বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের সড়ক যোগাযোগকে আরও কার্যকর করবে। একই সঙ্গে এটি যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
একসময় প্রকল্পটির কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে।’
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজের গতি আরো বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং যৌথ সহযোগিতাকে দেশের পরিকাঠামো বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন একটি পরীক্ষিত বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও বড় আকারের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে এক আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি’-র প্রেসিডেন্ট ও সংশোধিত ডিপিপি কাজের গুণগত মান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানির দক্ষতার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মান বজায় রেখে গত ছয় মাসে কাজের গতি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো প্রকার অপচয় ছাড়াই জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন ডিপিপি সংশোধন করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চীন সরকার এবং সেখানকার বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। এ ছাড়া সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী, ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, সার্ভিস সেতুতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং অবৈধ পার্কিং না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ঢাকা-আশুলিয়া করিডোরে যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য ও মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















