নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশ যেমন আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে ভারতও তাদের ভূখণ্ডে জায়গা দেবে না বলে প্রত্যাশা করছে ঢাকা। এ ধরনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তা সম্পর্ক উন্নয়নের পথ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতে আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠান দেশটির পুলিশ বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেভাবে ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেব না, ঠিক একইভাবে আমরা আশা করি, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়।
তিনি বলেন, সুতরাং, আপনারা যে ঘটনার বিবরণ দিলেন, তা একটি ইতিবাচক বিষয়। আমরা আশা করি, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে। এটি স্বাভাবিকভাবেই একটি সদিচ্ছা তৈরির পথ সুগম করে দেয়। সুতরাং দেখা যাক, তবে এটি ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমরা যাব—এটা ঠিক আছে। কিন্তু কোনো তারিখ সেট হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এখন আলোচনা চলছে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সময় অনুকূল হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
কোনও চাপে নয়, বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশনের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিমান কেনা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ের ক্ষেত্রে, আরও রুটে পরিষেবা দেওয়া দরকার। এ জন্য আমাদের আরও বিমানের প্রয়োজন আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৫০টির বেশি বিমান আছে। সেই জায়গায় আমাদের ডিমান্ড আছে ৭০-৮০টির মতো- আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী অর্ডার করিনি, তবে অবশ্যই আমরা আরও বিমান কিনবো। আমাদের এয়ারবাসও প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী। নীতিগত চুক্তি অনুযায়ী আমাদের তো আরও কিনতে হবে।
কোনও চাপে এই সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনও প্রেশারে না, এটা আমাদের অ্যাভিয়েশনের ডিমান্ড অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যথায় আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, আমরা নতুন রুট খুলতে পারি না, অর্থ হারাচ্ছি। যদি আমরা তা না করি, যদি আমরা বিমান না কিনি এবং যদি আমরা আমাদের গেটওয়ের নেটওয়ার্ক রুটগুলো প্রশস্ত করি তবে যাত্রীদের চাপ বাড়বে ঢাকায়। এটি আমাদের অ্যাভিয়েশনের দীর্ঘমেয়াদি টার্নওভার বাড়বে।
হুমায়ূন কবির বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক আছে। আপনারা জানেন, বেইজিংয়ের সঙ্গেও আমাদের ভালো সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে এই সম্পর্ক জড়িত। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বিনিয়োগ চাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তো চুক্তি আছেই, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিমান কিনবো। বাংলাদেশকে আমরা এশিয়ার ভেতর একটা অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়তে চাচ্ছি।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠকের পর বাংলাদেশ এতে যুক্ত হতে পারে বলে যে বক্তব্য এসেছে, তার অর্থ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
চুক্তিতে যোগ দিতে বাংলাদেশের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জরুরি কি না এবং বাংলাদেশ যোগদানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















