তিন বছরে ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ : সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রুহুল আমিন প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে; সেগুলোর নামের তালিকা কী; বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা; হয়ে থাকলে, তা কী?

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানাসহ ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কারখানাসমূহ বন্ধের প্রধান প্রধান কারণ হলো—বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত এবং ভিয়েতনামের ঋঞঅ চুক্তি; এবং বিদেশি ক্রেতার নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহ।

তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করা হবে।

সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিমেন্ট অন রিসিপরোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত থাকায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ সমর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ এমএফএন শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ওই বছরের এপ্রিলে এর সঙ্গে আরও ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ আরোপ করা হলে মোট শুল্ক প্রায় ৫২ শতাংশে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে এআরটি স্বাক্ষরিত হয়।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ফোর্সড লেবার সংক্রান্ত তদন্তের পর বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। তবে এআরটি থাকায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রয়েছে।

সংসদে সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা ও মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আমদানি সহজীকরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী শুল্ক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ডাল, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এসব পণ্যের মূল্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এ লক্ষ্যে উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে বাজার তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি সহজীকরণ, শুল্ক ও করসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাজারে মূল্যচাপ কমিয়ে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মাদারীপুরে শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে আসামি বহনকারী পুলিশের গাড়ি উল্টে নিহত ১

তিন বছরে ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ : সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রুহুল আমিন প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে; সেগুলোর নামের তালিকা কী; বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা; হয়ে থাকলে, তা কী?

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানাসহ ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কারখানাসমূহ বন্ধের প্রধান প্রধান কারণ হলো—বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত এবং ভিয়েতনামের ঋঞঅ চুক্তি; এবং বিদেশি ক্রেতার নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহ।

তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করা হবে।

সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিমেন্ট অন রিসিপরোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত থাকায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ সমর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ এমএফএন শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ওই বছরের এপ্রিলে এর সঙ্গে আরও ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ আরোপ করা হলে মোট শুল্ক প্রায় ৫২ শতাংশে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে এআরটি স্বাক্ষরিত হয়।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ফোর্সড লেবার সংক্রান্ত তদন্তের পর বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। তবে এআরটি থাকায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রয়েছে।

সংসদে সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা ও মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আমদানি সহজীকরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী শুল্ক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ডাল, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এসব পণ্যের মূল্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এ লক্ষ্যে উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে বাজার তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি সহজীকরণ, শুল্ক ও করসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাজারে মূল্যচাপ কমিয়ে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।