নির্বাচনের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে চলেছে। এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুরোণিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন রয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজকের সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম -যেখানে গুম-খুন হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে- বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে। আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের কার্যক্রমে।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সেটা সীমালঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এসটাবলিশড করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতস্ফূর্ত সংসদ যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন। যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। আলোচনা তুলে ধরেছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার গঠনের পর দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।
সভায় অর্থনীতিতে সংস্কার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন রয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ালেও একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে বরং সরবরাহকে নিরবচ্ছিন্ন রেখেছিল।’
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন,‘সরকার গঠনের পর সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেন কোনো সিন্ডিকেট না হয়, যেন কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো না হয়, সেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহাতে দীর্ঘ সময় পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। কারণ সরকারে দৃঢ় পদক্ষেপে শ্রমিক, মালিক , ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে এক করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে প্রতিটি শ্রমিক তাদের বেতন ও বোনাস বকেয়া বুঝে পান।’
মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে রাষ্ট্র ব্যবস্থা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলাক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরকারের প্রতি রয়েছে অভূতপূর্ব জনসমর্থন। কারণ ২০১৮ ও ২৪ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই মানুষ সুযোগ পেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তাই নির্বাচনি ইশতেহার ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। প্রতিপক্ষের উসকানিমূলক আচরণেও সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপি সরকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি করছে।
তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার সুবিধা পেয়েছেন ১৩ লাখ কৃষক পরিবার। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালু করা হয়েছে। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৬০টির বেশি পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি আলাপের প্রেক্ষিতে পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাস সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের ১ লাখ টাকা করে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা ভেঙে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত সেবামূলক পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে। সোহাগী জাহান তনু এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যার আসামিকে বহু বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশে আবেদন জানানো হয়েছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি ধারণ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটানো হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বিশ্বমঞ্চে আমাদের গৌরবান্বিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধারণ জীবনাচার তুলে ধরে তার কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। তিনি বারবার তৃণমূলে ছুটে যাচ্ছেন, কাদার হাতে খাল খননে নেমে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ এমন একটি সরকার পেয়েছে, যাকে তারা আবেগ ও অনুভূতি দিয়ে ধারণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রকল্প গ্রহণ, পতিত কলকারখানা চালু, বন্ধ বন্দরগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত আছেন।
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচনের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে : মাহদী আমিন

প্রকাশের সময় : ০৩:০০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : 
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে চলেছে। এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুরোণিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন রয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজকের সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম -যেখানে গুম-খুন হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে- বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে। আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের কার্যক্রমে।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সেটা সীমালঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এসটাবলিশড করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতস্ফূর্ত সংসদ যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন। যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। আলোচনা তুলে ধরেছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার গঠনের পর দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।
সভায় অর্থনীতিতে সংস্কার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন রয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ালেও একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে বরং সরবরাহকে নিরবচ্ছিন্ন রেখেছিল।’
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন,‘সরকার গঠনের পর সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেন কোনো সিন্ডিকেট না হয়, যেন কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো না হয়, সেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহাতে দীর্ঘ সময় পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। কারণ সরকারে দৃঢ় পদক্ষেপে শ্রমিক, মালিক , ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে এক করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে প্রতিটি শ্রমিক তাদের বেতন ও বোনাস বকেয়া বুঝে পান।’
মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে রাষ্ট্র ব্যবস্থা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলাক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরকারের প্রতি রয়েছে অভূতপূর্ব জনসমর্থন। কারণ ২০১৮ ও ২৪ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই মানুষ সুযোগ পেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তাই নির্বাচনি ইশতেহার ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। প্রতিপক্ষের উসকানিমূলক আচরণেও সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপি সরকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি করছে।
তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার সুবিধা পেয়েছেন ১৩ লাখ কৃষক পরিবার। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালু করা হয়েছে। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৬০টির বেশি পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি আলাপের প্রেক্ষিতে পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাস সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের ১ লাখ টাকা করে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা ভেঙে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত সেবামূলক পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে। সোহাগী জাহান তনু এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যার আসামিকে বহু বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশে আবেদন জানানো হয়েছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি ধারণ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটানো হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বিশ্বমঞ্চে আমাদের গৌরবান্বিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধারণ জীবনাচার তুলে ধরে তার কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। তিনি বারবার তৃণমূলে ছুটে যাচ্ছেন, কাদার হাতে খাল খননে নেমে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ এমন একটি সরকার পেয়েছে, যাকে তারা আবেগ ও অনুভূতি দিয়ে ধারণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রকল্প গ্রহণ, পতিত কলকারখানা চালু, বন্ধ বন্দরগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত আছেন।