নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের পথচারী চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য চালু করা হবে হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট। এ ছাড়া হকারদের নিবন্ধন, নবায়ন ও স্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে সোমবার হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকার মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। হকারদের জীবিকা বন্ধ করা যেমন আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তেমনি সারাদেশের ভাসমান মানুষকে ঢাকায় এনে হকার হিসেবে পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চায় না সিটি করপোরেশন। তবে সারা দেশের ভাসমান মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়। নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে হকারদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। কেবল যেসব রাস্তায় প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেসব জায়গায় নাগরিকদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসানো হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালু করা হবে।
প্রশাসক বলেন, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার শৃঙ্খলাও মানতে হবে। এর মাধ্যমেই হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, পথচারীবান্ধব ও যানজটমুক্ত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারার ক্ষমতাবলে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এলাকায় এ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত ফি আদায়ের বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, হকারদের এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।
নিবন্ধিত হকারদের বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ফুটপাথে পথচারী চলাচলের জন্য ন্যূনতম ১ দশমিক ৫ মিটার জায়গা খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ স্থান সংরক্ষণের বিধানও রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময়ের পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নাইট মার্কেট পরিচালনা করা যাবে।
লাইসেন্স ছাড়া বা নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে ব্যবসা করলে উচ্ছেদসহ নিবন্ধন বাতিল করা হবে। হকারদের নিজ দায়িত্বে ব্যবসাস্থল পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার নির্দেশনাও রয়েছে।
সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















