ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সেই ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি টাইগাররা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুইটিতে হেরে সিরিজ খোয়ানো লাল-সবুজের দল হেরেছে শেষ ম্যাচেও। টানা তিন হারে হোয়াইটওয়াশ হয়ে সিরিজ হারল স্বাগতিকরা।

রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল টাইগাররা। তবে ত্বহিদ হৃদয়ের ৬১ রানের ইনিংসের সুবাদে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করতে সক্ষম হয় দল। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ উইকেট হারালেও মিচেল মার্শের ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে ১১ ওভারেই ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় অজিরা, নিশ্চিত করে হোয়াইটওয়াশ।

১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করেছেন অজি অধিনায়ক মার্শ। শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভার থেকে জশ ইংলিস ও মিচেল মার্শ তুলে নেন ১৭ রান।

দ্বিতীয় ওভারে নাসুম আহমেদ কিছুটা রানের গতি থামান। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। প্রথম ৬ ওভারে অজিরা ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৪ রান। ষষ্ঠ ওভারে ইংলিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম।

ওয়ানডে সিরিজে যে নাহিদ রানার গতির সামনে অস্বস্তিতে ছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা, টি-টোয়েন্টিতে সেই নাহিদকেই বাগে পেয়ে যান কুপার কনোলি ও মিচেল মার্শ। তার প্রথম ওভার থেকেই নেন ২০ রান। বাংলাদেশের কোনো বোলারই অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি থামাতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ১১তম ওভারের শেষ বলে টিম ডেভিড বিশাল এক ছক্কা মেরে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। তাতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

অজি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন মার্শ। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক খেলেন ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস। এছাড়া কনোলি ১৭ ও ইংলিস ১৫ রান করে আউট হন। ডেভিড ৩ বলে ২ ছক্কায় ১২ এবং ম্যাথিউ রেনশ ৬ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি ছিল না বাংলাদেশের। তারপরও বোলারদের বোলিং ছিল অনেকটাই নখদন্তহীন। শরিফুল, নাসুম ও রিশাদ হোসেন নেন একটি করে উইকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে খরচ করেন ২৭ রান। কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে রানবন্যার সাগরিকায় ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়া দিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৭০, আর চট্টগ্রামে ১০৮ রান। অধিনায়ক হৃদয়ের ৬১ রানের ইনিংসে সেই লজ্জা থেকে কোনোমতে মুক্তি পেয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। জনসনের বল সোজা খেলেছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু সেটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকে থাকা তামিম তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। বলের গতিবিধি দেখে ব্যাটকে ক্রিজের ভিতরেও নিতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু সামান্য বিলম্বে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরেন তিনি।

এরপর বাংলাদেশি ব্যাটাররা যা করেছেন, তা রীতিমতো ছেলেখেলা যেন। ডটের পর ডট খেলে জনসনের ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান। মার্শের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯ বলে করেছেন মাত্র এক রান। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজের পর ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ এই ওপেনার।

পাওয়ার প্লেতে ডট বলের মহড়া দিয়ে ফিরেছেন তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। নাথান এলিসের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ১৩ বলে করেছেন মাত্র এক রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা যে কত কার্যকরী বিষয়, সেটাই টের পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

১৩ বলে এক রান করে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন ইমন। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ বলের ইনিংস খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট তার। এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ১১ বল খেলে ২ রানে আউট হয়েছিল সৌম্য। এতদিন এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ইনিংসের সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট।

এদিকে পঞ্চম ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১! আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটেও এমন মন্থর গতির ব্যাটিং দেখা যায় না আজকাল। যদিও পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন সোহান-হৃদয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ান বোলিং তোপে বেশিক্ষণ টিকেনি এই জুটি।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। লম্বা সময় পর টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরেও ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না এই ব্যাটার। মাত্র ৮ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি। তাতে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সোহানের বিদায়ের পর মাঠে নামেন শামীম পাটোয়ারী। কালেভদ্রে ভালো ইনিংস খেলা এই ব্যাটার আজও দলের হাল ধরতে পারেননি। উল্টো লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়া যাওয়া বলকে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটারের সবশেষ চার ইনিংস যথাক্রমে ০, ৭, ১, ৩।

৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান হৃদয়-রিশাদ জুটি। তবে নিখিল চৌধুরীর বলে অদ্ভুত শট খেলে বিদায় নেন রিশাদ হোসেন। এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচ পর ১৫ রানের ইনিংস দেখলেন এই অলরাউন্ডার।

