Dhaka শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে : নাহিদ ইসলাম

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আমরা এজন্য কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুসলমান এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের।

তিনি বলেন, আমি সংসদেও এটা বলেছি, সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এটার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। নির্বাচনের পরেও সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটা কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শত্রুপক্ষ যারা বাংলাদেশবিরোধী, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তারা নানা উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, নানা প্রোপাগান্ডা করবে। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমরা এটা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে বাংলার মুসলমান, দলিত, মতুয়া সম্প্রদায়সহ সকলের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজ যারা নতুন করে যোগদান দিচ্ছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে- আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখব না। যে যেখান থেকেই আসুন না কেন, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুসারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কারণ ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশে আবার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।বাংলাদেশে জুলাই গণহত্যা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি এনসিপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি সংসদ এবং রাজপথে। আন্দোলনে আমাদের অনেক বোন রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব জাতীয় নাগরিক পার্টিকেই (এনসিপি) নিতে হবে বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনসিপিকেই নিতে হবে। এ জন্য তরুণ প্রজন্ম ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাইকে সংসদ ও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের হাজারো নারী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত রাখা যায়নি, যা সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ভবিষ্যতে নারীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশে হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, শুধু আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। বর্তমান সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। শিশুদের সুচিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঐক্যই এনসিপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি চট্টগ্রামের বিপ্লবী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, সূর্যসেন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত এ অঞ্চলের সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। সেই চেতনা ধারণ করেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

আবহাওয়া

দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে : নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের সময় : ১০:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আমরা এজন্য কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুসলমান এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের।

তিনি বলেন, আমি সংসদেও এটা বলেছি, সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এটার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। নির্বাচনের পরেও সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটা কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শত্রুপক্ষ যারা বাংলাদেশবিরোধী, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তারা নানা উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, নানা প্রোপাগান্ডা করবে। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমরা এটা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে বাংলার মুসলমান, দলিত, মতুয়া সম্প্রদায়সহ সকলের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজ যারা নতুন করে যোগদান দিচ্ছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে- আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখব না। যে যেখান থেকেই আসুন না কেন, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুসারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কারণ ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশে আবার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।বাংলাদেশে জুলাই গণহত্যা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি এনসিপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি সংসদ এবং রাজপথে। আন্দোলনে আমাদের অনেক বোন রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব জাতীয় নাগরিক পার্টিকেই (এনসিপি) নিতে হবে বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনসিপিকেই নিতে হবে। এ জন্য তরুণ প্রজন্ম ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাইকে সংসদ ও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের হাজারো নারী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত রাখা যায়নি, যা সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ভবিষ্যতে নারীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশে হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, শুধু আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। বর্তমান সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। শিশুদের সুচিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঐক্যই এনসিপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি চট্টগ্রামের বিপ্লবী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, সূর্যসেন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত এ অঞ্চলের সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। সেই চেতনা ধারণ করেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।