নিজস্ব প্রতিবেদক :
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং পলিসিগত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নেতৃত্ব স্থানে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত সম্ভব না। আন্দোলনের মাঠে নারীরা সামনে থাকলেও পদ কিংবা পদবির ক্ষেত্রে পিছিয়ে। পুরুষের তুলনায় নারীকে বেশি কাজ করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব: বাংলাদেশে তরুণ নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যত বেশি নারীরা শিক্ষিত হবে তত বেশি নারী স্বনির্ভর হবে এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে, সেক্ষেত্রে সরকার নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগ দিচ্ছে। জেলা উপজেলা কমিটিগুলোতে ৩০-৩৫ ভাগ নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে মূল জায়গায় পরিবর্তন আসবে না।
সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবে তরুণ নারীদের অসামান্য ভূমিকার প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা এসব নারীদের রাজপথে দেখা গেলেও পরবর্তী রাজনৈতিক দলীয় কমিটিগুলোতে কেন তাদের সেভাবে দেখা যায় না? এটি আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতারই প্রতিফলন, যা দ্রুত পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা ও গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ ও দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ছয় মাসে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। আমরা তিনটির মতো নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না।
তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে কাজের সুবিধার্থে এবং গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, সে অনুযায়ী টিমওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করব।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মক্কা প্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় বা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত সরকার নিজেই নেবে। আর এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমই তা আগে জানতে পারবে। বিদেশি কোনো দেশের গণমাধ্যমে কী আসছে, তা দেখে আমাদের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।
ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটু এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদারসহ অনেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















