Dhaka মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লী চিকিৎসক হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রায় ৭ বছর আগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার দায়ে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত এসব আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

‎‎মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাবলু সরদার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আতর আলীর ছেলে।

‎‎এদিকে রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৩ আসামিকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ‎খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- কামরুল শেখ,কবির শেখ, সামাদ শেখ, আফতার শেখ, আমজাদ শেখ, জহুরুল মন্ডল, মিন্টু মোল্যা, জাকিরুল শেখ, সবুজ মন্ডল, সাইদুল মোল্যা ও ছাত্তার খা।

‎‎মামলার বিচার চলাকালে মতিয়ার এবং আলাল সর্দার (মাঝি) মারা যাওয়ায় তাদেরও খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন।

‎‎‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম মন্ডল গোয়ালন্দ থানার দেব গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতর আলীর অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তবে নির্বাচনে আতর আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন হাফিজুল ইসলাম।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে নজরুল ইসলাম ও আতর আলী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পূর্ব প্রস্তুতি দেব গ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সম্মেলন ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দেব গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে বিজয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান হাজির হন।

আতর আলীর লোকজন সম্মেলনে হট্টগোল, চিৎকার করে যাচ্ছিল। নেতৃবৃন্দ তাদের শান্ত করেন। একপর্যায়ে বাবলু সরদার সম্মেলন স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা পরামর্শ করে আতর আলী তিন রাস্তা মোড়ে অস্ত্র -শস্ত্র সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। হাফিজুল ইসলামের কর্মী নিজাম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাকে মারধর করে।

এ খবর শুনে বিষয়টি জানতে আবু ডাক্তার সেখানে যান। এ সময় তারা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবু ডাক্তার।

‎‎এ ঘটনায় আবু ডাক্তারের বাবা মোবারক মোল্লা পরদিন গোয়ালন্দঘাট থানায় ৩৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।‎মামলাটি তদন্ত করে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের এসআই নজরুল ইসলাম ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন ।

‎‎২০২২ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু বুধবার

পল্লী চিকিৎসক হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রায় ৭ বছর আগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার দায়ে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত এসব আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

‎‎মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাবলু সরদার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আতর আলীর ছেলে।

‎‎এদিকে রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৩ আসামিকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ‎খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- কামরুল শেখ,কবির শেখ, সামাদ শেখ, আফতার শেখ, আমজাদ শেখ, জহুরুল মন্ডল, মিন্টু মোল্যা, জাকিরুল শেখ, সবুজ মন্ডল, সাইদুল মোল্যা ও ছাত্তার খা।

‎‎মামলার বিচার চলাকালে মতিয়ার এবং আলাল সর্দার (মাঝি) মারা যাওয়ায় তাদেরও খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন।

‎‎‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম মন্ডল গোয়ালন্দ থানার দেব গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতর আলীর অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তবে নির্বাচনে আতর আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন হাফিজুল ইসলাম।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে নজরুল ইসলাম ও আতর আলী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পূর্ব প্রস্তুতি দেব গ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সম্মেলন ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দেব গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে বিজয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান হাজির হন।

আতর আলীর লোকজন সম্মেলনে হট্টগোল, চিৎকার করে যাচ্ছিল। নেতৃবৃন্দ তাদের শান্ত করেন। একপর্যায়ে বাবলু সরদার সম্মেলন স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা পরামর্শ করে আতর আলী তিন রাস্তা মোড়ে অস্ত্র -শস্ত্র সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। হাফিজুল ইসলামের কর্মী নিজাম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাকে মারধর করে।

এ খবর শুনে বিষয়টি জানতে আবু ডাক্তার সেখানে যান। এ সময় তারা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবু ডাক্তার।

‎‎এ ঘটনায় আবু ডাক্তারের বাবা মোবারক মোল্লা পরদিন গোয়ালন্দঘাট থানায় ৩৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।‎মামলাটি তদন্ত করে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের এসআই নজরুল ইসলাম ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন ।

‎‎২০২২ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।