নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, যদি হাসিনার পতন না হতো এবং এই আন্দোলন যদি ব্যর্থ হতো আমাদের অনেকের ফাঁসি হয়ে যেত।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল) অডিটোরিয়ামে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ আগস্ট নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনে হলো মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসলাম। আমরা জেলখানাতেই আছি, কিন্তু মুক্তির যে স্বাদ আনন্দ সেদিন আমরা উপভোগ করেছি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নত হতে হবে। সেটি না হলে আমরা যে তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরের মধ্যেই আমাদের থাকতে হবে। শেখ হাসিনা সকাল সন্ধ্যা গালাগালি করতেন। দেশের তার বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে নোংরা ভাষায় গালাগালি করতেন। স্টেজের মধ্যে দেশনেত্রী বেগম জিয়া সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করতেন। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতেন এবং উনার যে ছেলে গুণধর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সে তুই-তুকারি করে কথা বলতেন। রাজনীতিকে একটা জঘন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এটা উনি করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী কেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করলে তো সেই অন্ধকারেই থেকে গেলাম। এরকম বিভেদ বিভাজন চলতে থাকলে শেখ হাসিনা তালি বাজাবেন এবং তিনি প্যারাসুট নিয়ে বাংলাদেশে নামার চেষ্টা করবেন।
বিএনপি নেতা বলেন, জুলাই বিপ্লবের একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে, যা আমাদের নাগরিক স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার ও নির্ভয়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৭ বছরের রক্তঝরা আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। এতে ছাত্রদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
রিজভীর অভিযোগ, শেখ হাসিনা রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার বন্ধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নোংরাভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি মনে করেন, আজ যারা নতুন করে রাজনীতিতে আসছেন, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সমাজে পুনরায় ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানো বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় স্বৈরাচারের পতনকে অর্থহীন করে তোলা হবে।
রিজভীর দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন ও বাংলা ব্লকেডের মতো কর্মসূচিগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনে রিকশাওয়ালা, শ্রমিক ও সর্বস্তরের মানুষের যে জাগরণ তৈরি হয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং এই সরকার বিশেষ করে মানবকল্যাণ ও নার্সদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণে বদ্ধপরিকর।
রিজভী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নার্সদের ভূমিকা ছিল অনন্য। তারা রাজপথে আহত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নার্সরা হলেন মানবতার প্রথম সারির সৈনিক।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটিকে অবহেলায় রেখে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিগত স্বৈরাচারি সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তবে বর্তমান সরকার এই খাত সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনসহ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















