নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ছাত্রজীবনই ভবিষ্যৎ গড়ার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই এই সময়কে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়ালেখার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বরং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জবি শাখা ছাত্রদল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা স্বাধীন জীবন পায়। কিন্তু এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করা যাবে না। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবে। আমাদের দেশে তরুণদের সংখ্যাও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাদেরকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে আমরা বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারবো।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি আদর্শবাদী দল। তাই ছাত্রদলের নেতৃত্বের মাঝে আদর্শ, নৈতিকতা ও দেশাত্মবোধ থাকতে হবে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়। আমাদের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। আগামী বছর থেকে সারা দেশে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১ কোটি ১২ লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পুষ্টির ঘাটতি পূরণে দেওয়া হচ্ছে মিড ডে মিল।
২০২৮ সালের মধ্যে যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য জিমনেসিয়াম তৈরির বিষয়েও জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী।
পড়াশোনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিদেশি ভাষা শেখার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এআই অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। তোমাদের এই বিষয়গুলো আত্মস্থ করতে হবে। তোমাদের লেখাপড়ার সঙ্গে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি বাড়াতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ম্যান্ডারিন, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, আজকে যারা ম্যান্ডারিন জানে, তাদের চীনে গিয়ে ভালো চাকরি খুঁজতে একদিনও সময় লাগে না। যারা কোরিয়ান ভাষা জানে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারে। যারা জাপানি ভাষা জানে, তারা জাপানে যেতে পারে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই ছাত্রদলের অনুসারী নাও হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত হতে পারে। দেশের জন্য কাজ করে নিজেদের একটি ইতিবাচক উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা; তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ (পঞ্চম) জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন—উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, জবির ট্রেজারারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ,শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















