মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ, আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহামান্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’

তারেক রহমান বলেন, তিনি অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেছেন।

May be an image of dais and text

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত যে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, যা মধ্যস্থতাকারী কমিয়ে শ্রমিকদের খরচ হ্রাস করবে।

পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানো জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগনের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আরও একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’

May be an image of one or more people, dais and text

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে আগ্রহী। আমরা রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-তে যোগ দিতেও আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক একীকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে আগ্রহী।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। শ্রম, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বের গল্প এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। এই সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় হবে আরও গভীর, আরও বিস্তৃত এবং আরও ফলপ্রসূ।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারে বিদ্যমান অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

May be an image of the Oval Office

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়াকে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখন সময় এসেছে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার। এ লক্ষ্যে দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। শ্রমিকদের শোষণ, দুর্ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত ও করপোরেট স্বার্থে তাদের ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি জানান, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পেও তা সম্প্রসারিত হবে। তিনি জানান, বৈঠকে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার সহযোগিতা, হালাল শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে টেকসই সমাধান খুঁজতে আসিয়ান কাঠামোর আওতায় কাজ অব্যাহত থাকবে।

ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘পরিবারের সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক বন্ধন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো’ শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ, আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহামান্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’

তারেক রহমান বলেন, তিনি অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেছেন।

May be an image of dais and text

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত যে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, যা মধ্যস্থতাকারী কমিয়ে শ্রমিকদের খরচ হ্রাস করবে।

পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানো জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগনের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আরও একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’

May be an image of one or more people, dais and text

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে আগ্রহী। আমরা রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-তে যোগ দিতেও আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক একীকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে আগ্রহী।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। শ্রম, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বের গল্প এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। এই সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় হবে আরও গভীর, আরও বিস্তৃত এবং আরও ফলপ্রসূ।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারে বিদ্যমান অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

May be an image of the Oval Office

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়াকে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখন সময় এসেছে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার। এ লক্ষ্যে দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। শ্রমিকদের শোষণ, দুর্ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত ও করপোরেট স্বার্থে তাদের ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি জানান, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পেও তা সম্প্রসারিত হবে। তিনি জানান, বৈঠকে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার সহযোগিতা, হালাল শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে টেকসই সমাধান খুঁজতে আসিয়ান কাঠামোর আওতায় কাজ অব্যাহত থাকবে।

ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘পরিবারের সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক বন্ধন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো’ শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন।