নিজস্ব প্রতিবেদক :
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, হাসিনাকন্যা পুতুলের নিয়োগ ছিল ত্রুটিপূর্ণ। জাতিসংঘের জন্য এটি ছিল লজ্জাজনক। শুধু কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে ভবিষ্যতে মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এই পদে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছিলেন। গত সপ্তাহে এই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধানের এই পদটিতে আগামী জানুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগটি ত্রুটিপূর্ণ এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য তার যথাযথ অভিজ্ঞতা ছিল না বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, তার অ্যাপয়েন্টমেন্টটাই ছিল দুঃখজনক এই ধরনের সংস্থাতে। তার কোনো ক্রেডিবল কোয়ালিফিকেশন ছিল না। এই ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার ব্যাপারে এটা সারপ্রাইজিং না। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও ক্রুটিপূর্ণ ছিল। ওখানে গিয়ে চাপাবাজি করে ভোট দিয়ে কোনোরকম হয়ে গেছে। এগুলাতো বের হয়ে আসবেই। শেখ মুজিব সাহেবের পরিবারের সবগুলা লোক কেমন দুর্নীতির দুর্গন্ধে মানুষ এদেরকে প্রত্যেক জায়গায় আইডেন্টিফাই করতে পারছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাতে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইট ইজ অলসো এ শেইম ফর অ্যা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। দে শুড নট অ্যাপয়েন্ট পিপল অন দি গ্রাউন্ড অফ জাস্ট সিম্পলি বিং কানেক্টেড টু এ ফ্যামিলি রেজিম। আই থিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস অলসো নিড টু টাইটেন দেওয়ার প্রসেসেস।
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার জন্য এটা একটা লজ্জার ঘটনাও বটে। শুধু ক্ষমতাসীন একটি পরিবারের সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে কাউকে নিয়োগ দেওয়া তাদের উচিত হয়নি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা উচিত।
হুমায়ুন কবির জানান, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ-এর ভিশন তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবে। তার বক্তব্যে বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন, সংঘাত নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সংকটটির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরও জোরালোভাবে আকর্ষণ করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও বিভিন্ন বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এটা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই চলছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমরা একটি ভালো কার্যকর সম্পর্ক চাই। তবে সেই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে প্রথমে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই ভালো। কোনো দেশের সঙ্গে ভালো কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করার জন্য আমরা বহুপাক্ষিক ফোরামে বৈঠক করি না।
তিনি বলেন, এতদিন একটি সমস্যাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ ও লুটেরা স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল ১৫ বছরের। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যেতে চাই। আর সেটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। আমাদের একটি দ্বিপক্ষীয় সফর প্রয়োজন, কোনো বহুপাক্ষিক ফোরামের মাধ্যমে নয়। এর অর্থ এই নয় যে, কোনো বহুপাক্ষিক ফোরামে গেলে আমরা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠক করব না। এমন কথা কখনো বলা হয়নি। বিষয়টি এমন নয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো- তাহলে কি আমরা ধরে নেব, জাতিসংঘ যেহেতু একটি বহুপাক্ষিক ফোরাম, সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক হবে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরে ভাই, ভারতের প্রতি এই অতিরিক্ত আগ্রহ থেকে বের হয়ে আসুন! ভারত শুধুই আরেকটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা একটি ভালো কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নাশতায় ভারত, দুপুরের খাবারে ভারত, রাতের খাবারেও ভারত—তাহলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন? নিজের দেশের চিন্তা করুন।
তিনি বলেন, যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা প্রয়োজন হবে, বহুপাক্ষিক ফোরামে গিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকলে আমরা সেটিও করব। অবশ্যই, যেখানে যে সুযোগ থাকবে, সেটি কাজে লাগানো হবে। একজন নেতা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। সেখানে অনেক আমন্ত্রণ থাকে, অনেক বৈঠকের সুযোগ থাকে। তিনি সেগুলো অনুযায়ী যোগাযোগ করবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনের বৈঠকগুলো এ ধরনের সফরে হয়ে থাকে। শেষ মুহূর্তেও অনেক কিছু যুক্ত হয়। বহুপাক্ষিক ফোরামগুলো এভাবেই কাজ করে। যার সঙ্গেই বৈঠক হবে, আপনাদেরকেই তো জানানো হবে। দেশের মানুষকে জানাতে হবে না কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে? আপনাদের মাধ্যমেই জানানো হবে। তাই আপনারাই সবার আগে জানতে পারবেন।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ঢাকা। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















