ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেল এ রাখা হয়েছিল : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারতে পাচারের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) রাখা হয়েছিল। সেটা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নির্মম নির্যাতনের সেল সরাসরি দেখাতে বিচারপতিদের আনা হয়েছে। এটি মেমোরেন্ডাম আদালতের বিচারের একটি অংশ হবে। আর যারা আয়নাঘরকে আড়াল করার জন্য আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আয়নাঘরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফ্যসিবাদ কায়েম করেছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আয়নাঘর কোনো কল্পনা নয়, এটি যে বাস্তব তা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় আছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত গুম-খুনের শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির সন্ধান পাইনি। তারা কোথায় কী অবস্থায় আছে। তার মধ্যে ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম। আজকে যে আয়নাঘর পরিদর্শন করেছেন সেখানে ভিকটিমদের মধ্যে অন্যতম ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমান। তাকে এখানে রাখা হয়েছিল। তার বর্ণনা থেকে যে রুমটি অনুমান করেছি সে রুমটাও দেখেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন বর্ণনা, সাক্ষী ও তদন্ত থেকে পেয়েছি, আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই র‌্যাব-১ এর আজকের যে আয়নাঘর সেখানে কোনো একটি কামরায় তাকে রাখা হয়েছে। পরে ভারতে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও আমরা প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুমের সাথে যারা জড়িত এবং বন্দিশালার আলামত নষ্ট ও দেয়াল তুলে যারা গোপন কক্ষগুলো লুকানোর চেষ্টা করেছিল, তারা প্রত্যেকে বিচারের আওতায় আসবে।

আয়নাঘরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আয়নাঘর কোনো কল্পনা নয়, এটি যে বাস্তব তা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় আছে।’

তিনি বলেন, এতদিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকে আর ফিরে আসেননি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র, জেআইসি, পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে ইতিমধ্যে বিচার চলছে এবং আরও অনেক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামতও দেখা গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে কয়েকটি স্থানে নতুন করে নির্মিত দেয়াল অপসারণ করা হয়। তখনই আড়ালে থাকা কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে এবং সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিচে ও ওপরে মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষ পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় কোনো বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার না হলে এতগুলো ছোট ছোট কক্ষ কেন নির্মাণ করা হয়েছিল, তার জবাব সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদেরই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীকালে দেয়াল তুলে বা নতুন নির্মাণের মাধ্যমে যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করেছেন, তারাও বিচারের বাইরে থাকবেন না। প্রমাণ নষ্ট বা আড়াল করার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বিচার পরিচালনায় প্রসিকিউশন অঙ্গীকারবদ্ধ। তার দাবি, আয়নাঘরের বাস্তব চিত্র প্রমাণ করে এটি কোনো ‘রূপকথার গল্প’ নয়, বরং একটি ভয়াবহ বাস্তবতা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি যাদের নির্দেশে এসব হয়েছে এবং সে সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই : পেট্রোবাংলা

ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেল এ রাখা হয়েছিল : চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারতে পাচারের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) রাখা হয়েছিল। সেটা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নির্মম নির্যাতনের সেল সরাসরি দেখাতে বিচারপতিদের আনা হয়েছে। এটি মেমোরেন্ডাম আদালতের বিচারের একটি অংশ হবে। আর যারা আয়নাঘরকে আড়াল করার জন্য আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আয়নাঘরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফ্যসিবাদ কায়েম করেছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আয়নাঘর কোনো কল্পনা নয়, এটি যে বাস্তব তা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় আছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত গুম-খুনের শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির সন্ধান পাইনি। তারা কোথায় কী অবস্থায় আছে। তার মধ্যে ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম। আজকে যে আয়নাঘর পরিদর্শন করেছেন সেখানে ভিকটিমদের মধ্যে অন্যতম ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমান। তাকে এখানে রাখা হয়েছিল। তার বর্ণনা থেকে যে রুমটি অনুমান করেছি সে রুমটাও দেখেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন বর্ণনা, সাক্ষী ও তদন্ত থেকে পেয়েছি, আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই র‌্যাব-১ এর আজকের যে আয়নাঘর সেখানে কোনো একটি কামরায় তাকে রাখা হয়েছে। পরে ভারতে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও আমরা প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুমের সাথে যারা জড়িত এবং বন্দিশালার আলামত নষ্ট ও দেয়াল তুলে যারা গোপন কক্ষগুলো লুকানোর চেষ্টা করেছিল, তারা প্রত্যেকে বিচারের আওতায় আসবে।

আয়নাঘরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আয়নাঘর কোনো কল্পনা নয়, এটি যে বাস্তব তা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় আছে।’

তিনি বলেন, এতদিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকে আর ফিরে আসেননি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র, জেআইসি, পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে ইতিমধ্যে বিচার চলছে এবং আরও অনেক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামতও দেখা গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে কয়েকটি স্থানে নতুন করে নির্মিত দেয়াল অপসারণ করা হয়। তখনই আড়ালে থাকা কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে এবং সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিচে ও ওপরে মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষ পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় কোনো বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার না হলে এতগুলো ছোট ছোট কক্ষ কেন নির্মাণ করা হয়েছিল, তার জবাব সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদেরই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীকালে দেয়াল তুলে বা নতুন নির্মাণের মাধ্যমে যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করেছেন, তারাও বিচারের বাইরে থাকবেন না। প্রমাণ নষ্ট বা আড়াল করার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বিচার পরিচালনায় প্রসিকিউশন অঙ্গীকারবদ্ধ। তার দাবি, আয়নাঘরের বাস্তব চিত্র প্রমাণ করে এটি কোনো ‘রূপকথার গল্প’ নয়, বরং একটি ভয়াবহ বাস্তবতা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি যাদের নির্দেশে এসব হয়েছে এবং সে সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।