হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা রাখার নির্দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুতে রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিধি-৭১-এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসেবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।

মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুত আছে এবং আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য সম্পূরক প্রশ্নে মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার অমিল রয়েছে দাবি করে বলেন, জেলা সদর হাসপাতালেই আইসিইউ নেই, সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা কীভাবে পৌঁছাবে তা স্পষ্ট নয়। একই সাথে তিনি স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি ও মেডিসিন চিকিৎসকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের তাগিদ দেন। এছাড়া ডেঙ্গু বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা থাকবে কিনা তাও জানতে চান।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একইসঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে।

মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং ফুল হাতা পোশাক পরতে হবে।

পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।

চিকিৎসকের শূন্যপদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত জনবল সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। আবার অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারায় এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং সময়ে সময়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে দেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়েও আইন রয়েছে। বিষয়টি চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পুলিশের ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা রাখার নির্দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুতে রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিধি-৭১-এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসেবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।

মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুত আছে এবং আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য সম্পূরক প্রশ্নে মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার অমিল রয়েছে দাবি করে বলেন, জেলা সদর হাসপাতালেই আইসিইউ নেই, সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা কীভাবে পৌঁছাবে তা স্পষ্ট নয়। একই সাথে তিনি স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি ও মেডিসিন চিকিৎসকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের তাগিদ দেন। এছাড়া ডেঙ্গু বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা থাকবে কিনা তাও জানতে চান।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একইসঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে।

মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং ফুল হাতা পোশাক পরতে হবে।

পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।

চিকিৎসকের শূন্যপদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত জনবল সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। আবার অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারায় এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং সময়ে সময়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে দেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়েও আইন রয়েছে। বিষয়টি চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।