Dhaka মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘর প্রমাণ করবে গণতন্ত্রের জন্য হাসিমুখে জীবন দেওয়া যায় : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রমাণ করবে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে। তিনি বলেন, এই জাদুঘর হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশাল সম্পদ।

মঙ্গলবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা মানুষকে গুলি করে হত্যার নির্দেশনা দিয়েছেন। অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা যে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কলরেকর্ড আছে এই জাদুঘরে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে কলঙ্কিত থাকবে।

স্পিকার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ এবং সে সময়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্য, এ জাদুঘর গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সংরক্ষিত অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, এই জাদুঘর প্রমাণ করবে যে, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মানুষ আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত থাকে। ভবিষ্যতে এটি দেশের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজ আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এসেছি। আমরা এই জাদুঘরটি দেখে অভিভূত হয়েছি। এখানে বর্ণিত হয়েছে বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মহান ইতিহাস। স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন এবং সর্বশেষে জুলাই-আগস্টের মহান গণঅভ্যুত্থানের চিত্র অত্যন্ত চমৎকারভাবে এখানে ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসকে জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য। এটি দেখলে অশ্রু সংবরণ করা অত্যন্ত কঠিন। যেভাবে এ দেশের তরুণ-কিশোর-শিশুরা জীবন দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই জাদুঘর এবং জুলাই-আগস্টের যে মহান গণঅভ্যুত্থান, এটি বাংলাদেশের মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। এখানে শহীদদের লেখা কয়েকটি চিঠি আছে। যাদের বুক পকেটে এ চিঠি ছিল, তারা তাদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখে গিয়েছেন। গণভবনের উদ্দেশে ছুটে আসা লাখো মানুষের রাজপথের চিত্রও অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্যোগদাতাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মাফিয়া শেখ হাসিনা তার খুনিদের সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কলরেকর্ডও গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রমাণ করবে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে। এ জাদুঘর হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশাল সম্পদ।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই ও আগস্টে যারা গুম হয়েছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শতাব্দীর জন্য শিক্ষণীয়। ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে দেশের দামাল ছেলেরা কীভাবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই জাদুঘর তারই প্রতিবিম্ব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে উজ্জীবিত রাখাসহ আগামী প্রজন্মের জন্য এটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে। আপনারা শুনেছেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সময়ের বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জুলাই জাদুঘর প্রমাণ করবে গণতন্ত্রের জন্য হাসিমুখে জীবন দেওয়া যায় : স্পিকার

জুলাই জাদুঘর প্রমাণ করবে গণতন্ত্রের জন্য হাসিমুখে জীবন দেওয়া যায় : স্পিকার

প্রকাশের সময় : ০৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রমাণ করবে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে। তিনি বলেন, এই জাদুঘর হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশাল সম্পদ।

মঙ্গলবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা মানুষকে গুলি করে হত্যার নির্দেশনা দিয়েছেন। অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা যে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কলরেকর্ড আছে এই জাদুঘরে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে কলঙ্কিত থাকবে।

স্পিকার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ এবং সে সময়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্য, এ জাদুঘর গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সংরক্ষিত অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, এই জাদুঘর প্রমাণ করবে যে, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মানুষ আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত থাকে। ভবিষ্যতে এটি দেশের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজ আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এসেছি। আমরা এই জাদুঘরটি দেখে অভিভূত হয়েছি। এখানে বর্ণিত হয়েছে বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মহান ইতিহাস। স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন এবং সর্বশেষে জুলাই-আগস্টের মহান গণঅভ্যুত্থানের চিত্র অত্যন্ত চমৎকারভাবে এখানে ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসকে জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য। এটি দেখলে অশ্রু সংবরণ করা অত্যন্ত কঠিন। যেভাবে এ দেশের তরুণ-কিশোর-শিশুরা জীবন দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই জাদুঘর এবং জুলাই-আগস্টের যে মহান গণঅভ্যুত্থান, এটি বাংলাদেশের মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। এখানে শহীদদের লেখা কয়েকটি চিঠি আছে। যাদের বুক পকেটে এ চিঠি ছিল, তারা তাদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখে গিয়েছেন। গণভবনের উদ্দেশে ছুটে আসা লাখো মানুষের রাজপথের চিত্রও অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্যোগদাতাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মাফিয়া শেখ হাসিনা তার খুনিদের সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কলরেকর্ডও গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রমাণ করবে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে। এ জাদুঘর হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশাল সম্পদ।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই ও আগস্টে যারা গুম হয়েছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শতাব্দীর জন্য শিক্ষণীয়। ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে দেশের দামাল ছেলেরা কীভাবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই জাদুঘর তারই প্রতিবিম্ব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে উজ্জীবিত রাখাসহ আগামী প্রজন্মের জন্য এটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে। আপনারা শুনেছেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সময়ের বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করা হয়েছে।