প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ভবন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, তবে রোগীর প্রতি চিকিৎসকের মানবিক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসক, রোগী ও উদ্বিগ্ন স্বজন; এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের সম্পর্ক থাকা উচিত।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কেউ অর্থের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না, কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে সরকার। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে সরকার।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ বেশি বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি সেফ একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরেই সব রকমের স্বাস্থ্যসেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে।

May be an image of television, dais, newsroom and text

সরকারপ্রধান বলেন, সরকার দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই সব রকমের স্বাস্থ্যসেবা পায়। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে এটি স্রেফ একটি স্লোগান নয়। তবে স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে সরকার যত উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয় বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করতে চাই, আজ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরও একটি ধাপ এগিয়েছি।

তিনি উল্লেখ করেন, যেই হাসপাতালটির আরেকটি নতুন ভবনের উদ্বোধন হলো ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতাল আকার আয়তনে আরও বড় রূপ ধারণ করলো।

তিনি এই হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা নিঃসন্দেহে জানেন, নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা-যেমন স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আজকের এই ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরণের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সরকার প্রধান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বর্ধিত ভবন ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অতিরিক্ত বেড এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই ব্যবস্থা দেশের হাজারো রোগীর জন্য নিঃসন্দেহে আশার আলো বয়ে আনবে।

May be an image of tree and dais

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার শুধু মৌলিক অধিকারই মনে করে না, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতিরও চাবিকাঠিও মনে করে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়ার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যায় না। সুতরাং, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনও চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয় এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে একদিকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নেপূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য (রোগীদের) বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ আকার ও আয়তনে বড় রূপ ধারণ করেছে।

তিনি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগের মতো সমস্যায় দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ৫০০ শয্যার আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতা বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

May be an image of dais, temple and text

দেশের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে পাঁচটি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সুস্থ আগামী’ নির্মাণে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এসব হাসপাতালে শিশুদের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থাও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজও চলছে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাঁচটি শিশু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সরবরাহের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী না হন, সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না।

চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সকল দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে চিকিৎসক, ‘রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন, এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি। এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও স্বজনরা যদি চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তবে যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক না কেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।’

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশেও এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন এই ভবনের আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড কেবল রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’ দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বর্ধিত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

May be an image of hospital

কেবল প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয় না জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এর সঙ্গে মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগী যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে।’

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া স্রেফ কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না কিংবা অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ অনুষ্ঠান শেষে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তারেক রহমান।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট : শিক্ষামন্ত্রী

প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ভবন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, তবে রোগীর প্রতি চিকিৎসকের মানবিক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসক, রোগী ও উদ্বিগ্ন স্বজন; এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের সম্পর্ক থাকা উচিত।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কেউ অর্থের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না, কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে সরকার। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে সরকার।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ বেশি বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি সেফ একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরেই সব রকমের স্বাস্থ্যসেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে।

May be an image of television, dais, newsroom and text

সরকারপ্রধান বলেন, সরকার দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই সব রকমের স্বাস্থ্যসেবা পায়। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে এটি স্রেফ একটি স্লোগান নয়। তবে স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে সরকার যত উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয় বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করতে চাই, আজ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরও একটি ধাপ এগিয়েছি।

তিনি উল্লেখ করেন, যেই হাসপাতালটির আরেকটি নতুন ভবনের উদ্বোধন হলো ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতাল আকার আয়তনে আরও বড় রূপ ধারণ করলো।

তিনি এই হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা নিঃসন্দেহে জানেন, নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা-যেমন স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আজকের এই ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরণের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সরকার প্রধান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বর্ধিত ভবন ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অতিরিক্ত বেড এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই ব্যবস্থা দেশের হাজারো রোগীর জন্য নিঃসন্দেহে আশার আলো বয়ে আনবে।

May be an image of tree and dais

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার শুধু মৌলিক অধিকারই মনে করে না, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতিরও চাবিকাঠিও মনে করে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়ার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যায় না। সুতরাং, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনও চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয় এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে একদিকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নেপূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য (রোগীদের) বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ আকার ও আয়তনে বড় রূপ ধারণ করেছে।

তিনি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগের মতো সমস্যায় দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ৫০০ শয্যার আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতা বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

May be an image of dais, temple and text

দেশের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে পাঁচটি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সুস্থ আগামী’ নির্মাণে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এসব হাসপাতালে শিশুদের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থাও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজও চলছে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাঁচটি শিশু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সরবরাহের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী না হন, সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না।

চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সকল দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে চিকিৎসক, ‘রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন, এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি। এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও স্বজনরা যদি চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তবে যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক না কেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।’

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশেও এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন এই ভবনের আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড কেবল রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’ দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বর্ধিত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

May be an image of hospital

কেবল প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয় না জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এর সঙ্গে মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগী যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে।’

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া স্রেফ কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না কিংবা অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ অনুষ্ঠান শেষে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তারেক রহমান।