Dhaka মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাহিদ রানার ৫ উইকেট, পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১৮৪ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শেষ সেশনটা যে রোমাঞ্চের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, সে রোমাঞ্চের দেখা মিলল না। বাংলাদেশ অবশ্য তাতে খুশিই হবে। নাহিদ রানা একা ৫ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন পাকিস্তানের লোয়ার মিডল অর্ডার। আর তাতেই ১০৪ রানের জয় নিশ্চিত হয়ে গেল। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা। এটাই ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

প্রথম চার দিনের দুই দিন বৃষ্টিতে খেলা অনেকটা সময় বন্ধ থাকায় শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শুধু পাকিস্তানই ছিল না, সময়ও ছিল বড় বাধা। কিন্তু প্রকৃতি আর সময়কে হারিয়ে, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল আদায় করে নিল দারুণ এক জয়।

শেষ দিনে মঙ্গলবার প্রথম সেশনে যখন ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, ম্যাচের বাকি ছিল ৭৬ ওভার। আলোকস্বল্পতার কারণে নিশ্চিতভাবেই সবগুলো ওভার পাওয়া যেতই না। কিন্তু শেষ বিকেলে নাহিদ রানার বিধ্বংসী এক স্পেলে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করে দেয় ২৩.১ ওভার বাকি রেখেই।

২৬৮ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ ১৬৩ রানে। দুই বছর আগে পাকিস্তানের মাঠে টেস্ট সিরিজেই বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। এবার দেখালেন, সময় তাকে করে তুলেছে কতটা ক্ষুরধার। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে তার প্রাপ্তি ৪০ রানে ৫ উইকেট।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় প্রথমবার চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার।

নাহিদের গোলায় পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেটের পতন হয় ১১ রানে।

সকালে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ১৬ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম মিড অফে ক্যাচ দেন আর ৬ রান যোগ করেই। শাহিন শাহ আফ্রিদির শর্ট বলে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন লিটন কুমার দাস (২৮ বলে ১১)।

৫৮ রানে দিন শুরু করা নাজমুল হোসেন শান্ত এগিয়ে যাচ্ছিলেন ম্যাচে দ্বিতীয় শতরানের দিকে। আগেও দুই দফায় এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান এবার শেষ পর্যন্ত পারেননি একটুর জন্য। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় নোমান আলিকে সুইপ, রিভার্স সুইপ খেলছিলেন তিনি। সেই চেষ্টাতেই ৮৭ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যান রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে।

সেই সময় দ্রুত রানের দাবি কিছুটা মেটান মেহেদী হাসান মিরাজ। তিন চার ও এক ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। দশে নেমে একটি ছক্কা ও চার মারেন তাসকিন আহমেদ। লাঞ্চের আগে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে সেই ইনিংস ঘোষণা, তা পূরণ হয়েও যায়। লাঞ্চের আগেই ধরা দেয় উইকেট। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফেরান ইমাম-উল-হাককে।

প্রথম ইনিংসে শতরানের জুটি গড়া দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজাল আবার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে জুটি এবার ৫৪ রানে থামান মিরাজ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান বোল্ড হয়ে যান ১৫ রান করে।

আগের ইনিংসে ফিফটি করা ফাজাল দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন আরও সাবলিল। অভিষেকে দ্বিতীয় ফিফটি করে ফেলেন তিনি ১০টি চার মেরে। সালমান আলি আগার সঙ্গে তার জুটি বাংলাদেশকে হতাশায় রাখে অনেকটা সময়।

শেষ সেশনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেটের, পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ তখন ৪৫ ওভারে ১৫২।

চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই আসে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু। তাইজুল ইসলামের দারুণ ফ্লাইট ও তীক্ষ্ণ টার্ন করা ধ্রুপদি ডেলিভারি ফাজালকে থামায় ৬৬ রানে।

পরের ওভারে তাসকিন যখন ফেরালেন সালমানকে (৩৯ বলে ২৬), মিরপুরের বাতাসেও তখন যেন জয়ের আভা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

পরের ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে প্রথম বলে এলবিডব্লিউ করে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায়, অনেকটা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বল চলে যাচ্ছিল স্টাম্পের বাইরে।

এরপর ‘ইশ-উশ’ মুহূর্ত আসে বেশ কয়েকবার, সাউদ শাকিল একবার সামান্য একটুর জন্য বেঁচে যান ইম্প্যাক্ট আম্পায়ার্স কল হওয়ায়। তবে খুব বেশি সময় হাহুতাশ করতে হয়নি দলকে।

নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে আরও বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে আলগা শটে উইকেট হারান শাকিল। ব্যস, শেষের দুয়ার খুলে যায় পাকিস্তানের।

নাহিদেরই ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির অসাধারণ রিভার্স সুইঙ্গিং ডেলিভারির কিছুই বুঝতে না পেরে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলারের গতিতে পরাস্ত হন নোমান আলিও।

মাঝে হাসান আলিকে বিদায় করেন তাইজুল। ম্যাচের শৈষটা তো নাহিদের হাত ধরেই হতে হতো!

