অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল এবং গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল আমিন দুলাল অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সাজিয়ে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। তিনি এসব অমুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ছাঁটাই করার জন্য সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সঠিক তালিকা প্রণয়নে যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজটি করেনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে। তারা সঠিক শহীদ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।

এসময় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও কেন জাতি একটি নির্ভুল তালিকা পাচ্ছে না? কেন সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তালিকার পরিবর্তন ঘটে? তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চান।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দলীয়করণের মাধ্যমে যে তালিকা করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তালিকা জাতির সামনে তুলে ধরা। যেখানে কোনো অমুক্তিযোদ্ধার স্থান হবে না। যেখানে প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা যথাযোগ্য মর্যাদা পাবেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও বিশেষজ্ঞ কমিটির কাজ চলমান।

দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই, আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। আপনাকে একই সাথে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে এবং একটু আগেই বললাম এই দল বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে মনে প্রাণে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি একটু আগেই আমি বলেছিলাম যে যাদের দায়িত্ব ছিল দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিল সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল আমীন দুলাল বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় কর্মীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অনেক ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে মাসে বিশ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। তিনি এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ছাঁটাই করার জন্য একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং সেই কমিটিতে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ স্বাধীনের পর যাদের ওপর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল, তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে না দেখে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে যে কমিটি গঠন করেছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো সঠিক শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।

পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে নির্বাচিত অপর এক সংসদ সদস্যের আরেক সম্পূরক প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যেভাবে পরিবর্তিত বা দলীয়করণ হয়, সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ৫৫ বছর পর হলেও একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত। যেহেতু একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধার আদর্শে এই দল পরিচালিত, তাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব প্রদর্শনকে সরকার একটি পবিত্র কর্তব্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে তালিকা প্রণয়নে নানা জটিলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি হলেও, বর্তমান সরকার দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি পূর্ণাঙ্গ, সঠিক ও ঐতিহাসিক সত্যভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

সংসদে সুলতানা আহমেদের (৩১৭ মহিলা আসন-১৭) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, অল-ইন-ওয়ান পিসি, নোটবুক, নোটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, রাউটার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, মনিটর, ডিজিটাল ওয়াচ ও মোবাইল প্রযুক্তি পণ্য দেশে উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

এই খাত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্ক, সমুদয় সম্পূরক শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি এবং সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ করা হয়েছে।

একইভাবে দেশে এসব পণ্য সংযোজনে (অ্যাসেম্বলিং) ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্কসহ সমুদয় সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি এবং মূল্য সংযোজন কর মওকুফ করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন যুগোপযোগী শুল্ক সুবিধার ফলে দেশের বাজারে অনেক কম দামে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। এর ফলে শিক্ষা, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য অভূতপূর্ব কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রণীত এ মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে পর্যটন খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, দেশের পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন ১৩২ দশমিক ৪৪ একর জমিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অন্যান্য পর্যটন সুবিধা নির্মাণের প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। এসব প্রকল্পের ডিমান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও মার্কেট স্টাডি মূল্যায়নের কাজ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ও তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ও প্রচারের সুবিধার্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির এলইডি বোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনবহুল স্পটগুলোতে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে, এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হচ্ছে। এছাড়া, পর্যটন আকর্ষণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকরণ এবং বিশ্ব দরবারে দেশের রূপ তুলে ধরতে ভার্চুয়াল ট্যুর প্রস্তুত ও প্রচারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, পর্যটন খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করার জন্য সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পিপিপি-র আওতায় বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের টেকসই বিকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ এবং পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণকে বিপন্ন করা হচ্ছে।

সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, বিনোদন পার্ক কর্মী, আবাসন কর্মী ও পরিবহন কর্মীদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্স, ফ্রন্ট অফিস, হাউস কিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসের মতো পেশাদার কোর্স নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্যুর গাইডকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটসমূহের জন্য দক্ষ গাইড তৈরির বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক ১০১ জনকে সফলভাবে পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পর্যটন খাতকে আধুনিক, সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ : বিএফআইইউ প্রধান

অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল এবং গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল আমিন দুলাল অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সাজিয়ে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। তিনি এসব অমুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ছাঁটাই করার জন্য সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সঠিক তালিকা প্রণয়নে যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজটি করেনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে। তারা সঠিক শহীদ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।

এসময় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও কেন জাতি একটি নির্ভুল তালিকা পাচ্ছে না? কেন সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তালিকার পরিবর্তন ঘটে? তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চান।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দলীয়করণের মাধ্যমে যে তালিকা করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তালিকা জাতির সামনে তুলে ধরা। যেখানে কোনো অমুক্তিযোদ্ধার স্থান হবে না। যেখানে প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা যথাযোগ্য মর্যাদা পাবেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও বিশেষজ্ঞ কমিটির কাজ চলমান।

দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই, আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। আপনাকে একই সাথে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে এবং একটু আগেই বললাম এই দল বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে মনে প্রাণে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি একটু আগেই আমি বলেছিলাম যে যাদের দায়িত্ব ছিল দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিল সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল আমীন দুলাল বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় কর্মীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অনেক ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে মাসে বিশ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। তিনি এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ছাঁটাই করার জন্য একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং সেই কমিটিতে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ স্বাধীনের পর যাদের ওপর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল, তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে না দেখে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে যে কমিটি গঠন করেছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো সঠিক শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।

পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে নির্বাচিত অপর এক সংসদ সদস্যের আরেক সম্পূরক প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যেভাবে পরিবর্তিত বা দলীয়করণ হয়, সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ৫৫ বছর পর হলেও একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত। যেহেতু একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধার আদর্শে এই দল পরিচালিত, তাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব প্রদর্শনকে সরকার একটি পবিত্র কর্তব্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে তালিকা প্রণয়নে নানা জটিলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি হলেও, বর্তমান সরকার দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি পূর্ণাঙ্গ, সঠিক ও ঐতিহাসিক সত্যভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

সংসদে সুলতানা আহমেদের (৩১৭ মহিলা আসন-১৭) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, অল-ইন-ওয়ান পিসি, নোটবুক, নোটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, রাউটার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, মনিটর, ডিজিটাল ওয়াচ ও মোবাইল প্রযুক্তি পণ্য দেশে উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

এই খাত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্ক, সমুদয় সম্পূরক শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি এবং সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ করা হয়েছে।

একইভাবে দেশে এসব পণ্য সংযোজনে (অ্যাসেম্বলিং) ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্কসহ সমুদয় সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি এবং মূল্য সংযোজন কর মওকুফ করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন যুগোপযোগী শুল্ক সুবিধার ফলে দেশের বাজারে অনেক কম দামে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। এর ফলে শিক্ষা, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য অভূতপূর্ব কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রণীত এ মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে পর্যটন খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, দেশের পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন ১৩২ দশমিক ৪৪ একর জমিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অন্যান্য পর্যটন সুবিধা নির্মাণের প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। এসব প্রকল্পের ডিমান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও মার্কেট স্টাডি মূল্যায়নের কাজ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ও তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ও প্রচারের সুবিধার্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির এলইডি বোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনবহুল স্পটগুলোতে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে, এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হচ্ছে। এছাড়া, পর্যটন আকর্ষণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকরণ এবং বিশ্ব দরবারে দেশের রূপ তুলে ধরতে ভার্চুয়াল ট্যুর প্রস্তুত ও প্রচারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, পর্যটন খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করার জন্য সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পিপিপি-র আওতায় বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের টেকসই বিকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ এবং পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণকে বিপন্ন করা হচ্ছে।

সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, বিনোদন পার্ক কর্মী, আবাসন কর্মী ও পরিবহন কর্মীদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্স, ফ্রন্ট অফিস, হাউস কিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসের মতো পেশাদার কোর্স নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্যুর গাইডকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটসমূহের জন্য দক্ষ গাইড তৈরির বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক ১০১ জনকে সফলভাবে পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পর্যটন খাতকে আধুনিক, সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।