বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে বাজারে এখন থেকে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৯৯ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনও নতুন দামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বিদ্যমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে একই পরিমাণ তেলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় ৫ টাকা বেশি খরচ করতে হবে। অন্যদিকে পাম অয়েলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। তবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ছিল লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর।

বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কিনা—জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়। একই সময়ে খোলা সয়াবিন তেলের দামও সমন্বয় করা হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের চাপের বিষয়টি তুলে ধরে দাম সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজার আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

নতুন দাম কার্যকর হওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের ব্যয় আরও বাড়ল। ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে বাজারে নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এবার সয়াবিন তেলের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় চুক্তি

বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

প্রকাশের সময় : ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে বাজারে এখন থেকে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৯৯ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনও নতুন দামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বিদ্যমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে একই পরিমাণ তেলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় ৫ টাকা বেশি খরচ করতে হবে। অন্যদিকে পাম অয়েলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। তবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ছিল লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর।

বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কিনা—জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়। একই সময়ে খোলা সয়াবিন তেলের দামও সমন্বয় করা হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের চাপের বিষয়টি তুলে ধরে দাম সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজার আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

নতুন দাম কার্যকর হওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের ব্যয় আরও বাড়ল। ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে বাজারে নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এবার সয়াবিন তেলের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।