এরপর শরিফুল, তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে ৪৪ রান যোগ করেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার ৫১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করেছে লাল-সবুজের দল।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার ওভারে ৬ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুইটি এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট শিকার করেছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:১৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সেই ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি টাইগাররা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুইটিতে হেরে সিরিজ খোয়ানো লাল-সবুজের দল হেরেছে শেষ ম্যাচেও। টানা তিন হারে হোয়াইটওয়াশ হয়ে সিরিজ হারল স্বাগতিকরা।

রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল টাইগাররা। তবে ত্বহিদ হৃদয়ের ৬১ রানের ইনিংসের সুবাদে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করতে সক্ষম হয় দল। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ উইকেট হারালেও মিচেল মার্শের ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে ১১ ওভারেই ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় অজিরা, নিশ্চিত করে হোয়াইটওয়াশ।

১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করেছেন অজি অধিনায়ক মার্শ। শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভার থেকে জশ ইংলিস ও মিচেল মার্শ তুলে নেন ১৭ রান।

দ্বিতীয় ওভারে নাসুম আহমেদ কিছুটা রানের গতি থামান। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। প্রথম ৬ ওভারে অজিরা ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৪ রান। ষষ্ঠ ওভারে ইংলিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম।

ওয়ানডে সিরিজে যে নাহিদ রানার গতির সামনে অস্বস্তিতে ছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা, টি-টোয়েন্টিতে সেই নাহিদকেই বাগে পেয়ে যান কুপার কনোলি ও মিচেল মার্শ। তার প্রথম ওভার থেকেই নেন ২০ রান। বাংলাদেশের কোনো বোলারই অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি থামাতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ১১তম ওভারের শেষ বলে টিম ডেভিড বিশাল এক ছক্কা মেরে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। তাতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

অজি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন মার্শ। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক খেলেন ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস। এছাড়া কনোলি ১৭ ও ইংলিস ১৫ রান করে আউট হন। ডেভিড ৩ বলে ২ ছক্কায় ১২ এবং ম্যাথিউ রেনশ ৬ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি ছিল না বাংলাদেশের। তারপরও বোলারদের বোলিং ছিল অনেকটাই নখদন্তহীন। শরিফুল, নাসুম ও রিশাদ হোসেন নেন একটি করে উইকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে খরচ করেন ২৭ রান। কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে রানবন্যার সাগরিকায় ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়া দিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৭০, আর চট্টগ্রামে ১০৮ রান। অধিনায়ক হৃদয়ের ৬১ রানের ইনিংসে সেই লজ্জা থেকে কোনোমতে মুক্তি পেয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। জনসনের বল সোজা খেলেছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু সেটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকে থাকা তামিম তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। বলের গতিবিধি দেখে ব্যাটকে ক্রিজের ভিতরেও নিতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু সামান্য বিলম্বে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরেন তিনি।

এরপর বাংলাদেশি ব্যাটাররা যা করেছেন, তা রীতিমতো ছেলেখেলা যেন। ডটের পর ডট খেলে জনসনের ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান। মার্শের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯ বলে করেছেন মাত্র এক রান। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজের পর ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ এই ওপেনার।

পাওয়ার প্লেতে ডট বলের মহড়া দিয়ে ফিরেছেন তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। নাথান এলিসের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ১৩ বলে করেছেন মাত্র এক রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা যে কত কার্যকরী বিষয়, সেটাই টের পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

১৩ বলে এক রান করে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন ইমন। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ বলের ইনিংস খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট তার। এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ১১ বল খেলে ২ রানে আউট হয়েছিল সৌম্য। এতদিন এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ইনিংসের সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট।

এদিকে পঞ্চম ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১! আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটেও এমন মন্থর গতির ব্যাটিং দেখা যায় না আজকাল। যদিও পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন সোহান-হৃদয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ান বোলিং তোপে বেশিক্ষণ টিকেনি এই জুটি।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। লম্বা সময় পর টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরেও ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না এই ব্যাটার। মাত্র ৮ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি। তাতে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সোহানের বিদায়ের পর মাঠে নামেন শামীম পাটোয়ারী। কালেভদ্রে ভালো ইনিংস খেলা এই ব্যাটার আজও দলের হাল ধরতে পারেননি। উল্টো লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়া যাওয়া বলকে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটারের সবশেষ চার ইনিংস যথাক্রমে ০, ৭, ১, ৩।

৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান হৃদয়-রিশাদ জুটি। তবে নিখিল চৌধুরীর বলে অদ্ভুত শট খেলে বিদায় নেন রিশাদ হোসেন। এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচ পর ১৫ রানের ইনিংস দেখলেন এই অলরাউন্ডার।

এরপর শরিফুল, তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে ৪৪ রান যোগ করেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার ৫১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করেছে লাল-সবুজের দল।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার ওভারে ৬ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুইটি এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট শিকার করেছেন।