বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিদ্বেষমূলক হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বা প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। কিন্তু যে কোনো বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই।

তিনি বলেন, বুধবার (৫ আগস্ট) ৬ থেকে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। আসলে কোনো বক্তব্য দেয় নাকি সব ফাঁকা আওয়াজ। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সব ঝুট হ্যায়’। যে কথায় ট্র্যাইব্যুনালের ইমেজ সংকট হয় কিংবা বিদ্বেষমূলক হয় সেগুলো ছাড়া গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশে আইনগত বাধা থাকে না।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের মামলাগুলো খুব দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে হওয়া সব মামলাও তদন্ত করছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রতিবেদন এসেছে। কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম, শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১২টি মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে পর্যায়ক্রমে ফর্মাল চার্জ আকারে দাখিল করছি।

বিচারের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে আমরা ছয়টি মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে পেরেছি। মাহবুবউল আলম হানিফসহ আরও তিনটি মামলা এই মাসেই রায়ের জন্য দিন ধার্য হতে পারে বলে আশা করছি। এসব অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচারকার্য করলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। অতএব স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে। এছাড়া জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা খুব বেশি সময় নেব না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়ার মতো মামলাগুলো এখানেই হওয়া উচিত। অন্যান্য বিচার নিম্ন আদালতে হওয়া উচিত। সেসব ট্রাইব্যুনালে টেনে আনতে চাই না। আর জায়গাটি নির্ণয় করা খুব কঠিন কাজ। এ নিয়ে আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হয়। আমরা এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত করেছি, যেগুলো মনে হচ্ছে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য নয়। আবার অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো অন্য তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে ফেলেছে বা অন্য জায়গায় বিচার চলছে- সেই মামলাগুলো আমরা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সেক্ষেত্রে খুব বিচার-বিশ্লেষণ করে আইন অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সম্মানি পাচ্ছেন আরো ২ লাখ ৫৬ হাজার ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবক

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই : চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিদ্বেষমূলক হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বা প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। কিন্তু যে কোনো বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই।

তিনি বলেন, বুধবার (৫ আগস্ট) ৬ থেকে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। আসলে কোনো বক্তব্য দেয় নাকি সব ফাঁকা আওয়াজ। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সব ঝুট হ্যায়’। যে কথায় ট্র্যাইব্যুনালের ইমেজ সংকট হয় কিংবা বিদ্বেষমূলক হয় সেগুলো ছাড়া গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশে আইনগত বাধা থাকে না।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের মামলাগুলো খুব দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে হওয়া সব মামলাও তদন্ত করছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রতিবেদন এসেছে। কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম, শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১২টি মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে পর্যায়ক্রমে ফর্মাল চার্জ আকারে দাখিল করছি।

বিচারের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে আমরা ছয়টি মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে পেরেছি। মাহবুবউল আলম হানিফসহ আরও তিনটি মামলা এই মাসেই রায়ের জন্য দিন ধার্য হতে পারে বলে আশা করছি। এসব অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচারকার্য করলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। অতএব স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে। এছাড়া জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা খুব বেশি সময় নেব না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়ার মতো মামলাগুলো এখানেই হওয়া উচিত। অন্যান্য বিচার নিম্ন আদালতে হওয়া উচিত। সেসব ট্রাইব্যুনালে টেনে আনতে চাই না। আর জায়গাটি নির্ণয় করা খুব কঠিন কাজ। এ নিয়ে আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হয়। আমরা এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত করেছি, যেগুলো মনে হচ্ছে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য নয়। আবার অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো অন্য তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে ফেলেছে বা অন্য জায়গায় বিচার চলছে- সেই মামলাগুলো আমরা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সেক্ষেত্রে খুব বিচার-বিশ্লেষণ করে আইন অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।