নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে চায় বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, সবাই মিলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের অডিটোরিয়ামে জুলাই রেজুলেশন অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, শহিদ পরিবার ও আহতদের পাশে আমরা থাকতে চাই। অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও শহিদের মায়েদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বিএনপি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে চায় বিএনপি। আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করে আমরা অবশ্যই সবাই মিলে বিচার নিশ্চিত করব।
মাহদী আমিন বলেন, আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কথা দিচ্ছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসনকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের ক্ষমতায়ন এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এ দেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে অভিবাসন খাতে আমাদের যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আমরা তা আরও শক্তিশালী করতে চাই।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করাতে সক্ষম হয়েছি। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অভিবাসন যেকোনো দেশের জন্য একটি বাস্তবতা। এটি বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও ভাষার আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করে। আমাদের অভিবাসী কর্মীরা শুধু কর্মরত দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন না, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীরা যাতে ভাষাগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ অর্জন করতে পারেন, সে জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















