নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৭ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রনাথের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। মালয়েশিয়া সফরকালে আগামী ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন, পরে উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক সংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগসহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের মতো বিষয় হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এ সফরে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া, বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করার লক্ষে টার্মস অফ রেফারেন্স বিনিময় ছাড়াও আরও কিছু দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত দলিল আলোচনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হচ্ছে না।
আসাদ আল সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের আরও কর্মী নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করব। তবে আপনারা জানেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ সব দেশের বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছে। আমরা আশা করি, এই রিভিউ প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। তবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু শ্রমবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম মুসলিম দেশ, যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এছাড়া আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও মালয়েশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জোরালো সমর্থক।
তিনি আরও জানান, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিনিময় হতে পারে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















