নৌ-পুলিশ কর্মকর্তার অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর ঘাট এলাকায় নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে নাচতে, গান গাইতে ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। এসময় তিনি চায়ের দোকানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সদর নৌ থানার পাশের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আব্দুল মান্নান পুলিশের এসআই বলে নিশ্চিত করেছেন সদর নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান নেশাগ্রস্তের মতো অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। কখনও মাটিতে বসে গান গাইছেন, আবার কখনও নাচছেন। কিছুক্ষণ পর তাকে বিলাপ করতেও দেখা যায়। তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে বন্দর ঘাট এলাকায় এএসআই আব্দুল মান্নানকে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আব্দুল মান্নানকে অসংলগ্নভাবে নাচতে ও গান গাইতে দেখা যায়। এসময় তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে মোবাইল বের করে ছুড়ে ফেলে দেন। ওয়ালেট বের করে টাকা ছুড়তেও দেখা যায় তাকে। তিনি চায়ের দোকানে ভাঙচুর করেছেন বলে ভিডিওতে এক ব্যক্তি অভিযোগ করতে শোনা গেছে। পরে তিনি কিছুটা স্থির হওয়ার নিজেই সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, এএসআই আব্দুল মান্নান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নৌ পুলিশের সদর থানার ওসি রফিকুজ্জামান বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এএসআই আব্দুল মান্নান তার স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটান। তবে তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ কর্মপরিবেশ-প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিতে সরকার প্রস্তুত : মাহদী আমিন

নৌ-পুলিশ কর্মকর্তার অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর ঘাট এলাকায় নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে নাচতে, গান গাইতে ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। এসময় তিনি চায়ের দোকানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সদর নৌ থানার পাশের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আব্দুল মান্নান পুলিশের এসআই বলে নিশ্চিত করেছেন সদর নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান নেশাগ্রস্তের মতো অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। কখনও মাটিতে বসে গান গাইছেন, আবার কখনও নাচছেন। কিছুক্ষণ পর তাকে বিলাপ করতেও দেখা যায়। তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে বন্দর ঘাট এলাকায় এএসআই আব্দুল মান্নানকে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আব্দুল মান্নানকে অসংলগ্নভাবে নাচতে ও গান গাইতে দেখা যায়। এসময় তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে মোবাইল বের করে ছুড়ে ফেলে দেন। ওয়ালেট বের করে টাকা ছুড়তেও দেখা যায় তাকে। তিনি চায়ের দোকানে ভাঙচুর করেছেন বলে ভিডিওতে এক ব্যক্তি অভিযোগ করতে শোনা গেছে। পরে তিনি কিছুটা স্থির হওয়ার নিজেই সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, এএসআই আব্দুল মান্নান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নৌ পুলিশের সদর থানার ওসি রফিকুজ্জামান বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এএসআই আব্দুল মান্নান তার স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটান। তবে তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।