আ. লীগ রাজনৈতিক দল নয়, এটি মাফিয়া গ্যাং : তথ্য উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। তাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকার কাউকে ছাড় দেবে না।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও ইরিটেটিং (অস্বস্তিকর) বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত সেখানে বসে তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে শেখ হাসিনার আর আপিল করার সুযোগ নেই। তাকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি ভারতের ওপর চাপ তৈরির কোনো কৌশল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের অনুমান সঠিক নয়। প্রত্যর্পণের দাবি কোনো কৌশল নয়। ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও থাকবে না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এরকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন, এটি বাংলাদেশের সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত।

প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ, উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করব ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটা বার্তা দেবে। শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বছরে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু গ্যাস নয়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই তরল জ্বালানি, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সংকটও দেখা দিয়েছিল। এ কারণে দেশের রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি খাতের সার পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ১২ দশমিক ২৯৪ লাখ টন সার মজুত রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান মজুতের সঙ্গে পাইপলাইনে থাকা আমদানি যোগ করলে আগামী অর্থবছরের মোট চাহিদার তুলনায় সারের সরবরাহ বেশি থাকবে। কোথাও কোথাও বিতরণে কিছু সমস্যা হয়েছে, তবে মজুতের কারণে সার নিয়ে কোনো সংকট নেই।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে কখনো ৫০ লাখ, আবার কখনো ৪৫ লাখ মানুষকে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান অর্থবছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ মাসের পরিবর্তে ছয় মাস এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময় সুবিধাভোগীরা কর্মসূচির আওতায় থাকবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সহজীকরণেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ইইউ চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টি বাংলাদেশ সমাধান করেছে। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার পরও অনেক সময় শুল্কবহির্ভূত বাধা রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে।

বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও সরকারের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। গত ৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রস্তাবিত দাম নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দাম অনেকের কাছে বেশি মনে হতে পারে। তবে এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, একই সঙ্গে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বা তারও বেশি বর্জ্য উৎপাদিত হয়। বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এসব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে। জ্বালানি তেল বা এলএনজির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় একই ধরনের বা কাছাকাছি ব্যয় হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫৯৫ টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি মৎস্য খাতে নিয়মিত অভিযান ও শাস্তিমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজে সক্ষমতা বাড়াতে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। এরই মধ্যে ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডেটাবেস তৈরি হয়েছে এবং প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা এবং বিশেষজ্ঞদের বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা এতে থাকবেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বৈশ্বিক বিভিন্ন জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমকেও ভবিষ্যতে কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের অভিযানে ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৩০ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযানে ১২ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা, ৩ কেজি ৬৩৪ গ্রাম হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাবের অভিযানে ৮৫টি অস্ত্র, ২ দশমিক ৮০৮ কেজি হেরোইন, ১ হাজার ৪৯৪ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮৭ কেজি গাঁজা ও ২ লাখ ২২ হাজার ২৮১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের কাছ থেকে চুরি যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক কোনো আর্থিক চাপ তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বোয়িং কেনার অর্থ পরিশোধ একসঙ্গে করতে হবে না, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ করা হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসও কেনা হবে।

বোয়িং কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার খুবই খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হাতে পেয়েছে, এটি সত্য। তবে রাষ্ট্র সংকটে থাকলেও তার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নতুন বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, আমরা যে বোয়িং কেনার কথা বলছি, এই বোয়িংগুলোর পেমেন্ট এখন থেকে ধাপে ধাপে অনেক দিন পর্যন্ত হতে থাকবে। আর এই বোয়িংগুলো হাতে পাওয়া আমাদের জন্য লম্বা সময়ের ব্যাপার। সুতরাং এক্ষুনি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকা দিয়ে দিতে হবে, বিষয়টা মোটেও তা নয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র তার প্রয়োজন অনুযায়ী চলবে। সংকট থাকলেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মেটাতে হবে। নতুন বোয়িংয়ের অর্ডারের কোনো ‘ইমিডিয়েট ইফেক্ট’ নেই। সরকারের আত্মবিশ্বাস, খুব বেশি সময় লাগবে না এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ কেনার ফলে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না। এয়ারবাসও কেনা হবে।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার সম্ভাবনা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ এয়ারবাসও কিনবে এমন কথা সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বোয়িং পরিচালনা করায় এই উড়োজাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহায়ক জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা অনেকটাই প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি পছন্দ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে এর অর্থ এয়ারবাসকে বাদ দেওয়া নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এয়ারবাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে। ফলে একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে সামনে আনার কোনো বিষয় নেই।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : রিজভী

