পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ ভাবেনি আ.লীগ পালাইয়া বিদায় নিবে : ধর্মমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ, পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও চিন্তা করেনি আওয়ামী লীগ এভাবে পালাইয়া বিদায় নিবে। পঁচাত্তর সালে মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা ঘটনা ঘটিয়েছিল। কিন্তু বিশাল রক্ষী বাহিনী টু শব্দ পর্যন্ত করে নাই। আমার আল্লাহ যা চান তাই হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমি একটা কথা আপনাদেরকে যারা মুরুব্বি, তাদেরকে বলতে চাই ৭৫ সালে যে ঘটনাটা ঘটেছিল, মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা বিশাল ঘটনা ঘটিয়েছিল। সেদিন কিন্তু বিশাল রক্ষীবাহিনী শেখ মুজিবকে তার পরিবারকে এবং আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই রক্ষীবাহিনী কিন্তু টুঁ শব্দও করেনি। তারা কিন্তু টুঁ শব্দ করেনি। আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে।

মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, মহান আল্লাহ পাক মহানবীকে দূত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা বড় সৌভাগ্যবান উম্মত। তার জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা। আল্লাহ বলেন, তোমাদের জন্য রাসূলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ। সিরাত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারলে ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করা যাবে। রাসূল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি—কিতাব ও সুন্নাহ। এই দুটি জিনিস আঁকড়ে ধরলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের হাদিস অনুযায়ী চলতে পারলে জীবনে কোনো অসুবিধা হবে না, আল্লাহ হেফাজত করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের নয়, শিক্ষকদের জন্যও আদর্শ। মুসলমানরা জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে ফেলায় পিছিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে। রাসুলের কাছে জ্ঞান দুই ধরনের—ইলমে নাফে ও ইলমে গায়ের। ইলমে নাফে সমাজের উপকার ও পরিবর্তনে আসে। যে জ্ঞান সমাজের উপকারে আসে না, তা সমাজের জন্য অকল্যাণকর।

তিনি বলেন, আপনার কাছে একজন অমুসলিম ব্যক্তি যদি নিরাপদ থাকে, তাহলে মনে করতে হবে আপনি রাসূলের খাঁটি উম্মত। আর আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম নিরাপদ না থাকে তাহলে মনে করবেন যে আপনি রাসূলের উম্মত নন, রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন। আপনার কাছে যদি গরু-ছাগল নিরাপদ না থাকে, তাহলেও মনে করবেন যে আপনি রাসূলে পাক রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, মিলাদুন্নবী নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়। অনেকে বলেন, মিলাদুন্নবী বলতে কিছু নেই। যারা বলেন এটা ঠিক না। মিলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্মগ্রহণ। সূরা আল ইমরানে আছে, আল্লাহ সকল নবীকে সাথে নিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এ দিনে তার আগমন হয়েছিল বলে তিনি রোজা পালন করতেন। ফলে নবীর আগমন উপলক্ষে আমাদেরও মিলাদুন্নবী পালন করা উচিত।

শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মিলাদুন্নবীর দিন সবচেয়ে বড় রহমত ও আনন্দের দিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হামদ, নাতে রাসুল, কেরাত ও রসূলের জীবনীর ওপর রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। উপস্থিত আলোচকরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইসলামের বিধান ও মহানবীর আদর্শ মানবজাতির কল্যাণের জন্য।

‘পবিত্র ঈদ- ই- মিলাদুন্নবী উৎযাপন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এছাড়াও উপস্থিত চিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ ভাবেনি আ.লীগ পালাইয়া বিদায় নিবে : ধর্মমন্ত্রী

পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ ভাবেনি আ.লীগ পালাইয়া বিদায় নিবে : ধর্মমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ, পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও চিন্তা করেনি আওয়ামী লীগ এভাবে পালাইয়া বিদায় নিবে। পঁচাত্তর সালে মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা ঘটনা ঘটিয়েছিল। কিন্তু বিশাল রক্ষী বাহিনী টু শব্দ পর্যন্ত করে নাই। আমার আল্লাহ যা চান তাই হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমি একটা কথা আপনাদেরকে যারা মুরুব্বি, তাদেরকে বলতে চাই ৭৫ সালে যে ঘটনাটা ঘটেছিল, মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা বিশাল ঘটনা ঘটিয়েছিল। সেদিন কিন্তু বিশাল রক্ষীবাহিনী শেখ মুজিবকে তার পরিবারকে এবং আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই রক্ষীবাহিনী কিন্তু টুঁ শব্দও করেনি। তারা কিন্তু টুঁ শব্দ করেনি। আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে।

মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, মহান আল্লাহ পাক মহানবীকে দূত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা বড় সৌভাগ্যবান উম্মত। তার জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা। আল্লাহ বলেন, তোমাদের জন্য রাসূলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ। সিরাত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারলে ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করা যাবে। রাসূল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি—কিতাব ও সুন্নাহ। এই দুটি জিনিস আঁকড়ে ধরলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের হাদিস অনুযায়ী চলতে পারলে জীবনে কোনো অসুবিধা হবে না, আল্লাহ হেফাজত করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের নয়, শিক্ষকদের জন্যও আদর্শ। মুসলমানরা জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে ফেলায় পিছিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে। রাসুলের কাছে জ্ঞান দুই ধরনের—ইলমে নাফে ও ইলমে গায়ের। ইলমে নাফে সমাজের উপকার ও পরিবর্তনে আসে। যে জ্ঞান সমাজের উপকারে আসে না, তা সমাজের জন্য অকল্যাণকর।

তিনি বলেন, আপনার কাছে একজন অমুসলিম ব্যক্তি যদি নিরাপদ থাকে, তাহলে মনে করতে হবে আপনি রাসূলের খাঁটি উম্মত। আর আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম নিরাপদ না থাকে তাহলে মনে করবেন যে আপনি রাসূলের উম্মত নন, রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন। আপনার কাছে যদি গরু-ছাগল নিরাপদ না থাকে, তাহলেও মনে করবেন যে আপনি রাসূলে পাক রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, মিলাদুন্নবী নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়। অনেকে বলেন, মিলাদুন্নবী বলতে কিছু নেই। যারা বলেন এটা ঠিক না। মিলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্মগ্রহণ। সূরা আল ইমরানে আছে, আল্লাহ সকল নবীকে সাথে নিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এ দিনে তার আগমন হয়েছিল বলে তিনি রোজা পালন করতেন। ফলে নবীর আগমন উপলক্ষে আমাদেরও মিলাদুন্নবী পালন করা উচিত।

শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মিলাদুন্নবীর দিন সবচেয়ে বড় রহমত ও আনন্দের দিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হামদ, নাতে রাসুল, কেরাত ও রসূলের জীবনীর ওপর রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। উপস্থিত আলোচকরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইসলামের বিধান ও মহানবীর আদর্শ মানবজাতির কল্যাণের জন্য।

‘পবিত্র ঈদ- ই- মিলাদুন্নবী উৎযাপন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এছাড়াও উপস্থিত চিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।