চলতি বছরে এইডসে নতুন আক্রান্ত ১৪৩৮ জন

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৩১৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে এইচআইভি পজিটিভ বা এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) বাংলাদেশে নতুন করে এক হাজার ৪৩৮ জন এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই সমকামী, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

আগে এইডস আক্রান্তদের মাঝে অভিবাসী কর্মী ও শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেলেও এবার সমকামীদের হার বেশি।

দেশের এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার (১ ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব এইডস দিবস’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘অধিকার নিশ্চিত হলে, এইচআইভি/এইডস যাবে চলে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন এক হাজার ৪৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ সমকামী, ২৪ শতাংশ সাধারণ মানুষ ও ১০ শতাংশ রোহিঙ্গা। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিক, যৌনকর্মী, মাদকসেবী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৬ জন, চট্টগ্রামে ৩২৬, খুলনায় ১৫৪, রাজশাহীতে ১৪৭ এবং অন্যান্য বিভাগে ৪৪ থেকে ৮৬ জন পর্যন্ত। এসব রোগীর ৬৩ শতাংশই ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী, ২১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এইডস আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯৫ জনের। এর মধ্যে পুরুষ ৭৭ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ ও হিজড়া ১ শতাংশ । মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই ষাটোর্ধ্ব।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ৪২২ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই হাজার ২৮১ জন। ইউএনএইডসের অনুমিত হিসাবে দেশে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজার। সংক্রমিত ব্যক্তির তুলনায় শনাক্তের হার ৮৮.৭২ শতাংশ।

সংক্রমিত সাত হাজার ৫০০ মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এখনো প্রায় দুই হাজার সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছে। তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৬। এবার এ সংখ্যা ১৯৫। মৃত্যুর সংখ্যা কমে গেলেও তা এখনো শঙ্কাজনক পর্যায়ে আছে বলেই মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম।

এই ভাইরোলজিস্ট বলেন, এখন এইচআইভির চিকিৎসার ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত। তারপরও এত মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। মৃত্যুর কারণ হতে পারে নিয়মিত এবং যথাযথ চিকিৎসা নিচ্ছেন না আক্রান্ত ব্যক্তিরা। আবার যেসব ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, তা প্রতিরোধী হয়ে উঠছে কি না, সে বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেড় বছরের শিশুকে বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবাকে আটক

চলতি বছরে এইডসে নতুন আক্রান্ত ১৪৩৮ জন

প্রকাশের সময় : ১২:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে এইচআইভি পজিটিভ বা এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) বাংলাদেশে নতুন করে এক হাজার ৪৩৮ জন এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই সমকামী, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

আগে এইডস আক্রান্তদের মাঝে অভিবাসী কর্মী ও শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেলেও এবার সমকামীদের হার বেশি।

দেশের এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার (১ ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব এইডস দিবস’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘অধিকার নিশ্চিত হলে, এইচআইভি/এইডস যাবে চলে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন এক হাজার ৪৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ সমকামী, ২৪ শতাংশ সাধারণ মানুষ ও ১০ শতাংশ রোহিঙ্গা। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিক, যৌনকর্মী, মাদকসেবী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৬ জন, চট্টগ্রামে ৩২৬, খুলনায় ১৫৪, রাজশাহীতে ১৪৭ এবং অন্যান্য বিভাগে ৪৪ থেকে ৮৬ জন পর্যন্ত। এসব রোগীর ৬৩ শতাংশই ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী, ২১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এইডস আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯৫ জনের। এর মধ্যে পুরুষ ৭৭ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ ও হিজড়া ১ শতাংশ । মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই ষাটোর্ধ্ব।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ৪২২ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই হাজার ২৮১ জন। ইউএনএইডসের অনুমিত হিসাবে দেশে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজার। সংক্রমিত ব্যক্তির তুলনায় শনাক্তের হার ৮৮.৭২ শতাংশ।

সংক্রমিত সাত হাজার ৫০০ মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এখনো প্রায় দুই হাজার সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছে। তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৬। এবার এ সংখ্যা ১৯৫। মৃত্যুর সংখ্যা কমে গেলেও তা এখনো শঙ্কাজনক পর্যায়ে আছে বলেই মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম।

এই ভাইরোলজিস্ট বলেন, এখন এইচআইভির চিকিৎসার ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত। তারপরও এত মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। মৃত্যুর কারণ হতে পারে নিয়মিত এবং যথাযথ চিকিৎসা নিচ্ছেন না আক্রান্ত ব্যক্তিরা। আবার যেসব ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, তা প্রতিরোধী হয়ে উঠছে কি না, সে বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।