নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তফশিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ও শপথ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ আইন ও সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছি। বিরোধী দল অভিযোগ করতেই পারে এটা তাদের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটগ্রহণ-সবকিছুই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী হচ্ছে। এই সংবিধান পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এভাবেই চলতে হবে।
চিফ হুইফ বলেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের (এমপি) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই সবার উপস্থিতিতে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং রাতেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
মিডিয়া কভারেজ সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, ভোট শুরুর ৫ মিনিট আগে থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ প্রার্থীর ভোট দেওয়ার দৃশ্য সম্প্রচারিত হবে। এরপর লাইভ বন্ধ থাকবে। তবে বিকেল ৫টায় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ঠিক ৫ মিনিট আগে থেকে আবারও সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। মাঝের সময়ের পুরো প্রক্রিয়ার রেকর্ডিং সংরক্ষিত থাকবে।
প্রার্থীর পদত্যাগ ও অন্যান্য নিয়ম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী (মির্জা ফখরুল) যদি নির্বাচিত হন, তবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তার সংসদ সদস্য পদ এবং মন্ত্রিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এর জন্য আগে থেকে পদত্যাগ করার প্রয়োজন নেই।
আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
শপথ কে পড়াবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর থেকে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ান। যেহেতু বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই তিনিই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এই শপথ পড়াবেন না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি যেহেতু একজন সংসদ সদস্য, তাই এই নির্বাচনে তারও ভোটাধিকার রয়েছে এবং তিনি ভোট দেবেন।
বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারবেন না বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কার করা সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন কিনা, সেটি তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















