স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের নাম লিখলেন নতুন উচ্চতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করেই ইতিহাস, এরপর আরও এক গোল, আর শেষদিকে একটুর জন্য হাতছাড়া হলো হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে বড় জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে পর্তুগাল জিতল ৫-০ ব্যবধানে। জোড়া গোল করলেন রোনালদো। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ছয় আসরে গোল করার নজির গড়েন তিনি। গোল পান নুনো মেন্দেস আর রাফায়েল লিয়াও। আরেকটি গোল আসে আত্মঘাতী থেকে। একাধিকবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়ে অল্পের জন্য হাতছাড়া করেন সিআরসেভেন।
পজেশন রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করা পর্তুগাল গোলের জন্য মোট ১৭টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। নবাগত উজবেকিস্তানের সাত শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।
পথে ফেরা জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। একটি করে ম্যাচ খেলা কলম্বিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ডিআর কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে।
দুই ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে পর্তুগাল। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে তার শট উজবেক ডিফেন্ডার আব্দুল্লায়েভের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় মধ্য এশিয়ার দলটি। না হলে বলটিচলে যেতো রোনালদোর পায়ে। তাতে গোলও হতে পারতো।
এরপর পঞ্চম মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি চলে যান রোনালদো। নুনো মেন্দেসের দারুণ ক্রস থেকে বল পেয়েও ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।
তবে ষষ্ঠ মিনিটে আর ভুল করেননি তিনি। হোয়াও ক্যানসেলোর দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে আসা কাটব্যাক নিখুঁতভাবে জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়ে যান তিনি।
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি পর্তুগাল। ১৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে পেদ্রো নেতোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন উজবেক মিডফিল্ডার ওদিলজন খামরোবেকভ। সেই ফ্রি-কিক থেকে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল।
সবার ধারণা ছিল রোনালদো সরাসরি শট নেবেন। কিন্তু চমক দেখায় পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে সবাই ভেবেছিল, রোনালদোই শটটা নেবেন। সে পজিশনেও ছিলেন তিনি। কিন্তু রোনালদো নন, আচমকা শটটি নেন নুনো মেন্দেজ। বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন উজবেকিস্তানের জালের ডান কোণে। গোলরক্ষক কোনো সুযোগই পাননি। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে উজবেকিস্তান। ১৯ মিনিটে নাসরুল্লায়েভের শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন পর্তুগাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
২৯ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা যোগ হয়। ফাইজুল্লায়েভ ক্যানসেলোর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর গা’নিয়েভ প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন পর্তু্গালের জালের উপরের কোণে। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, বল দখলের সময় ফাউল হয়েছিল। ফলে দুর্দান্ত সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি জালাল জায়েদ।
গোল বাতিল হওয়ার হতাশা উজবেকরা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও একবার আঘাত হানে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ইউসেবিওকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১০।
বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের দেখাও প্রায় পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বেরিয়ে আসায় চিপটা ভালো মতো নিতে না পারায় হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হয়নি তার। ৩-০ ব্যবধানে অবশ্য ঠিকই বিরতিতে যান পর্তুগাল।
বিরতির পরে ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন রোনালদো। তবে গোলরক্ষক সামনে এসে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো তা আর পাওয়া হয়নি। ৩০ গজ দূরে ফ্রি কিক পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে শট না নিয়ে দৌড়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দেন পর্তুগালের অধিনায়ক। ফার্নান্দেজের ভলি আনমার্কড অবস্থাতে পেয়ে শটও নিলেন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষকের পায়ে লেগে কর্নার হয়।
সেই কর্নারেই চতুর্থ গোল পায় পর্তুগাল। মিডফিল্ডার ফার্নান্দেজের কর্নার ক্লিয়ার করার সময় উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুচানভ শট নিলেন গোলরক্ষক আব্দুভোহিদ নেমাতভের শরীরে লেগে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে যায়।
৭৪ মিনিটে আবার বড় ভুল করে বসেছিলেন নেমাতভের। শেষে অবশ্য দুর্দান্ত সেভ দিয়ে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন তিনি। গোল কিক নেওয়ার সময় রোনালদোর শরীর বরাবর শট নিলে বল পান পর্তুগিজ তারকা। তাতে দূরের পোস্টে শটও নিলেন তিনি। তবে ঠিক কোণা বরাবর না যাওয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়ে রোনালদোর হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন তিনি।
৮৪ মিনিটে আরেকবার গ্লাভস হাতে দক্ষতার পরিচয় দিলেন নেমাতভ। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। গোল লাইন যখন অতিক্রম করবে ঠিক তখনই বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বলের গতিপথ রোধ করলেন উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক।
পর্তুগালের শেষ গোলে অবশ্য কিছু করার ছিল না নেমাতভের। ৮৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ে কোণা বরাবর শট নেন রাফায়েল লিয়াও। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। যোগ করা সময়ে তো ষষ্ঠ গোল হতে হতেও বেঁচে গেছে উজবেকিস্তান। ত্রিনকাওয়ের শট অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি।
অন্যদিকে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটেও হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে ঠিক মতো জালে রাখতে পারলেন না শটটা। সবকিছু পাওয়ার ম্যাচে তাই ছোট্ট আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়লেন তিনি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























