চট্টগ্রামে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৯

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েত কাউছার বলেন, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জন মারা গেছেন।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫)। তারা সম্পর্কে দুই ভাই এবং সেকান্দর মিয়ার ছেলে। নিহত অপর দুজন সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯)। তারা সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. খোকন (৪০) এবং মো. রানা (২৭) রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫-২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ অবশ্য জানান, হতাহতদের অনেকে শ্রমিক নন, উৎসুক জনতা। তিনি বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজ হয়। স্থানীয় অনেকে বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন।

হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আঙ্গুর মিয়া বলেন, শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কাজ করছিল। তখন গ্যাস ট্যাংকিতে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের মধ্যে আমি দুজনকে চিনি। তারা গাইবান্ধা জেলার মানুষ।

নিহতদের একজন মনছুরের স্ত্রীর ভাই মহিউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখনো মালিকপক্ষের কেউ আসেনি। মনছুর ও নাছির দুই ভাই মারা গেছেন। তারা ভাটিয়ারির বাসিন্দা।

ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রথমে এটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো জানা যায়নি। গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫২ নেতাকর্মী কারাগারে

চট্টগ্রামে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৯

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েত কাউছার বলেন, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জন মারা গেছেন।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫)। তারা সম্পর্কে দুই ভাই এবং সেকান্দর মিয়ার ছেলে। নিহত অপর দুজন সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯)। তারা সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. খোকন (৪০) এবং মো. রানা (২৭) রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫-২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ অবশ্য জানান, হতাহতদের অনেকে শ্রমিক নন, উৎসুক জনতা। তিনি বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজ হয়। স্থানীয় অনেকে বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন।

হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আঙ্গুর মিয়া বলেন, শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কাজ করছিল। তখন গ্যাস ট্যাংকিতে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের মধ্যে আমি দুজনকে চিনি। তারা গাইবান্ধা জেলার মানুষ।

নিহতদের একজন মনছুরের স্ত্রীর ভাই মহিউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখনো মালিকপক্ষের কেউ আসেনি। মনছুর ও নাছির দুই ভাই মারা গেছেন। তারা ভাটিয়ারির বাসিন্দা।

ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রথমে এটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো জানা যায়নি। গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।