নিজস্ব প্রতিবেদক :
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকার আজ থেকে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকায়, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবেই বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনও সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবা সহজতর করা এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে ইন্টারনেট সুবিধা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিটিসিএলের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস হলেও এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। জনগণের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
আফরোজা খানম আরও বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীসহ সব যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত করাই বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অচিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে, যা দেশের বিমান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের আটটি বিমানবন্দরে এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। এটিকে তিনি যাত্রীসেবায় বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিমানের এমডিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এ সেবার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েক সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা যে ধরনের ইন্টারনেট সুবিধা পান, বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতেও বিশ্বমানের স্পিড, নির্ভরযোগ্যতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা হবে।
রেহান আসিফ আসাদ জানান, শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল, পার্কিং লট থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় এই সেবা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, একজন যাত্রী যেন বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্লেনে ওঠা পর্যন্ত এবং বিদেশ থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পান, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, গত কয়েক দিনেই শুধু ঢাকা বিমানবন্দরে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ। শুধু ঢাকা বিমানবন্দর নয়, দেশের আটটি বিমানবন্দর ও ছয়টি রেলস্টেশনেও ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কবে চালু হবে এবং আগে বিমানবন্দরের ওয়াইফাই ব্যবস্থায় যে সমস্যা ছিল, এখন কী পরিবর্তন এসেছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এনইআইআর বিষয়টি ফ্রি ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এটি বিটিআরসি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দেখছে। তারা যথাসময়ে এ বিষয়ে জানাবে।
তিনি আরও বলেন, আগেও কিছু ওয়াইফাই সুবিধা ছিল, তবে তা সীমিত পরিসরে। বিশ্বের অনেক বিমানবন্দরে বিভিন্ন লাউঞ্জের নিজস্ব ওয়াইফাই থাকে। কিন্তু আমাদের এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত। আগের সেবাগুলোও থাকবে, তবে এটি হবে আরও উন্নত ও উন্মুক্ত মানের সার্ভিস।
এদিকে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকবে। এর আওতায় রয়েছে— টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সেবাটির জন্য আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। এই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আর প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সে অনুযায়ী ২৫০টি লপি ব্যবহার করে একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গত ২৬ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং এ সময়ে মোট প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