আ. লীগ রাজনৈতিক দল নয়, এটি মাফিয়া গ্যাং : তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। তাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকার কাউকে ছাড় দেবে না।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও ইরিটেটিং (অস্বস্তিকর) বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত সেখানে বসে তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে শেখ হাসিনার আর আপিল করার সুযোগ নেই। তাকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি ভারতের ওপর চাপ তৈরির কোনো কৌশল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের অনুমান সঠিক নয়। প্রত্যর্পণের দাবি কোনো কৌশল নয়। ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও থাকবে না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এরকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন, এটি বাংলাদেশের সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত।

প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ, উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করব ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটা বার্তা দেবে। শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বছরে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু গ্যাস নয়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই তরল জ্বালানি, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সংকটও দেখা দিয়েছিল। এ কারণে দেশের রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি খাতের সার পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ১২ দশমিক ২৯৪ লাখ টন সার মজুত রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান মজুতের সঙ্গে পাইপলাইনে থাকা আমদানি যোগ করলে আগামী অর্থবছরের মোট চাহিদার তুলনায় সারের সরবরাহ বেশি থাকবে। কোথাও কোথাও বিতরণে কিছু সমস্যা হয়েছে, তবে মজুতের কারণে সার নিয়ে কোনো সংকট নেই।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে কখনো ৫০ লাখ, আবার কখনো ৪৫ লাখ মানুষকে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান অর্থবছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ মাসের পরিবর্তে ছয় মাস এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময় সুবিধাভোগীরা কর্মসূচির আওতায় থাকবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সহজীকরণেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ইইউ চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টি বাংলাদেশ সমাধান করেছে। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার পরও অনেক সময় শুল্কবহির্ভূত বাধা রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে।

বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও সরকারের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। গত ৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রস্তাবিত দাম নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দাম অনেকের কাছে বেশি মনে হতে পারে। তবে এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, একই সঙ্গে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বা তারও বেশি বর্জ্য উৎপাদিত হয়। বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এসব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে। জ্বালানি তেল বা এলএনজির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় একই ধরনের বা কাছাকাছি ব্যয় হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫৯৫ টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি মৎস্য খাতে নিয়মিত অভিযান ও শাস্তিমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজে সক্ষমতা বাড়াতে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। এরই মধ্যে ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডেটাবেস তৈরি হয়েছে এবং প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা এবং বিশেষজ্ঞদের বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা এতে থাকবেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বৈশ্বিক বিভিন্ন জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমকেও ভবিষ্যতে কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের অভিযানে ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৩০ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযানে ১২ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা, ৩ কেজি ৬৩৪ গ্রাম হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাবের অভিযানে ৮৫টি অস্ত্র, ২ দশমিক ৮০৮ কেজি হেরোইন, ১ হাজার ৪৯৪ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮৭ কেজি গাঁজা ও ২ লাখ ২২ হাজার ২৮১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের কাছ থেকে চুরি যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক কোনো আর্থিক চাপ তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বোয়িং কেনার অর্থ পরিশোধ একসঙ্গে করতে হবে না, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ করা হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসও কেনা হবে।

বোয়িং কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার খুবই খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হাতে পেয়েছে, এটি সত্য। তবে রাষ্ট্র সংকটে থাকলেও তার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নতুন বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, আমরা যে বোয়িং কেনার কথা বলছি, এই বোয়িংগুলোর পেমেন্ট এখন থেকে ধাপে ধাপে অনেক দিন পর্যন্ত হতে থাকবে। আর এই বোয়িংগুলো হাতে পাওয়া আমাদের জন্য লম্বা সময়ের ব্যাপার। সুতরাং এক্ষুনি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকা দিয়ে দিতে হবে, বিষয়টা মোটেও তা নয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র তার প্রয়োজন অনুযায়ী চলবে। সংকট থাকলেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মেটাতে হবে। নতুন বোয়িংয়ের অর্ডারের কোনো ‘ইমিডিয়েট ইফেক্ট’ নেই। সরকারের আত্মবিশ্বাস, খুব বেশি সময় লাগবে না এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ কেনার ফলে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না। এয়ারবাসও কেনা হবে।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার সম্ভাবনা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ এয়ারবাসও কিনবে এমন কথা সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বোয়িং পরিচালনা করায় এই উড়োজাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহায়ক জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা অনেকটাই প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি পছন্দ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে এর অর্থ এয়ারবাসকে বাদ দেওয়া নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এয়ারবাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে। ফলে একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে সামনে আনার কোনো বিষয় নেই।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।