শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ : বিএফআইইউ প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জব্দ করা সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে রয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা দলমতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক হলেই ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ করে থাকলে সেটাও সামনে আসবে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির কাছে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের (এসএআর) প্রতিবেদন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ ধরনের প্রতিবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি। চার বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জমা পড়া মোট প্রতিবেদনের ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া অনলাইন জুয়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করাও এ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ২৫০টিতে এবং অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন ১ হাজার ৯৫টিতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পুলিশের ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ : বিএফআইইউ প্রধান

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জব্দ করা সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে রয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা দলমতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক হলেই ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ করে থাকলে সেটাও সামনে আসবে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির কাছে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের (এসএআর) প্রতিবেদন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ ধরনের প্রতিবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি। চার বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জমা পড়া মোট প্রতিবেদনের ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া অনলাইন জুয়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করাও এ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ২৫০টিতে এবং অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন ১ হাজার ৯৫টিতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।