নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবেন তা পরিষ্কার করতে বলেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
তিনি বলেন, কোন ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবেন, তা পরিষ্কার করুন। এরকম ডিসেম্বর আমাদের জীবনে বহু গেছে। বহু রোজা, ঈদ, পূজা ও বর্ষাকালও গেছে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বর, নাকি ২০৫০ সালের ডিসেম্বর— তা পরিষ্কার করুন। হুমকি-ধমকি দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে বিঘ্ন করা যাবে না। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের সফলতা শীর্ষক’ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, কোন বর্ডার দিয়ে দেশে ফিরবেন, সেটিও ঘোষণা দিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতা এবং গত ১৭ বছরে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের প্রতিটি হত্যার বিচার হবে। এবার আপনাকে কাশিমপুর কারাগারে যেত হবে। আপনাকে বাংলাদেশের মানুষের বিচারের মুখোমুখি হতে হব।
শেখ হাসিনাকে কোন বর্ডার দিয়ে আসবেন তার ঘোষণা দিতে বলেছেন হুইপ। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ২ হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছেন তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ছাত্র-জনতা, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের গুম-খুনের শিকার পরিবারসহ আমরা সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছি? গত ১৭ বছরের প্রতিটি হত্যার বিচার হবে। এবার আপনাকে কাশিমপুর কারাগারে যেত হবে। আপনাকে বাংলাদেশের মানুষের বিচারের মুখোমুখি হতে হব।
গত ৬ মাসে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কাজের প্রসঙ্গে দুলু বলেন, নির্বাচনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করছেন। তিনি কোনো প্রটোকল নেন না। স্বাধীনতার পর একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি সরকারি সমস্ত নিয়ম-নীতি ও প্রটোকল ভেঙে দিয়েছেন। একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। অতীতে আমরা দেখছি, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন। একজন মুমূর্ষু রোগী মারা গেলেও রাস্তা খোলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, আমিও একজন মানুষ, রিকসাওয়ালা একজন মানুষ। কারো সাথে কোনো বৈষম্য থাকবে না, পার্থক্য থাকবেন।
তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষক ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার। কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে। অসহায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইমাম মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়া শুরু করেছেন। এটাও সরকারের উন্নয়নের সফলতা।
হুইপ বলেন, গত ৬ মাসে একজন মানুষ গুম হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, কাউকে আটকে করেও গুম করা হয়নি।
হুইপ আরো বলেন, বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটা সিস্টেম বা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রী। গ্যাস বিদ্যুৎসহ মানুষের সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। সকল সমস্যার সমাধানও করবেন ইনশাআল্লাহ। সুন্দর একটা গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মিছিল প্রসঙ্গ টেনে দুলু বলেন, নামাজের সময় একটা মিছিল করেছে। ওরা নামাজও পড়ে না, আল্লাহকেও বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্যে থাকতে পারে। কিন্তু দেশটাকে বাঁচাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবীবা বলেন, সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ে গত ৫ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণের সুদের চাপ কমিয়ে আনতেও কাজ করছে সরকার। এছাড়া চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হজযাত্রীকে উদ্বৃত্ত তাদের প্রতিটি ব্যাংক একাউন্টে ফেরত দিচ্ছে সরকার। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে নজির।
উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. এছাহক আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাড. মাহমুদা হাবীবা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির রমেস দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগ অধ্যাপক ড. মো. নাদিরুজ্জামান মন্ডল প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























