবসময় ভেবে এসেছেন। এমনকি ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকে ৩৪টি চ্যারিটি শিল্ড বা কমিউনিটি শিল্ডের চ্যাম্পিয়নরা মাত্র আটবার লিগে শিরোপা জিতেছে। সবশেষ এই কীর্তি ২০১৮-১৯ মৌসুমে গড়েছিল ম্যানসিটি, তার আগে ২০১০-১১ মৌসুমে ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

আর্সেনাল আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে কোভেন্ট্রির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। দুই দিন পর ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে লিগ অভিযান শুরু করবে। তার আগে মারেস্কা এই হার থেকে কী শিক্ষা নেন এবং একাদশ ও কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সিটিকে উড়িয়ে কমিউনিটি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল

প্রকাশের সময় : ০১:২২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচ শুরু হতেই ম্যানচেস্টার সিটির জালে জড়াল বল। প্রথমার্ধে আরেক গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল আর্সেনাল। বিরতির পর তারা জালে বল পাঠাল আবার। সিটিকে ধরাশায়ী করে, কমিউনিটি শিল্ড জিতল মিকেল আর্তেতার দল।

কার্ডিফে রোববার (১৬ আগস্ট) প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ চ্যাম্পিয়নের মধ্যে এক ম্যাচের এই শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের জয় ৩-০ গোলে।

রিকার্দো কালাফিওরি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান কাই হাভার্টজ। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোরের গোলে জয়ের হাসি হাসে লন্ডনের ক্লাবটি।

‘পেপ গুয়ার্দিওলা যুগ’ পরবর্তী এন্টসো মারেস্কার কোচিংয়ে যাত্রা শুরুর প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে সিটি। কিক অফ থেকে আক্রমণ শাণায় আর্সেনাল এবং মাইলস লুইস-স্কেলির রক্ষণচেরা থ্রু বল ডি-বক্সে ধরে, নিখুঁত শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার কালাফিওরি।

কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর মাত্র ২৩ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপজ্জনক জায়গায় চলে আসার পর সেটি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সিটির রক্ষণ। সুযোগ বুঝে রিকার্দো কালাফিওরি দ্রুত শট নেন। বল সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে মাত্র ২৪ সেকেন্ডের মধ্যেই লিড পেয়ে যায় আর্সেনাল।

শুরুতেই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। বরং আর্সেনালই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয়।

২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্সেনাল। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে কাই হাভার্টজকে দারুণ অবস্থানে পাওয়া যায়। জার্মান ফরোয়ার্ডের হেড সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মার হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে তৃতীয় গোল। ৪৮ মিনিটে সিটির রক্ষণভাগে ফাঁক খুঁজে পান আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে তিনি দোন্নারুম্মাকে অসাধারণ এক ডামি দিয়ে বসিয়ে দেন। এরপর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে কোনো ভুল করেননি নরওয়েজিয়ান তারকা।

৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার কোনো বাস্তব সুযোগই তৈরি করতে পারেনি সিটি। পুরো ম্যাচে আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। সিটির আক্রমণভাগে এরলিং হালান্ডও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিশ্বকাপের পর সদ্য অনুশীলনে ফেরা নরওয়েজিয়ান তারকা ৫৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে পুরো ম্যাচে মাত্র সাতবার বল স্পর্শ করেন।

৮১তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে সিটি, কিন্তু সফল হতে পারেনি তারা। অ্যান্তোয়ান সেমেনিওর কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে আটকান রাইয়া। বাকি সময়ে আর তেমন কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি আর্সেনালকে।

অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য জয়টি এসেছে ঠিক সময়ে। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে এই পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ডও সেটিই জানিয়েছেন। তার ভাষায়, আজ তারা নিজেদের মান দেখিয়েছে এবং তারা প্রস্তুত। শিরোপা আবারও জেতার ব্যাপারে তারা সিরিয়াস।

কমিউনিটি শিল্ডের এই জয় অবশ্য মৌসুমের কোনো বড় শিরোপা নয়। তবে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে দুই সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীর লড়াইয়ে আর্সেনালের এমন দাপুটে জয় মানসিকভাবে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

২২ বছর পর গত মে মাসে লিগ শিরোপা জয়ী দলটি ওই মৌসুমের শেষ ম্যাচে হেরে যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে, পিএসজির বিপক্ষে। এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে শিরোপা জিতেই মৌসুম শুরু করল আর্তেতার দল।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বললেন, তার দলের এমন দাপুটে জয়ে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন তিনি। টিএনটি স্পোর্টসকে জানান, তার দলের খেলার ধরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গ্রীষ্মে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হওয়া নতুন সিটি কোচ এনজো মারেস্কা এমন কোনো কথা বলতে পারেননি। যদিও তিনি এই ফলাফলকে অতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বলছেন, ‘এই হার আমাদের কষ্ট দেয়। কিন্তু এটা কেবল শুরু।’

সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কেউন ম্যাচ শেষে বললেন, ‘ব্যবধানটা ছিল সত্যিই চমকপ্রদ। আর্সেনাল যেন লাগামছাড়া হয়ে গেল, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রাণহীন দেখাচ্ছিল। আর্সেনাল নিজেদের অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আর্তেতা কাকে দলে নেবেন? ম্যান সিটির সমস্যা আরও অনেক বেশি।’

আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ড বললেন, ‘আমরা কিছু চমৎকার ফুটবল খেলেছিলাম। অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং মৌসুম শুরু করার দারুণ উপায়। আজ আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখালাম। দেখিয়ে দিলাম যে আমরা প্রস্তুত। আমরা আন্তরিক এবং আমরা আবার এটা করতে চাই।’

কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ট্রফি জয়ে আনন্দে ভাসছেন ভক্ত-খেলোয়াড়রা। কিন্তু এই ধরনের তুলনামূলক ছোট প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেটাই ভাবার বিষয়। দশ বারের কমিউনিটি শিল্ড বিজয়ী কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ২০১১ সালে বলেছিলেন, তিনি ম্যাচটি আসলে নতুন মৌসুমের ‘সিঁড়ি’ হিসেবেই সবসময় ভেবে এসেছেন। এমনকি ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকে ৩৪টি চ্যারিটি শিল্ড বা কমিউনিটি শিল্ডের চ্যাম্পিয়নরা মাত্র আটবার লিগে শিরোপা জিতেছে। সবশেষ এই কীর্তি ২০১৮-১৯ মৌসুমে গড়েছিল ম্যানসিটি, তার আগে ২০১০-১১ মৌসুমে ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

আর্সেনাল আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে কোভেন্ট্রির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। দুই দিন পর ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে লিগ অভিযান শুরু করবে। তার আগে মারেস্কা এই হার থেকে কী শিক্ষা নেন এবং একাদশ ও কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।