চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

জ্বালানি নিয়ে একটা সংকট বিগত সরকার করেছিল, তার একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটি মোংলায় স্থাপন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ তিন বিভাগের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে আকরাম পয়েন্টসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নাব্যতা ও অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার গত ১৭ বছর ধরে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পারছেন। এই সংকট উত্তরণে সরকার অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। ১৭ বছরের এ সংকটের সমাধান হবে, তবে একটু সময়ের প্রয়োজন হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, তিনি মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। এর প্রথম ধাপের কাজ আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে। এ পর্যায়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

মোংলা বন্দরসহ এ অঞ্চলের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোংলার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অচিরেই এ অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন চোখে পড়বে।’ স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দর এলাকায় একটি অর্থনৈতিক জোন হবে, যা চায়না কোম্পানি করবে। এতে ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মোংলা বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা সব সময় ১২ মিটার রাখতে চাই। তাহলে মাদার ভ্যাসেল ও বড় জাহাজগুলো এখানে আসা সম্ভব। একটা বন্দর হিসেবে মোংলা বন্দর শুধু অর্থনীতিতে ৫-৬ শতাংশ ভূমিকা রাখছে। এটাকে ইচ্ছে করলেই ৩০-৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে সাংবাদিক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তা হয়ত রাষ্ট্রবান্ধব হবে না। এই জায়গায় আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন অর্থবিত্তে ও সম্পদে নয়, সাংবাদিকদের উন্নয়ন হবে মননে। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, টেকনোলজির উন্নয়ন হয় বিজ্ঞানে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধানে।

জ্বালানি সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিয়ে একটা সংকট বিগত সরকার করেছিল। তার একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সংকট উত্তরণে স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু রাতারাতি নয়, একটু সময় সাপেক্ষ হবে।

গনমাধ্যমকর্মী সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক জায়গায় যেমন বিচ্যুতি হয়েছে। তেমন সাংবাদিকদের মধ্যেও হয়েছে। এই জায়গায় আমাদের সতর্ক হতে হবে। ইদানিয় আমার কাছে মনে হচ্ছে সাংবাদিক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তা হয়ত রাষ্ট্রবান্ধব হবে না। এই জায়গায় আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন অর্থবিত্তে ও সম্পদে নয়, সাংভাদিকদের উন্নয়ন হবে মননে। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, টেকনোলজির উন্নয়ন হয় বিজ্ঞানে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধানে।

তিনি বলেন, এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কাজ শুরু হয়েছে, আশাকরি খুব ভালভাবে লাজ শেষ হবে। এছাড়া বাগেরহাটে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল সড়কের কাজ করা হবে। সরকার জনগণের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাগেরহাট দশানী রামপাল মোংলা পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ ৪ টি প্যাকেজে ২০২১ সালে শুরু হয়। দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ ঠিকাদারির গাফিলতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে সড়ক বিভাগ। মাফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৭২ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকায় এই কাজ করছেন। ২০২৭ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন প্রমুখ।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মেয়াদ বাড়লো

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

জ্বালানি নিয়ে একটা সংকট বিগত সরকার করেছিল, তার একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটি মোংলায় স্থাপন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ তিন বিভাগের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে আকরাম পয়েন্টসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নাব্যতা ও অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার গত ১৭ বছর ধরে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পারছেন। এই সংকট উত্তরণে সরকার অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। ১৭ বছরের এ সংকটের সমাধান হবে, তবে একটু সময়ের প্রয়োজন হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, তিনি মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। এর প্রথম ধাপের কাজ আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে। এ পর্যায়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

মোংলা বন্দরসহ এ অঞ্চলের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোংলার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অচিরেই এ অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন চোখে পড়বে।’ স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দর এলাকায় একটি অর্থনৈতিক জোন হবে, যা চায়না কোম্পানি করবে। এতে ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মোংলা বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা সব সময় ১২ মিটার রাখতে চাই। তাহলে মাদার ভ্যাসেল ও বড় জাহাজগুলো এখানে আসা সম্ভব। একটা বন্দর হিসেবে মোংলা বন্দর শুধু অর্থনীতিতে ৫-৬ শতাংশ ভূমিকা রাখছে। এটাকে ইচ্ছে করলেই ৩০-৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে সাংবাদিক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তা হয়ত রাষ্ট্রবান্ধব হবে না। এই জায়গায় আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন অর্থবিত্তে ও সম্পদে নয়, সাংবাদিকদের উন্নয়ন হবে মননে। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, টেকনোলজির উন্নয়ন হয় বিজ্ঞানে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধানে।

জ্বালানি সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিয়ে একটা সংকট বিগত সরকার করেছিল। তার একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সংকট উত্তরণে স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু রাতারাতি নয়, একটু সময় সাপেক্ষ হবে।

গনমাধ্যমকর্মী সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক জায়গায় যেমন বিচ্যুতি হয়েছে। তেমন সাংবাদিকদের মধ্যেও হয়েছে। এই জায়গায় আমাদের সতর্ক হতে হবে। ইদানিয় আমার কাছে মনে হচ্ছে সাংবাদিক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তা হয়ত রাষ্ট্রবান্ধব হবে না। এই জায়গায় আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন অর্থবিত্তে ও সম্পদে নয়, সাংভাদিকদের উন্নয়ন হবে মননে। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, টেকনোলজির উন্নয়ন হয় বিজ্ঞানে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধানে।

তিনি বলেন, এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কাজ শুরু হয়েছে, আশাকরি খুব ভালভাবে লাজ শেষ হবে। এছাড়া বাগেরহাটে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল সড়কের কাজ করা হবে। সরকার জনগণের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাগেরহাট দশানী রামপাল মোংলা পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ ৪ টি প্যাকেজে ২০২১ সালে শুরু হয়। দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ ঠিকাদারির গাফিলতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে সড়ক বিভাগ। মাফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৭২ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকায় এই কাজ করছেন। ২০২৭ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন প্রমুখ।