বাউন্সারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি জয় নিশ্চিত করে হুঙ্কার ছোড়েন নাহিদ। ধ্রুপদি এক জয়ের স্বাক্ষী হওয়ার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন দর্শকেরা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কর দিতে হবে না যেসব মোটরসাইকেলে

নাহিদ রানার ৫ উইকেট, পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

প্রকাশের সময় : ০৬:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শেষ সেশনটা যে রোমাঞ্চের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, সে রোমাঞ্চের দেখা মিলল না। বাংলাদেশ অবশ্য তাতে খুশিই হবে। নাহিদ রানা একা ৫ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন পাকিস্তানের লোয়ার মিডল অর্ডার। আর তাতেই ১০৪ রানের জয় নিশ্চিত হয়ে গেল। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা। এটাই ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

প্রথম চার দিনের দুই দিন বৃষ্টিতে খেলা অনেকটা সময় বন্ধ থাকায় শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শুধু পাকিস্তানই ছিল না, সময়ও ছিল বড় বাধা। কিন্তু প্রকৃতি আর সময়কে হারিয়ে, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল আদায় করে নিল দারুণ এক জয়।

শেষ দিনে মঙ্গলবার প্রথম সেশনে যখন ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, ম্যাচের বাকি ছিল ৭৬ ওভার। আলোকস্বল্পতার কারণে নিশ্চিতভাবেই সবগুলো ওভার পাওয়া যেতই না। কিন্তু শেষ বিকেলে নাহিদ রানার বিধ্বংসী এক স্পেলে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করে দেয় ২৩.১ ওভার বাকি রেখেই।

২৬৮ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ ১৬৩ রানে। দুই বছর আগে পাকিস্তানের মাঠে টেস্ট সিরিজেই বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। এবার দেখালেন, সময় তাকে করে তুলেছে কতটা ক্ষুরধার। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে তার প্রাপ্তি ৪০ রানে ৫ উইকেট।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় প্রথমবার চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার।

নাহিদের গোলায় পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেটের পতন হয় ১১ রানে।

সকালে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ১৬ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম মিড অফে ক্যাচ দেন আর ৬ রান যোগ করেই। শাহিন শাহ আফ্রিদির শর্ট বলে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন লিটন কুমার দাস (২৮ বলে ১১)।

৫৮ রানে দিন শুরু করা নাজমুল হোসেন শান্ত এগিয়ে যাচ্ছিলেন ম্যাচে দ্বিতীয় শতরানের দিকে। আগেও দুই দফায় এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান এবার শেষ পর্যন্ত পারেননি একটুর জন্য। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় নোমান আলিকে সুইপ, রিভার্স সুইপ খেলছিলেন তিনি। সেই চেষ্টাতেই ৮৭ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যান রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে।

সেই সময় দ্রুত রানের দাবি কিছুটা মেটান মেহেদী হাসান মিরাজ। তিন চার ও এক ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। দশে নেমে একটি ছক্কা ও চার মারেন তাসকিন আহমেদ। লাঞ্চের আগে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে সেই ইনিংস ঘোষণা, তা পূরণ হয়েও যায়। লাঞ্চের আগেই ধরা দেয় উইকেট। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফেরান ইমাম-উল-হাককে।

প্রথম ইনিংসে শতরানের জুটি গড়া দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজাল আবার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে জুটি এবার ৫৪ রানে থামান মিরাজ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান বোল্ড হয়ে যান ১৫ রান করে।

আগের ইনিংসে ফিফটি করা ফাজাল দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন আরও সাবলিল। অভিষেকে দ্বিতীয় ফিফটি করে ফেলেন তিনি ১০টি চার মেরে। সালমান আলি আগার সঙ্গে তার জুটি বাংলাদেশকে হতাশায় রাখে অনেকটা সময়।

শেষ সেশনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেটের, পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ তখন ৪৫ ওভারে ১৫২।

চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই আসে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু। তাইজুল ইসলামের দারুণ ফ্লাইট ও তীক্ষ্ণ টার্ন করা ধ্রুপদি ডেলিভারি ফাজালকে থামায় ৬৬ রানে।

পরের ওভারে তাসকিন যখন ফেরালেন সালমানকে (৩৯ বলে ২৬), মিরপুরের বাতাসেও তখন যেন জয়ের আভা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

পরের ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে প্রথম বলে এলবিডব্লিউ করে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায়, অনেকটা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বল চলে যাচ্ছিল স্টাম্পের বাইরে।

এরপর ‘ইশ-উশ’ মুহূর্ত আসে বেশ কয়েকবার, সাউদ শাকিল একবার সামান্য একটুর জন্য বেঁচে যান ইম্প্যাক্ট আম্পায়ার্স কল হওয়ায়। তবে খুব বেশি সময় হাহুতাশ করতে হয়নি দলকে।

নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে আরও বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে আলগা শটে উইকেট হারান শাকিল। ব্যস, শেষের দুয়ার খুলে যায় পাকিস্তানের।

নাহিদেরই ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির অসাধারণ রিভার্স সুইঙ্গিং ডেলিভারির কিছুই বুঝতে না পেরে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলারের গতিতে পরাস্ত হন নোমান আলিও।

মাঝে হাসান আলিকে বিদায় করেন তাইজুল। ম্যাচের শৈষটা তো নাহিদের হাত ধরেই হতে হতো!

বাউন্সারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি জয় নিশ্চিত করে হুঙ্কার ছোড়েন নাহিদ। ধ্রুপদি এক জয়ের স্বাক্ষী হওয়ার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন দর্শকেরা।