আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাজা বলেন, ইন্টারনেটের এমন ধীরগতির জন্য সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। দেশটিতে অতিরিক্ত হারে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করার কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, আমি শপথ করে বলতে পারি যে ইন্টারনেট পরিষেবার এই বিপর্যয় সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে ঘটেনি। সরকারিভাবে ইন্টারনেট ব্লক বা ধীরগতি করে দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমরা সম্প্রতি এই সমস্যাটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা বলেছেন, দেশে ভিপিএন ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোন ইন্টারনেটের ধীরগতির প্রধান কারণ এটি।
ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাজা ফাতিমা বলেন, ‘যখন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের সার্ভিস ব্লক করে দেওয়া হয়, তখন লোকজন স্থানীয় ইন্টারনেট সেবাকে পাশ কাটিয়ে ভিপিএন ব্যবহার করতে শুরু করে, আর এ কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়।’
প্রতিমন্ত্রী শাজা ফাতিমা আরও বলেন, ভিপিএন ব্যবহার করার কারণে মোবাইলফোনের ইন্টারনেটের গতিও ধীর হয়ে আসে।
শাজা ফাতিমা আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার পাকিস্তানের ইন্টারনেট সেবা উন্নয়নে ও তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে ডিজিটালাইজড করার জন্য সরকার ডিজিটাইজেশন কমিশন প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী শাফা ফাতিমা সরকারের উদ্যোগে ইন্টারনেট বন্ধ ও ধীরগতির সেবা প্রদানের বিষয়টি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার বা ট্রাফিকের কারণেই গতি কমে গেছে।
জিও নিউজের খবর অনুসারে, পাকিস্তান ইন্টারনেট সম্পর্কিত সমস্যাগুলো একটি ফায়ারওয়াল বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি ট্রাফিক নিরীক্ষণ ও ফিল্টার করার জন্য কোনো দেশের প্রধান ইন্টারনেট গেটওয়েতে ইনস্টল করা হয়।
এই ফায়ারওয়াল ব্যবহার করে সরকার যেকোনো ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) নিয়ন্ত্রণ বা ব্লক করতে পারে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যেকোনো ধরনের আপত্তিকর বিষয়বস্তুর উৎস খুঁজে বের করারও ক্ষমতা রয়েছে এই প্রযুক্তির।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (পিটিএ) দেশব্যাপী ভিপিএন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে একটি নতুন নীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছর পাকিস্তানে ভিপিএনের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। মূলত নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স ব্লক করা হলে দেশটিতে ভিপিএনের ব্যবহার বেড়ে যায়।টপ১০ভিপিএনের তথ্যমতে, এক্স ব্লক করার দুদিন পরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ভিপিএনের চাহিদা একলাফে ১৩১ শতাংশ বাড়তে দেখা গিয়েছিল।
দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করতে গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ‘ফায়ারওয়াল’ ইনস্টল করার ঘোষণা দেয় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। ইনস্টলেশনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ১৪ আগস্টকে। ১৯৪৭ সালে এই দিনেই ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল পাকিস্তান।
গত মাসে পাকিস্তানের ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থঅ পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির (পিটিএ) এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া সংবাদের জোয়ার ঠেকাতে ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের সরকার।