নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকার ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করছে বলে মন্তব্য করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা হানিমুন পিরিয়ডটা শেষ করেছি। এ সময়ের মধ্যে আমরা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’ সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিএস রেটিং উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু কেন করে? সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে কেন না? সেটা করলে আমরাও এগিয়ে থাকতাম।
এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন এতদিনে পিএইচডি ডিগ্রি চালু করতে পারলেন না? শেষ ২০ বছর আপনারা মুখ বন্ধ করে ছিলেন?
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক গবেষক আছে, যারা অন্য দেশের বিনির্মাণে নিজের জ্ঞান ঢেলে দেয়। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারি না। এটা আমাদের ব্যার্থতা। এদিকে আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মনে প্রশ্ন এসেছে, আমার দেশের ইউনিভার্সিটি কেন কিউএস র্যাংকিংয়ে সামনে আসছে না। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে রেটিং সমস্যায় পড়ছি স্টুডেন্টরা ঝরে পড়ার কারণে।
বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়তে না আসার কারণ হিসেবে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ফরেন স্টুডেন্টরা পড়ালেখা করতে আসে না পরিবেশ ও নিরাপত্তার কারণে।
তিনি বলেন, দেশের যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যাচ্ছে, তারা ভালো ফলাফল করছে। তবে বাংলাদেশ বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে পারছে না।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের কিউএস রেটিং প্রয়োজন, তাহলে আমরা স্ট্যান্ডার্ডাইজড হবো।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পিএইচডি প্রোগ্রাম এলাও করা হয় না। প্রবলেমটা কোথায়? ১৯৯২ সালে শুরু হয়েছে, এখন ২০২৬।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের ক্রসবর্ডার শিক্ষা, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা দরকার। শিক্ষকের কোনো সংকট দেখছি না। হাজারো গবেষক আছে যারা মেড ইন বাংলাদেশ।
আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্লিজ সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।
দেশের হাই স্কুল ও মাদরাসাগুলোতে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, হাই স্কুল ও মাদরাসায় প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সেটা দেওয়ার আগে যাদের বিভিন্ন দূর-দূরান্তে পোস্টিং রয়েছে, তাদের ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করছি। আজকালের মধ্যেই সেটা শুরু করতে যাচ্ছি। ট্রান্সফারের বিষয়টার পর আমরা নিউ রিক্রুটমেন্টের দিকে যাচ্ছি।
বদলির স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি চালু হওয়ার পর দেখা যাবে। এখনই এই প্রশ্ন কেন?’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষকদের অবসর ভাতা সারাদেশব্যাপী সবাইকে দেওয়া শুরু করেছি। শিক্ষক নিয়োগের মোটামুটি প্রস্তুতিও সব ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক সময় ধরে আমাদের শিক্ষক নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার হেডমাস্টার নেই। সেটার মামলা আমরা নিষ্পত্তি করেছি। পাবলিক স্কুলগুলোতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের রিটেন পরীক্ষা শেষ করার পর মামলার সম্মুখীন হয়েছিলাম, সেটাও শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেটার ভাইভার ব্যবস্থা করবো।’
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থী খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চাইলে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রতিটি খাতা আবার পরীক্ষা করতে হবে। তাই কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে। কিন্তু গতকালের অভিজ্ঞতা দেখে মনে হচ্ছে, সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চান। অর্থাৎ আমাকে আবার ২০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকটি খাতা দেখতে হবে। অতএব আমরা একটি নীতিমালা তৈরি করব, কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছেন, তাদের সবাইকে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় নেওয়া হবে না। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়নের মানও যাচাই করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষকেরা যোগ্য কি না, সঠিকভাবে খাতা দেখছেন কি না, আন্ডারমার্কিং বা ওভারমার্কিং করছেন কি না, সেটিও বোঝা যাবে।
পরীক্ষকদের দক্ষতা নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, শুধু পরীক্ষকদের ভুল ধরলেই হবে না, প্রয়োজন হলে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন প্লাস পাওয়ার পরও যদি সবাই পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে নম্বরের যে গুরুত্ব রয়েছে, সেটির অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়ায় যাবে। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা সব খাতা নতুন করে পরীক্ষা করতে গেলে ভর্তি কার্যক্রমেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে গুরুতর সমস্যাযুক্ত খাতাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো অসচ্ছতা বা অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। সমালোচনার পাশাপাশি অনিয়ম চিহ্নিত করতে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখুন, তারপর অসচ্ছতা থাকলে আপনারা বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের কাজ করে যাওয়ার পর জনগণের মূল্যায়নই চূড়ান্ত বিষয়। আমার তুষ্টিতে জনগণের কিছু আসে যায় না। কাজের ফলে জনগণ কতটা সন্তুষ্ট হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, মাদরাসা ও স্কুলে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সেটা দেওয়ার আগে বিভিন্ন দূর-দূরান্তে যাদের পোস্টিং রয়েছে, তাদের বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আজকালের মধ্যেই সেটি শুরু করতে যাচ্ছি। বদলির বিষয়টি শেষ করার পর আমরা নতুন নিয়োগের দিকে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষকদের অবসর ভাতা সারা দেশে সবাইকে দেওয়া শুরু করেছি। শিক্ষক নিয়োগের মোটামুটি প্রস্তুতিও সব ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে এহসানুল হক মিলন বলেন, অনেক সময় ধরে আমাদের শিক্ষক নেই। প্রাথমিক স্কুলে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নেই। এ বিষয়ে মামলাটি আমরা নিষ্পত্তি করেছি। আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের লিখিত পরীক্ষা শেষ করার পর মামলার মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেটিও শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এর ভাইভার ব্যবস্থা করব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















