বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৭৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে মিরাজের পারফরম্যান্সকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেকেই। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর তার অধিনায়কত্ব নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। এর পর থেকেই গুঞ্জন ছিল, অধিনায়কত্ব হারাতে যাচ্ছেন মিরাজ। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভায় মিরাজকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মিরাজের পর ওয়ানডের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে। তিনি আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বিশ্বাস, একই অধিনায়কের নেতৃত্বে দুই সংস্করণের সাদা বলের ক্রিকেট পরিচালিত হলে দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে আরও বেশি ধারাবাহিকতা আসবে।

এর মাধ্যমে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব শেষ হলো মিরাজের। ২০২৫ সালের জুনে নেতৃত্ব পাওয়ার পর তার অধীনে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছিল। সেই সময়ে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন লিটন। জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে তার নেতৃত্ব ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। এবার ওয়ানডের দায়িত্বও পাওয়ায় বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্তই। অর্থাৎ বিসিবি আবারও দুই অধিনায়কের কাঠামোয় ফিরেছে টেস্টে শান্ত এবং ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন।

মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ২০২৪ সালে হুট করেই নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিরাজ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে ১০টি, হেরেছে ১৩টি এবং একটি ম্যাচের ফল হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ১০টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে মিরাজের জয়ের হার ৪৩.৭৫ শতাংশ। এই তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। তার ওপরে রয়েছেন শুধু মাশরাফি বিন মর্তুজা, যার জয়ের হার ৫৮.১৩ শতাংশ এবং সাকিব আল হাসান, যার জয়ের হার ৪৪.২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে লিটন দাস এর আগে নিয়মিত অধিনায়ক অনুপস্থিত থাকলে একাধিকবার দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন পর্যন্ত সাতটি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সেই সাত ম্যাচে বাংলাদেশের জয় তিনটি, হার তিনটি এবং একটি ম্যাচের কোনো ফল হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট হাতে খুব একটা সফল হতে পারেননি। ২৯.৮০ গড়ে করেছেন ১৪৯ রান।

লিটনের নেতৃত্বে এবার সাদা বলের দুই সংস্করণেই নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট অঙ্গন। বিসিবির প্রত্যাশা, ব্যাট হাতে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই ক্রিকেটার নেতৃত্বেও বাংলাদেশকে আরও ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে পারবেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন

বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন

প্রকাশের সময় : ০৮:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে মিরাজের পারফরম্যান্সকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেকেই। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর তার অধিনায়কত্ব নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। এর পর থেকেই গুঞ্জন ছিল, অধিনায়কত্ব হারাতে যাচ্ছেন মিরাজ। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভায় মিরাজকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মিরাজের পর ওয়ানডের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে। তিনি আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বিশ্বাস, একই অধিনায়কের নেতৃত্বে দুই সংস্করণের সাদা বলের ক্রিকেট পরিচালিত হলে দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে আরও বেশি ধারাবাহিকতা আসবে।

এর মাধ্যমে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব শেষ হলো মিরাজের। ২০২৫ সালের জুনে নেতৃত্ব পাওয়ার পর তার অধীনে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছিল। সেই সময়ে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন লিটন। জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে তার নেতৃত্ব ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। এবার ওয়ানডের দায়িত্বও পাওয়ায় বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্তই। অর্থাৎ বিসিবি আবারও দুই অধিনায়কের কাঠামোয় ফিরেছে টেস্টে শান্ত এবং ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন।

মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ২০২৪ সালে হুট করেই নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিরাজ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে ১০টি, হেরেছে ১৩টি এবং একটি ম্যাচের ফল হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ১০টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে মিরাজের জয়ের হার ৪৩.৭৫ শতাংশ। এই তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। তার ওপরে রয়েছেন শুধু মাশরাফি বিন মর্তুজা, যার জয়ের হার ৫৮.১৩ শতাংশ এবং সাকিব আল হাসান, যার জয়ের হার ৪৪.২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে লিটন দাস এর আগে নিয়মিত অধিনায়ক অনুপস্থিত থাকলে একাধিকবার দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন পর্যন্ত সাতটি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সেই সাত ম্যাচে বাংলাদেশের জয় তিনটি, হার তিনটি এবং একটি ম্যাচের কোনো ফল হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট হাতে খুব একটা সফল হতে পারেননি। ২৯.৮০ গড়ে করেছেন ১৪৯ রান।

লিটনের নেতৃত্বে এবার সাদা বলের দুই সংস্করণেই নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট অঙ্গন। বিসিবির প্রত্যাশা, ব্যাট হাতে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই ক্রিকেটার নেতৃত্বেও বাংলাদেশকে আরও ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে পারবেন।